Logo

জীবনানন্দ

ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে বৈশাখ

Icon

আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৮

ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে বৈশাখ

ছবি: সংগৃহীত

আমরা বাংলাদেশি। বৃহৎ অর্থে আমরা বাঙালি। বাংলা আমাদের ভাষা। এটা পৃথিবীর একমাত্র ভাষা যা রক্ত দামে কেনা। বাঙালি হিসেবে আমাদের আছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি বয়সেও বেশ প্রাচীন। বাঙালি সংস্কৃতি যেমন সুন্দর তেমন সমৃদ্ধ। 

বাংলাদেশে অসংখ্য নদ-নদী জালের মতো ছড়িয়ে আছে। এ ছাড়া, পাহাড়, সমুদ্র, সমভূমি ইত্যাদিও রয়েছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে। এসব ভূমি বৈচিত্র্য বিভিন্ন অঞ্চলকে করেছে বিভক্ত। তাই মানুষের জীবন-যাপন প্রণালিতেও আছে ভিন্নতা। তবে বাঙালি সংস্কৃতির ভেতর তেমন কোনো ভিন্নতা নেই।

সুপ্রাচীন কাল থেকেইে নদীবিধৌত বঙ্গভূমি ফুল-ফল-ফসলে সমৃদ্ধ। এই সম্পদের লোভেই যুগে যুগে এখানে এসেছে বিভিন্ন দেশ ও জাতির মানুষ। কেউ এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। কেউ এসে এখানে স্থায়ী বসতি গেড়েছে। কেউ কেউ দখল করেছে শাসন ক্ষমতা। আফগান, তুর্কি, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ, মোগল, ফরাসি এবং সর্বশেষে এসেছে ইংরেজরা। অনেক জাতি-সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটেছে বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে। আজও বাঙালিদের ভেতো বাঙালি বলা হয়। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী আমাদের অনেক কিছুই খেতে শিখিয়েছে। আমরা চা-কফি, থাই, চাইনিজ খাবার খাচ্ছি, কিন্তু আমাদের ভাতকে ছাড়তে পারিনি। আজও ভাত আমাদের প্রধান খাবার। তেমনি অনেক সংস্কৃতিই আমরা ধারণ করেছি কিন্তু আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বাদ দিতে পারিনি। নিজ দেশে তো বটেই, অন্য দেশে গিয়েও আমরা আমাদের সংস্কৃতি পালন করি, আমাদের সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেই। 

আমাদের বাউল, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, রাখালি, ভাওয়াইয়া, কীর্তন, নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা, সাপেরখেলা, যাত্রপালা, মেলা, পালা-পার্বণ সবই ঠিক-ঠাক মতোই আছে। কিছুই বাতিল হয়ে যায়নি। আমাদের অনেক নদীই শুকিয়ে গেছে। অনেক নদী নৌ-চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নৌকায় পাল, হাল, লগি-বৈঠার প্রয়োজন ফুরিয়ে বসেছে ইঞ্জিন। কিন্তু আমাদের ভাটিয়ালি গান তেমনি আছে। অনেকেই আজ শহুরে জীবন বেছে নিয়েছে। কৃষি কাজের ধরন অনেক বদলেছে। কৃষিতে ব্যবহৃত হচ্ছে যন্ত্র। কিন্তু রাখালি গানের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। এখন আর গরুর গাড়ি চোখে পড়ে না। কিন্তু ভাওয়াইয়া গান ঠিকই বেজে ওঠে আমাদের কণ্ঠে। নৌকাবাইচ, মেলা-পার্বণ এসব আমরা হারাতে পারিনি, হারাতে চাই না। আমাদের এই সংস্কৃতি আমাদের মাঝে নিয়ে আসে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি। এসব অনুষ্ঠানে মিলিত হয়ে আমরা প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে আনন্দ করি, মুছে দেই আমাদের সব ভেদাভেদের সীমারেখা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের সীমারেখা মুছে দিয়ে আমরা বাঙালি হয়ে উঠি। 

