কমিশন বাড়ানোর দাবি
৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৪
ছবি: সংগৃহীত
সিএনজি বিক্রির কমিশন প্রতি ঘনমিটারে আট টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করাসহ চার দাবিতে দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা। আগামী ৩০ জুলাই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন মালিকরা।
ওই দিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে দাবি নিয়ে সমাধান না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের নেতাদের দাবি, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ১১ বছর ধরে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে নির্ধারিত আট টাকা কমিশন অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুতের দাম, ডলারের বিনিময় হার, ব্যাংকের গ্যারান্টি কমিশন ও সুদসহ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।
কিন্তু সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাড়তি ব্যয় গ্রাহকের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তারা।
কমিশন বাড়ানোর পাশাপাশি সিএনজি উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বাড়লে আনুপাতিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকের কাছ থেকে নতুন করে বর্ধিত জামানত নেওয়া বন্ধ এবং সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স, নবায়ন ও সংযোগ সড়কের ইজারা মাশুল যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কমিশন পাঁচ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে দুটি হিসাব তুলে ধরেছে অ্যাসোসিয়েশন।
তাদের হিসাবে, ২০১৫ সালের পর সাত দফা বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। সর্বশেষ ৩ জুনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে একটি সিএনজি স্টেশনের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ শতাংশ বাড়বে। এই ব্যয় সমন্বয়ে কমিশন প্রতি ঘনমিটারে দুই টাকা ৪৬ পয়সা বাড়ানো প্রয়োজন।
এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ে আরও তিন টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর দাবি তাদের।
সংগঠনের নেতারা বলেন, এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলার একটি কারিগরি কমিটি সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন দুই টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
তবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কমিশন এক টাকা বাড়ায়। বাকি এক টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, কমিশন না বাড়ায় সিএনজি খাতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, দাবি তুলে ধরতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের চেষ্টা করেও সফল হননি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

