মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট থাকার কারণে বাংলাদেশে অনেক জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও তেল সংকট দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে রাখছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা অনেক সময় এক পেট্রোল পাম্পের প্রাপ্তির চেয়েও বেশি হয়।
এ প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রশাসনের অভিযানে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। জেলাগুলো হলো, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, মেহেরপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, নীলফামারী, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুরসহ অন্যান্য স্থান।
ফরিদপুর: ফরিদপুরে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুদ ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যাবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের খালেক চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
জেলা এনএসআই কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মো. রাশেদ মোল্লার মালিকানাধীন দোকান ও গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট দফতরের সদস্য, পুলিশের টিম এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে দোকানে অবৈধভাবে ২৪৫ লিটার পেট্রোল মজুদ এবং অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৬ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এ সময় জব্দ করা পেট্রোল ন্যায্য মূল্যে মোটরসাইকেল চালকদের কাছে বিক্রি করা হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ: জেলার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ১৩ হাজার ৯৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। এসব ঘটনায় দুজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার মেঘনা ডিপো–সংলগ্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকার মেঘনা ডিপো–সংলগ্ন এসও বাসস্ট্যান্ড সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে কয়েকটি ড্রামভর্তি ৪ হাজার ৮৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় মো. নাসির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গোদনাইল এলাকার মেঘনা ডিপো–সংলগ্ন একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসন ও ৬২ বিজিবি একটি ট্যাংক লরি ও ড্রামে মজুত রাখা ৯ হাজার ১০০ লিটার তেল উদ্ধার করে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সিফাত গাজী নামের এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ডিজেল মেঘনা ডিপোতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মেহেরপুর: মেহেরপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শালিকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ‘ফারাবি ট্রেডার্স’–এর স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ানকে (৪০) আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড়িপোঁতা ইউনিয়নের দক্ষিণ শালিকা গ্রামে আবু সুফিয়ানের বাড়িতে এ অভিযান চালায় মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ। আটক আবু সুফিয়ান ওই গ্রামের সুরত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে সার, কীটনাশক ও ডিজেলের খুচরা বিক্রেতা।
স্থানীয়রা জানান, আবু সুফিয়ান দীর্ঘদিন ধরে সার, কীটনাশক ও ডিজেল বিক্রি করে আসছেন। নিয়মিতভাবেই তার দোকানে ডিজেলবাহী গাড়ি তেল দিয়ে যায়। এলাকার কৃষকেরা সেচকাজের জন্য তার কাছ থেকেই ডিজেল কেনেন। তবে হঠাৎ পুলিশ এসে তাঁকেসহ জ্বালানি তেল নিয়ে যাওয়ায় অবাক হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এর আগে এদিন দুপুরে একই ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে জেলা প্রশাসনের অভিযানে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধেও সদর থানায় অবৈধ মজুতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে এই জ্বালানি তেল মজুত করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারদের রুখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ওসি।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে এক ব্যবসায়ী ডিজেল মজুত করছিলেন। এমন খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। গত মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে সাত হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা ডিজেল আজ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারে জুয়েল সরদার নামের এক ব্যবসায়ী বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন। ওই ব্যবসায়ী রাতে জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকলরিতে করে সাত হাজার লিটার ডিজেল মজুত করার জন্য ভোজেশ্বর বাজারে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে রাতেই নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখানে অভিযান চালান।
এ সময় জুয়েল সরদার অবৈধভাবে ডিজেল আনার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ডিজেল জব্দ করা হয়।
ভোলা: বিসিক শিল্প নগরীতে অবৈধভাবে মজুতকৃত প্রায় ছয় হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জব্দকৃত ডিজেলের মধ্যে রয়েছে- খান ফ্লওয়ার মিলের (জেকে ট্রেডার্স) ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ও তৃষ্ণা বেকারির ২ হাজার লিটার। এছাড়াও খান ফ্লাওয়ার আটার মিলের যে কক্ষে অবৈধভাবে তেল মজুত রাখা হয়েছিল, সেটি সিলগালা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ আহমেদ বুলবুল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিক শিল্প নগরীর দুটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এসব ডিজেল জব্দ করেছি। কারখানা মালিকরা তেল মজুদের জন্য তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত আটা-ময়দা তৈরির খান ফ্লওয়ার মিল তাদের কারখানায় দুটি খালি পানির ট্যাংক ও ড্রামের ভেতরে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখে। গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিক্তিতে প্রথমে কারখানাটি অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরবর্তীতে বিসিকের মধ্যে থাকা খাদ্য উৎপাদনকারী আরেক প্রতিষ্ঠান তৃষ্ণা বেকারিতে অভিযান পরিচালনাকালে তাদের একাধিক ড্রামের মধ্য থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
নীলফামারী: জলঢাকায় জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের সালটিতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আতাউর রহমান (৩২)এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫০ লিটার ডিজেল ও ও ৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। পরে ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় আতাউর রহমানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, জব্দকৃত জ্বালানি তেল বুধবার সকালে দুইটি পাম্পে বিতরণ করা হয়েছে। এ অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, র্যাব-১৩ নীলফামারী সিপিসি-২, থানা পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
গোপালগঞ্জ: টুঙ্গিপাড়ায় বিপুল ডিজেল মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী বাজারের মেসার্স কালিপদ সাহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ সাহা ও গোবিন্দ সাহাকে এ জরিমানা করা হয় বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার।
এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে ৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছিল- জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) আমাদের কাছে এমন তথ্য দেয়। রাতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে অত্যাবশকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পিরোজপুর: মঠবাড়িয়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে শামীম হাসান খান নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার বিকেলে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পৌর শহরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আমিরুল অয়েল সাপ্লাইয়ার্স-এর স্বত্বাধিকারী শামীম হাসান খান তার দোকানে তেলের সংকট দেখালেও নিজ বাসভবনের নিচে গোপনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে) যৌথ বাহিনী ওই বাসভবনে অভিযান চালায়।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকার দাবি করা হলেও ‘তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে’— এমন শঙ্কা থেকে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের লাইন। জ্বালানি তেল নিয়ে গ্রাহক-বিক্রেতা বাকবিতণ্ডা কিংবা সংঘাতের অভিযোগ যেমন আসছে, তেমনি অবৈধ মজুদ ঠেকাতে চালানো হচ্ছে অভিযানও। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে গোটা দেশে।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। এছাড়া সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুদ রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজেলের গড় নিয়মিত চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টনের মতো। অর্থাৎ মজুদ থাকা ডিজেলে প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে।