আমাদের বাঙালি উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়, প্রধান ও সার্বজনীন ধরা হয় পহেলা বৈশাখের উৎসবকে। এটি বাংলা সনের প্রথম দিন। বাংলা নববর্ষের সূচনা হয় মূলত সম্রাট আকবরের সময় থেকে। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্র্য মাসের শেষ দিনে ভূস্বামীর খাজনা পরিশোধ করত, পরদিন নববর্ষে ভূস্বামী সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতেন। আর এ উপলক্ষে তখন মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। সময়ের আবর্তে এই বৈশাখী অনুষ্ঠান বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে রূপ নেয়। বাঙালির পারিবারিক ও সামাজিক উৎসব হয়ে ওঠে পহেলা বৈশাখ।

প্রথম থেকেই পহেলা বৈশাখের প্রধান বিষয় হালখাতা। গ্রামেগঞ্জে ব্যবসায়ীরা পুরাতন হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে নতুন খাতা খুলত। এ উপলক্ষে তাদের ক্রেতা-ভোক্তাদের মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করত। তাদের দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সজ্জিত করত। দিনে দিনে বৈশাখী উৎসবের ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। খোলা মাঠে, বটবৃক্ষ তলে মেলা বসে। স্থানীয় কৃষিপণ্য, কারুপণ্য, লোকশিল্পের পণ্য, কুটিরশিল্পজাত সামগ্রী, সর্বপ্রকার হস্তশিল্প ও মৃতশিল্পজাত দ্রব্যের সমাহার ঘটে। এ ছাড়া চিড়া, মুড়ি, বিন্নি খৈ, বাতাসা, জিলাপি আরও নানারকম খাবারের পশরা বসে। সেই সঙ্গে আয়োজন করা হয় যাত্রাপালা, পালাগান, কবিগান, গম্ভীরা, লাঠিখেলা, সাপখেলা আরও নানারকম আনন্দের। মানুষের সুখ ও আনন্দ উপচে পড়ে পহেলা বৈশাখে। প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। 

আমরা যারা শৈশব-কৈশোর গ্রামে কাটিয়েছি তাদের স্মৃতিতে এসব আনন্দ খুব যত্নের সঙ্গে সঞ্চয় করে রেখেছি। বড়দের সঙ্গে আমরা মেলায় যেতাম। চাকাওয়ালা মাটির ঘোড়া, বাঁশি ইত্যাদি কিনতাম। অনেক কিছু খেতাম। আবার বাড়ির জন্যও কিনে আনতাম। 

কালের বিবর্তনে বৈশাখী অনুষ্ঠানের অনেক কিছু বাতিল হয়ে গেছে, যুক্ত হয়েছে নতুন অনেক বিষয়। বর্ষবরণের জমজমাট আয়োজন হয় রাজধানী ঢাকা শহরে। বৈশাখী উৎসব মানেই মানুষের মিলনমেলা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে মানুষ পথে নেমে আসে। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে ছায়ানট রমনার বটমূলে সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘এসো হে বৈশাখ এসো  এসো...’ গানের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এই শোভাযাত্রায় রীতিমতো জনসমুদ্র তৈরি হয়। এই শোভাযাত্রা এতটা নয়নমনোহর এবং আবেদনময়ী যে, বিদেশিরাও এতে অংশ নেয়। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইথিউপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ১১তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় চারুকলা অনুষদের পহেলা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-কে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্যের প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। 

শুধু ছায়ানট আর চারুকলা ইনস্টিটিউট নয়, দিনব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান চলে বিভিন্ন স্থানে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য শহর, উপশহর, গ্রামগঞ্জেও বৈশাখী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গোটা দেশের আকাশে-বাতাসে উৎসবের আনন্দ ভেসে বেড়ায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বাংলা ভাষাভাষির মানুষ পৃথিবীর যেখানে, যে প্রান্তেই থাকুক না কেন সেখানেই সবাই বৈশাখী আনন্দে মাতোয়ারা হয়। বাংলা ভাষাভাষির সবাই আনন্দ করে। বাংলা ভাষাভাষির সব মানুষকে একই সমতলে নিয়ে আসার একটাই অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ, বা বাংলা নববর্ষ। 

