একজনের চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যু
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনসার সদস্যদের হাতে আটক ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৮
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পৃথক ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
এদিন সকালেই আনসার সদস্যরা আটক পাঁচজনকে যথাযথভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, তাদের মধ্যে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক মো. জনি হোসেন (৩০) অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আনুমানিক বিকাল ৫টায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় হাসপাতালের ৬৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদে এসির পাইপ কাটার সময় একজন, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনজন মোবাইল চুরির অভিযোগে এবং এদিন সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় আইসিইউর সামনে এক রোগীর স্বজনকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা আটক ব্যক্তিদের আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক তিনজন হলেন মো. জনি হোসেন (৩০), জিহান (১২) ও নাদিম (১১)। এসির পাইপ কাটার অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম শাহাদত (৩৫) এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম আনিসুর (৩২)। আটক ব্যক্তিদের আনসার সদস্যরা হাসপাতালের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় দায়িত্বরত আনসার সদস্য এপিসি মো. শফিকুল ইসলাম, এপিসি মো. আব্দুর রাজ্জাক, আনসার মো. হাবিব খান ও আনসার মো. হাসান আলী আটক ব্যক্তিদের সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রেজাউলের কাছে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসির পাইপ কাটার অভিযোগে আটক ব্যক্তি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়। তবে অভিযোগকারীর মোবাইল ফোন ফেরত না দেওয়ায় মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক তিনজনকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ও সুপারভাইজার সুমন একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে আনুমানিক বিকাল ৩টার দিকে আটক মো. জনি হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দায়িত্ব পালনকালে আইনানুগ ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে সর্বদা সচেষ্ট। সারাদেশে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত নিষ্ঠা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, জানান বাহিনী সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

