‘জুলাই গণহত্যার বিচার বানচালে অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে’

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:০৫

জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচার বানচালের উদ্দেশ্যে পতিত সরকারের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার নেপথ্যের কুশীলবদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।’
এর আগে, বুধবার (২ এপ্রিল) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও জানান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে একাধিক অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকা হাতে পেলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করব। তবে খসড়া প্রতিবেদন থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।’
তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে বিস্তৃত প্রমাণ ও উপাত্ত রয়েছে, যা বিভিন্ন মাধ্যমে—কখনো সরাসরি, কখনো টেলিফোনে বা অন্য কোনো মাধ্যমে গুলি চালানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন। আইনের ভাষায়, এই গণহত্যার জন্য সুপেরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার ওপর রয়েছে।
এছাড়া, গত ২৭ মার্চ তাজুল ইসলাম আরও জানান, ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা সম্পর্কে খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে, যা ঈদের পর ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের চেষ্টা ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ডিআর/এমএইচএস