Logo

জাতীয়

বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সিরাজগঞ্জ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩৬

নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সিরাজগঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। সিরাজগঞ্জ জেলার সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (Biomedical Waste Management Facility) রোববার (১২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

অত্যাধুনিক এই কেন্দ্রটি প্রতিবছর ৯৫০ টনেরও বেশি বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য নিরাপদভাবে সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবে।

একই সঙ্গে প্রতিবছর প্রায় ১৩০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংক্রামক মেডিক্যাল বর্জ্যের ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকরা, ইউনিডো সদর দপ্তরের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং, ইউনিডো ভিয়েনার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাতের অংশীজন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুবায়ের বিন আরাফাত। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১৩০ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি সার্কুলার ইকোনমির নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই শিল্পচর্চা আরও উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি সফল মডেল, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও সার্কুলার ইকোনমিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

ভার্চুয়াল বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশসম্মত বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পটির সুফল শুধু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনিরাপদ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশের গুণগত মান উন্নয়ন এবং জেলার সর্বত্র স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ কার্যকর অবদান রাখবে।

ইউনিডো সদর দপ্তরের সার্কুলার ইকোনমি অ্যান্ড রিসোর্স এফিসিয়েন্সি ইউনিটের প্রধান জেরোম স্টুকি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও প্রকল্পের অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বাস্তব ও টেকসই সুফল অর্জন সম্ভব।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গীতাঞ্জলি সিং বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে জাতিসংঘ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের এই উদ্যোগ অংশীদারিত্বভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়নের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সিরাজগঞ্জ বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ভবিষ্যতে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের একটি জাতীয় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ইউনিডো ভিয়েনার প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন