‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৫
দেশিয় প্রযুক্তিপণ্যকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতাকে গর্বের সঙ্গে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ভাসানী নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিয়ার সামিট-২০২৬-এ ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে ড্যাফোডিল গ্রুপ শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেম তুলে ধরে। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম (এমপি), আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী ‘ডিসিএল হাই-টেক’-এর ল্যাপটপ ও আইসিটি হার্ডওয়্যার উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের সক্ষমতায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রযুক্তি খাতের অর্জনকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করতে হলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। ড. সবুর খান বলেন, এসব উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্বল্প ব্যয়ে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপস্থিত মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দেন।
এ সময় ড. মো. সবুর খান প্রধানমন্ত্রীকে ড্যাফোডিল হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে হাই-টেক পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করতে ২০০১ সালে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে গঠিত আইসিটি টাস্কফোর্স পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
প্যাভিলিয়নে প্রযুক্তির বহুমাত্রিক প্রদর্শনী
ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের প্যাভিলিয়নে দেশের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিভিন্ন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
ডিসিএল হাই-টেক অংশে সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি (এসএমটি), প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি) সংযোজন, আধুনিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ধাপ প্রদর্শন করা হয়।
ড্যাফোডিল রোবোটিক্স-এ রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এমবেডেড সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তৈরি শিল্প-সহায়ক প্রকল্প প্রদর্শিত হয়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, সাইবার নিরাপত্তা, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (এক্সআর), ক্যাপস্টোন প্রকল্প, স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং যৌথ গবেষণাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কার্যক্রম উপস্থাপন করে।
অন্যদিকে ড্যাফোডিল সফটওয়্যার ‘এআই প্রফেসর’, ‘সেন্ট্রাল এআই’, ‘আইইউএমএস’ ও ‘ওয়ান কার্ড’-এর মতো এআইভিত্তিক সমাধান প্রদর্শন করে, যা শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
নতুন সহযোগিতার দ্বার
সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিয়ার সামিট-২০২৬-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস নীতিনির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্ভাবন এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া অংশীদারিত্বের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