আমি এবং আমার মতো যারা কৈশোরের পরে রাজধানী শহরে উঠে এসেছে তারা নব প্রেরণায় বৈশাখী আনন্দে মেতেছি। আমার কথাই বলি, আমি টিএসসিতে একটি প্রখ্যাত আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এ ছাড়া ছোটবেলা থেকেই নিজে শিল্প-সাহিত্য করি। আমি প্রতি বছরই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতাম। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান উপভোগ করতাম। সারাদিনই চলে যেত বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরেফিরে। আমি শুধু নিজে আনন্দই করতামন না, অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অন্যদেরও প্রত্যক্ষ করতাম। যেহেতু লেখালেখি করি সেহেতু আমার প্রত্যক্ষটা একটু নিরীক্ষাধর্মীই হতো। আমি সবচেয়ে সুখি হতাম নিম্নবিত্ত মানুষদের আনন্দ দেখে। পয়লা বৈশাখে তারা যেভাবে আনন্দ উপভোগ করত সেভাবে অন্য কোনো অনুষ্ঠানেই করত না এবং করে না। কারণ, খুব দামি পোশাক-আশাক, বিশেষ ব্যয়বহুল সাজসজ্জা পয়লা বৈশাখে লাগে না। বৈশাখের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ দুইশ’ টাকার একটা টি-শার্ট বা ফতুয়া দিয়েই আনন্দ করা যায়। কে কত দামি পোশাক পড়েছে সেটা কেউ দেখে না, পোশাকটা বৈশাখের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না এটাই আসল কথা। তাছাড়া বাড়িতে খুব ব্যয়বহুল আয়োজনেরও দরকার পড়ে না। যেহেতু দিনটা ঘুরে বেড়ানোর সেহেতু বাড়িতে কোনো আয়োজন না করলেও চলে। যদিও পানতা-ইলিশের একটা প্রচলন আছে, এ কারণে ইলিশ মাছের দামও অনেক বেড়ে যায় তাই বলে সবাই যে পান্তা ইলিশ খায় তা নয়। আমাদের ছাত্র জীবনে দেখতাম, আমার মা পহেলা বৈশাখে সব সময় পোলাও-মাংসের আয়োজন করতেন। আমার মায়ের যুক্তি হল, বছরের প্রথম দিন ভালো কিছু খেলে সারা বছরই ভালো খাওয়া যায়। আর তখন পোলাও-মাংসের চেয়ে ভালো খাবার আমাদের কাছে ছিল না। মাছকে আমরা পোলাও-মাংসের ওপরে স্থান দিতাম না। তাই ইলিশ মাছ সেদিন খাওয়া হতো না।        

সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি পহেলা বৈশাখের একটা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আছে। স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন আইয়ুব খান সরকার রবীন্দ্রসংগীত এবং বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার বিরোধিতা করে, রবীন্দ্রসংগীত বন্ধ করে দিতে চায়। তারই প্রতিবাদস্বরূপ বৈশাখের প্রথম দিন ছায়ানট রমনার বটমূলে বৈশাখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং ‘এসো হে বৈশাখা এসো এসো...’ রবীন্দ্র সংগীতটি দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করে। পরে ক্রমশই এই অনুষ্ঠান বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে এবং স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নীতির বিরুদ্ধে ও বাঙালি আদর্শ লালনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাংলা নববর্ষ পালন হতে থাকে। 

