হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছে প্রসিকিউশন

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৫, ২০:১৯

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে সংঘটিত গণহত্যা এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন খসড়া আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বুধবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক চার্জ (ফরমাল অভিযোগ) দাখিল করা হবে।’
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমন করতে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, গুমসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণহত্যা, বিগত ১৫ বছরে গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা এবং ছাত্র আন্দোলন দমন করতে পরিচালিত মানবতা বিরোধী অপরাধ।’
এছাড়া, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সাবেক সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ এবং গণহত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠেছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচারের জন্য এ অভিযোগগুলি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আরও জানান, ‘এ পর্যন্ত ২৩টি (মিসকেস) মামলা হয়েছে, যেখানে ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনের মতো আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে।’
গত ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয় এবং এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। একই সময়ে ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকেন তিনি, তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন তিনি, যা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অবসান ঘটায়।
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার অনুগত প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে, যার বিচার এখন চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
ডিআর/এমএইচএস