অপপ্রচারের অভিযোগ
সাইবার আইনে মামলার পথে প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০:০৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগকে পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তাদের অভিযোগ, ভিত্তিহীন ও অযাচাইকৃত তথ্য ছড়িয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাগত সুনাম এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আমিনুল হাসিবের সাম্প্রতিক পদোন্নতি সম্পূর্ণরূপে সরকারি বিধি-বিধান, জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হয়েছে। এ পদোন্নতির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সুপারিশের যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত অভিযোগের বড় অংশই অজ্ঞাতনামা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রায় কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তারা আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতি, ঘুষ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ধারাবাহিক এই অপপ্রচারের কারণে আমিনুল হাসিব ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাই মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আজ অথবা আগামীকাল সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্ব। তারা বলেন, যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, বেবিচকের অভ্যন্তর থেকে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তাদের আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