আমরা লক্ষ্য করছি, অতি সম্প্রতি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বিপক্ষে বিশেষ একটা গোষ্ঠী কথা বলে, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে করে কটাক্ষ, নানা কু-যুক্তি দেখায়। মঙ্গল শোভাযাত্রার ‘মঙ্গল’ শব্দটার মধ্যে অনেকে হিন্দুয়ানী খুঁজে পায়। মঙ্গল শব্দটা এসেছে সংস্কৃত থেকে। বাংলা ভাষার প্রচুর শব্দ এসেছে সংস্কৃত থেকে। আবার অন্যান্য ভাষা থেকেও এসেছে অনেক শব্দ। মঙ্গল শব্দের অর্থ কল্যাণ, শুভ, ভালো, উপকার ইত্যাদি। শব্দের ভেতর ধর্ম খুঁজে বেড়ানো তো বোকামি। যে শব্দটা ইংরেজি থেকে এসেছে সেটা কি খ্রিস্টানীয় শব্দ? সে শব্দটা হিব্রু থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে সেটা কি ইহুদিবাদী শব্দ? মঙ্গল একটা গ্রহের নাম, আমাদের একটা দিনের নামও মঙ্গল। এখানে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলো মঙ্গল শোভাযাত্রায়। শরৎ, হেমন্ত ঋতুতে কোনো সমস্যা নেই। কেউ যদি তার সন্তানের নাম শরৎ বা হেমন্ত রাখে তখনই একটা গোষ্ঠী হৈহৈ করে উঠবে যে, হিন্দু নাম রেখেছে। আসলে এমন ভাবনা বা এমন আচরণ খুবই হাস্যকর এবং সংকীর্ণমনার পরিচায়ক। কেউ কেউ বলেন, এই শোভাযাত্রা কীভাবে মঙ্গল বয়ে আনতে পারে? ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে না ভেবে ব্যাপারটা একটু সহজভাবে ভাবলেই হয়। এই শোভাযাত্রা তথা বৈশাখী অনুষ্ঠান হলো সম্প্রীতির বন্ধনের অনুষ্ঠান। এক বাঙালি ব্যতীত অন্য কোনো পরিচয় এই অনুষ্ঠানে থাকে না। সম্প্রীতির বন্ধনই কিন্তু এগিয়ে যাওয়া, ভালো কিছু হওয়া, অশান্তি দূর হওয়ার কারণ। আমরা দেখছি যে সম্প্রীতির অভাবে, ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের অভাবে গোটা বিশ্বে কেমন হানাহানি, অশান্তির ঘটনা ঘটছে। সেখানে একটা অনুষ্ঠান যদি একটা দেশের সব মানুষকে একই সমতলে নিয়ে আসে তবে সেটা কি মঙ্গলজনক নয়?

সবশেষে এই বলবো যে, সেই ৪৭-এর পর থেকেই বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি একটা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আসছে। স্বাধীনতার পূর্বে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালাতে চেষ্টা করেছে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, স্বাধীনতার পর এই কাজটি করতে চাচ্ছে এদেশীয় একটা গোষ্ঠী। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি এগিয়ে যাচ্ছে তার আপন মহিমায়, বিশ্ব সংস্কৃতির কাতারে দাঁড়াচ্ছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি। পহেলা বৈশাখ ও বৈশাখী অনুষ্ঠান ছিল, আছে, থাকবে। বৈশাখ তো কারও বিরোধিতার ধার ধারে না। বৈশাখ আসে সব সংকীর্ণতা জড়াজীর্ণতা উড়িয়ে নিতে। বৈশাখ আসে ঝড় ওঠে, বিজলি চমকায়, বৃষ্টির ধারা নামে। বৈশাখ আসে গাছে গাছে কাঁচাপাকা আম, কাঁঠাল, তরমুজ, ফুটি আরও কত ফল! বৈশাখ আসে বাংলার ঘর-আঙিনা ভরে ওঠে নতুন প্রাণ-প্রাচুর্যে। বিরোধিতা করে কি বৈশাখকে দূরে ঠেলে রাখা যাবে?

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন