Logo

জাতীয়

খাদ্যে বিষক্রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ২১:২৮

খাদ্যে বিষক্রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যের বিষক্রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এর মূল কারণ খাদ্য দ্রব্যের নিরাপদতার অভাব। আমরা শাক-সবজি, ফলমূলে সীমাহীন কীটনাশক ব্যবহার করছি। যেখানে এক কেজি কীটনাশকের দরকার, সেখানে দেওয়া হচ্ছে তিন কেজি। আবার বিশ্ব বাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খাদ্যের নিরাপদতার ঘাটতির কারণে সেই বাজারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ফেলোশিপ কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেলোশিপের ইনসেপশন সেমিনার ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর বিএফএসএ কার্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপদ খাদ্য খাতে গবেষণার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ফেলোশিপ নীতিমালা-২০২৪-এর আওতায়  বিএফএসএ ‘ফেলোশিপ কার্যক্রম-২০২৬’ চালু করে। 

বিএফএসএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এমপি; বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা;  স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফএসএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও ড. মোহাম্মদ শোয়েব। 

খাবারের কারণে অসুস্থ হওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল সারা পৃথিবীর সমস্যা, আমাদের দেশে আরো বড় সমস্যা। ২০ বছর আগেও এত ক্যান্সার ছিল না। এখন ক্যান্সার বেশি হচ্ছে। খাদ্যে বিষক্রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হচ্ছে চিকিৎসায়। অথচ খাদ্যে অধিক পরিমাণ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করে জৈব সার প্রয়োগ করলে এ অবস্থা হতো না। তাই সরকার জৈব সারের প্রয়োগ বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধ রয়েছে। কাজ করার সময় নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করতে হবে। প্রত্যেকেই নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন দেশে খাদ্যপণ্য ও প্রসেস ফুড রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে খাদ্যের বিশুদ্ধতার অভাবে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। সেসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হয়। কেননা তারা রপ্তানিতে অনেক কঠোর নিয়ম মেনে চলে।

বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মাসে বাজারগুলোতে অভিযান চালাতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার বাড়বে এবং আমরা কী খাচ্ছি তা জানতে পারবো। 

তিনি বলেন, আমাদের এক কেজির স্থলে ৩ কেজি কীটনাশক দেওয়া হয়। আমে এমন কীটনাশক দেওয়া হয় যা পাকার সময় বাড়িয়ে দেয়। পাবদা মাছ, শসায় সবসময় স্প্রে করা হয়। 

আইনের প্রয়োগ কঠোর করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৭ বছরের অপসাশন, দুর্নীতির কারণে সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। 

প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাজের ক্ষেত্রে দুই ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে। একটি বিবেক ও অপরটি আইনের প্রয়োগ। কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, বছরে ১ শতাংশ করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। এজন্য গ্রামগুলোকে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সেভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু তাহের মো: মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। এ থেকে জাতিকে রক্ষা করতে খাদ্যের নিরাপদতা নিশ্চিত করা ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি বিএফএসএ'র আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বলেন- আমাদের গবেষণায় বরাদ্দের যে স্বল্পতা রয়েছে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হবে। আশা করব ফেলোরা খাদ্যে বাস্তব যে সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে  সমাধানের পরামর্শ দিবেন। 

এছাড়া, ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মুক্তি মিলবে না বলেও দাবি করেন।

মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ফেলোশিপের বেশিরভাগই খাদ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করবে। আগামীতে গবেষণার জন্য আমাদের বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। 

ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অনুভূতি ব্যক্তকালে চট্টগ্রাম ভেটেরেনারি ও এনিমাল সাইসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেবা বলেন, এই ফেলোশিপ-প্রাপ্তি আমার মতো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি৷

উল্লেখ্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো এ ফেলোশিপ কার্যক্রম চালু করা হয়। এ বছর সাধারণ ফেলোশিপ–১ (এমএস/সমমান) ক্যাটাগরিতে আবেদন আহ্বান করা হলে সর্বমোট ৩২৩টি আবেদনের পর ২০ জন ফেলোকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। ফেলোশিপ নীতিমালায় গবেষণার জন্য ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য অণুজীব বিজ্ঞান, খাদ্য রসায়ন, খাদ্য বিষবিদ্যা, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।

সাধারণ ফেলোশিপের আওতায় প্রতি জন ফেলোকে মাসিক ৭ হাজার টাকা হারে এক বছরে মোট ৮৪ হাজার টাকা প্রদান করা হবে৷ এছাড়া সুপারভাইজারের সম্মানী হিসেবে এককালীন ৩০ হাজার টাকা এবং গবেষণা ব্যয় হিসেবে এককালীন ৫০ হাজার টাকাসহ প্রতিজন ফেলোর জন্য সর্বমোট ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা করে ব্যয় হবে৷ 

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ফেলোর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি এবং নীতিমালা অনুযায়ী এমফিল (সাধারণ ফেলোশিপ–২) ও পিএইচডি (উর্ধ্বতন ফেলোশিপ) পর্যায়েও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ফেলোদের মধ্যে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেহেনা সুলতানা আলো, সাইফুল ইসলাম, রাফি হাসনাত সরকার, লাবিব শাহরিয়ার সিয়াম, আফিয়া মুরশিদা তিষা; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. তানভীরুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ, শ্রীমা মন্ডল বর্ষা, সাক্ষ্যজিত সাহা পারিজাত, নুসরাত জাহান নিজু, মো. সাহাব উদ্দিন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহফুজ তালুকদার, সিনজুরি হক সোহা; চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবরিনা সিফাত, মো. ইবনুল বখতিয়ার কাইফ, জান্নাতুল ফেরদৌসি জেবা; সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. নাজমুল হাসান আরফিন; শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাহনুমা তাবসসুম তাকওয়া এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন