Logo

জাতীয়

রমজানের সাধনার পর খুশির বার্তা—আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৯

রমজানের সাধনার পর খুশির বার্তা—আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

ফইল ছবি

শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদের দেখা মিলতেই ঘরে ঘরে বেজে ওঠে চিরচেনা আনন্দধ্বনি—‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’। সেই আনন্দের ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সারা দেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অনন্য এক উপলক্ষ। রমজানজুড়ে অর্জিত সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা আজ ছড়িয়ে দেওয়ার দিন। ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট উপলব্ধির মধ্য দিয়ে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতার যে চর্চা হয়েছে, ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটে এই দিনে।

ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গরম, যানজট ও দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি ভুলে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ফিরেছে মানুষ। নাড়ির টানে গ্রামে ফেরা সেই জনস্রোত এখন থিতু হয়েছে আপন ঠিকানায়—মা-বাবার ভালোবাসা আর স্বজনদের হাসিতে মুছে গেছে সব ক্লান্তি।

রাজধানী থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন উৎসবের রঙিন আবহ। ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা ছিল শেষ রাত পর্যন্ত। পাড়ার দোকানগুলোতে আতর, টুপি, সেমাই-চিনি কেনার ভিড়, বিউটি পারলারে সাজগোজের ব্যস্ততা আর হাতে মেহেদির নকশায় ফুটে উঠেছে উৎসবের আনন্দ। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে ঈদমেলা, যা উৎসবকে দিয়েছে বাড়তি মাত্রা।

আজ সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে দেশের প্রধান ঈদ জামাত। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো কারণে জামাত অনুষ্ঠিত না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং নারীদের জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও পাড়া-মহল্লার জামে মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরকে জানাবেন ‘ঈদ মোবারক’। অনেকেই ছুটে যাবেন কবরস্থানে, প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন। পরে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে উঠবেন সবাই।

ঈদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁরা সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

যদিও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তবুও উৎসবের আনন্দে তার প্রভাব তেমনভাবে পড়েনি। তবে এই আনন্দের দিনে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা স্মরণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর অমর পঙ্‌ক্তির মতোই—

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’—

এই ঈদ হোক মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার দিন।

সবার জীবনে এই পবিত্র ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর