Logo

জাতীয়

‘যত ট্রল-অপবাদই আসুক, দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হব না’

Icon

শিক্ষা ডেস্ক :

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৬

‘যত ট্রল-অপবাদই আসুক, দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হব না’

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, জাতিকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের পথে যত ট্রল, সমালোচনা বা অপবাদই আসুক না কেন, সেখান থেকে কেউ সরকারকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী স্বাগত বক্তব্য দেন।

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানালেও জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ব্যক্তিগত অনুরোধে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও কেবল কুমিল্লা মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা দেখা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনও ও জেলা প্রশাসক পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নতুন কোনো বিষয় নয়। এ অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে পরীক্ষার সময়সূচি আরও বাস্তবসম্মত করার বিষয়ে কাজ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তিনি উপলব্ধি করেছেন এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিও প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়টিকে ঘিরে একটি নেতিবাচক বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, যারা তাকে নিয়ে ট্রল করেছেন, তাদের অনেকেই পরীক্ষার্থী ছিলেন না। ঢাকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “যত ট্রল ও অপবাদই দেওয়া হোক না কেন, আমাদের দায়িত্ব পালন থেকে কেউ বিচ্যুত করতে পারবে না।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাম উল্লেখ না করে এক শিক্ষকের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, কেউ তাকে ‘পরীক্ষা মিলন’ বলে সম্বোধন করেছেন। তবে পরীক্ষা ছাড়া কোনো ডিগ্রি বা সনদ অর্জন সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশে কিছু পিএইচডি ডিগ্রির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সে সময় মালয়েশির শিক্ষার্থীরাও সেখানে পড়াশোনা করতেন এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক হল নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি ছাত্রদলের প্রথম কমিটির সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনশক্তি। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রয়োজন।

তিনি জানান, সরকার শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার, যাতে ভবিষ্যতে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন একটি আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের নামে নকলের সুযোগ বা অটোপাসের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষামন্ত্রীর সংসদে দুঃখ প্রকাশকে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নওগাঁয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় রাখে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন