ইউনূস-মোদি বৈঠক হতে পারে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:৩৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি খলিলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম মজুমদার।
তিনি বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি এবং আশাবাদী। বৈঠকটি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি বৈঠকটি হয়, তবে এটি হবে নরেন্দ্র মোদি ও অধ্যাপক ইউনূসের প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ড. ইউনূস ব্যাংককের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
গত বছরের ৮ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। সেই সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-ইউনূস বৈঠক আয়োজনের জন্য কূটনৈতিকভাবে ভারতকে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
আগামী ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আগামী মাসে ঢাকায় বিমসটেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ২৬তম সম্মেলনের আয়োজন করবে।
এদিকে, সম্প্রতি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোদি জানান, ‘দুদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আমি আশা করি।’
এছাড়া, খলিলুর রহমান আরও জানান, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করবেন। এরপর থেকে বিমসটেকের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তিনি।
বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট, যার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সৃষ্টি করা। ১৯৯৭ সালে ব্যাংককে এ জোট প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং এতে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিআর/এমএইচএস