হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে : রাষ্ট্রপতি
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৮
হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এ সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন।
উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন, আধুনিক, মানসম্মত, নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপ্রধান।
পাটখাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাটজাত পণ্যে নতুন-নতুন উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে হবে।
তিনি পাট চাষীদের উন্নত প্রযুক্তির উচ্চফলনশীল চাষপদ্ধতি অনুসরণ ও মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদেরকে পণ্যের টেকসই মান সংরক্ষণ, নিত্যনতুন ডিজাইন ও ব্যবহার উপযোগিতাকে অগ্রাধিকার নিতে হবে। এই খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও পাট পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্ভাবন; বৈচিত্র্য সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান, উচ্চ মূল্য সংযোজন, শিল্পের আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং দেশ-বিদেশে বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে পাটচাষি, শ্রমিক, উৎপাদক, শিল্পোদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে যথাযথ ভূমিকা রাখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথমবার সরকার গঠনের পরও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়।
‘হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, বর্তমান কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ বিতরণ শুরু করবে।
এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্যসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় জানতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এমবি

