Logo

আইন ও বিচার

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢুকার চেষ্টা, যুবক রিমান্ডে

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০১

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢুকার চেষ্টা, যুবক রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আরিফ রেজা রিমান্ডের তথ্য দিয়েছেন। ২৯ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম মহিবুল্লাহ মুবিন।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর তার কার্যালয় থেকে বিজয়সরনি হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে।

ওই গাড়িবহর প্রবেশের পরেই মোড় থেকে বাম দিকের লেনে মুবিন তার বাইক নিয়ে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাকে থামিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে বাইকসহ ওই যুবককে হেফাজতে নেয় তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।

রোববার তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই আসাদুর রহমান। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হননি সেদিন। এজন্য আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

এদিন শুনানিকালে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাও আদালতে উপস্থিত হন। মুবিনের স্ত্রী ও ছেলে আসেন আদালতে।

তদন্তকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামি ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত’ মর্মে আদালতকে জানান। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনসিটিভ। প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ আসামি প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে সংযুক্ত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে তাকে গাড়িবহরে ঢুকানো হয়। প্রধানমন্ত্রীকে ঝুঁকিতে ফেলতে এ পরিকল্পনা।

আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট রবিউল আলম জুয়েল রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, এ আসামি নির্দোষ। আবেগের বশে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ঢুকে পড়েন। তার মামা-চাচারা বরিশালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার কোনো পদ-পদবি নেই। সন্দেহের বশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি। প্রয়োজনে তাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

জবাবে প্রসিকিউটর সুমন বলেন, এ আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, সুপরিকল্পিতভাবে পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানে যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে 'র' এজেন্ট হয়ে তাদের কর্ম বাস্তবায়ন করতে সেখানে গিয়েছিল। তার সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।

পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডের আদেশ শুনে এজলাস কক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মুবিনের স্ত্রী ও ছেলে। তার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ওইখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, ছবি তুলতে গিয়েছিল। 

আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে মুবিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি শুধু ছবি তুলতে গিয়েছিলাম। আর কিছু না। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন