কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কর ন্যায্যতা বিনষ্ট করবে: সিপিডি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১৫:০৬
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা সৎ করদাতাদের সঙ্গে বৈষ্যম্যমূলক এবং তা কর ন্যয্যতা বিনষ্ট করবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সিপিডির গবেষক ও কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
কালো টাকা প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ভিন্ন উপায়ে বাজেটে এখনো কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পাবে। অনেকে সেখানেও বিনিয়োগ করতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সুযোগ রাখলে যারা কর ফাঁকি দেন তাদের সঙ্গে রেগুলার কর পরিশোধ করা সৎ করদাতাদের একটা বৈষম্য সৃষ্টি হয়। নৈতিকভাবে কিন্তু সেটা ভালো নয়, সেটা মোরাল হ্যাজার্ড তৈরি করতে পারে, এটিই আমাদের অবস্থান।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখায় সৎ করদাতা ও ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারাতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন ড. ফাহমিদা।
কালো টাকা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়। তার কারণ, যতবারই কালো টাকা সাদা করার স্কোপ দেওয়া হয়েছে, তার থেকে সরকারের আয় খুবই কম এসেছে। বরং অন্যদের জন্য এটি একটি মোরাল হ্যাজার্ড সৃষ্টি করে থাকে।
তিনি বলেন, সেজন্য আমরা বলেছি- এটি অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়, নৈতিকভাবেও কাম্য নয়। কারণ, যারা সঠিকভাবে কর দিচ্ছেন তাদের এটি নিরুৎসাহিত করতে পারে। আবার এটি রাজনৈতিকভাবেও ইতিবাচক নয়। কারণ, সাধারণ মানুষ মনে করেন যারা নাকি দুর্নীতি করেছে, যারা নাকি অনেক সময় ট্যাক্স ঠিকমতো দেননি, তাদের একটি সুবিধা দেওয়া হলো।
‘এটি অর্থনৈতিক, নৈতিক ও রাজনৈতিক তিনভাবেই আমরা এটিকে সমর্থন করি না’—যোগ করেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর।
বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

