Logo

জাতীয়

গ্যাস সংকটে জনজীবন স্থবির, শিল্পে বিপর্যয়

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ২১:০৪

গ্যাস সংকটে জনজীবন স্থবির, শিল্পে বিপর্যয়

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে নামায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। 

রাজধানীর বাসাবাড়িতে গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে মাটির চুলা, বৈদ্যুতিক ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ (পিএসআই) না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে উবার-পাঠাওসহ সামগ্রিক রাইড শেয়ারিং ও গণপরিবহন খাতে। 

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে বস্ত্র, স্পিনিং ও ডাইং কারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিপুল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। 

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগার কথা জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী উভয়েই এলএনজি আমদানি নির্ভরতা ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে জনগণের দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ করেছেন; যদিও পরিস্থিতির কিছুটা সামাল দিতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্ধারিত ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে সাত থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় গ্যাস ঘাটতি আরও বেড়েছে। 

রাজধানীর কিছু এলাকায় রান্না প্রায় বন্ধ গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না।

অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি: গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। রাজধানী থেকে জেলা শহর-সবখানেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইরও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কারিগরি দল কাজ করছে, এখনো চালু করার অবস্থায় আনা যায়নি। আরও সময় লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে সময় বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন যেগুলো ছোট ছোট মিল, সেগুলোতে আমরা যে মেসেজ পেয়েছি- নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় অনেক সময় গ্যাসও ছিল না, বিদ্যুৎও ছিল না। ফ্যাক্টরি অনেক সময় বন্ধ ছিল।’

‘বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি করেছে, কিন্তু গ্যাস একদমই নেই বলতে গেলে। যেটুকু আছে, তা দিয়ে বয়লার স্টার্ট করা যাচ্ছে না। গ্যাসের প্রেশার খুব কম, দুইয়ের নিচে’ বলেন তিনি।

তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘গ্যাসের চাপ আসে গ্যাসের সরবরাহ থেকে। লাইন যখন প্যাকড থাকে তখন প্রেশারটা ভালো থাকবে। যখন লাইন প্যাকড থাকবে না, ডিমান্ডের তুলনায় সাপ্লাই কম থাকে তখন লাইন ফল করবে। প্রেশার জেনারেট করে গ্যাসের সরবরাহ। সরবরাহ কম এজন্য গ্যাসের প্রেশার পাওয়া যাচ্ছে না।’

সিএনজি পাম্প মালিকদের ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার: সারা দেশে ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্টেশন মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিন সব সিএনজি স্টেশন খোলা থাকবে।

সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে।

কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।

সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

গ্যাস সংকটে বিপাকে রাইড শেয়ার চালকরা: ‘মাসে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে প্রিমিও গাড়ি চালাই। আগে সারা মাস গাড়ি চালিয়ে জমা দিয়ে ভালোই থাকতো। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে গাড়ি চালাতে পারছি না। মাঝে মধ্যে গ্যাস পেলেও চাপ কম থাকায় সঠিকভাবে গ্যাস নিতে পারছি না। এতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় সিএনজি স্টেশনে চায়ের দোকানে বসে কথাগুলো বলছিলেন ইউনূস মিয়া। তিনি উবার অ্যাপসের অন্তর্ভুক্ত প্রাইভেটকার চালক।

তিনি বলেন, যে গ্যাস পাই, ঢাকার মধ্যে দু-একটা ট্রিপ দিতেই শেষ হয়ে যায়। ঢাকার বাইরে ট্রিপের কথা চিন্তাই করা যায় না। এমন অবস্থায় সংসারে হাহাকার লেগেছে। 

শুধু ইউনূস মিয়া নন, রাজধানীর শত শত উবার, পাঠাও চালকের অবস্থা এমনই। গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আর গ্যাস যখন পাচ্ছেন তখন ঠিকমতো ট্রিপ হচ্ছে না। এ কারণে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের মতো আজও সিএনজি স্টেশনে গাড়ির সারি। সিএনজি গ্যাসচালিত প্রাইভেটকারেরও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে স্টেশনগুলোতে।  

এদিকে গ্যাসের সংকটে রাজধানীতে প্রাইভেটকার চলাচল কমেছে। যারা অ্যাপভিত্তিক গাড়ি ব্যবহার করেন, তারাও পড়েছেন সমস্যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও অনেকে গাড়ি পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে-বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী: গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মজুত ও পুনঃ গ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট তীব্র হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে দেশজুড়ে রান্নাঘরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়াসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)। এতে সরকারি-বেসরকারি নীতি-নির্ধারকরা অংশ নেন। বৈঠকের মডারেটর ছিলেন বিআইপিএসএসের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন এলএনজি, এলপিজিসহ বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এই আমদানি করা জ্বালানির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তিনি জানান, গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালামিমন্ত্রী বলেন, এই খাতের প্রধান সংকট এখন আর্থিক সমস্যা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল পরিশোধ বাকি রয়েছে। সেগুলোর নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। আগস্ট মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে দর-কষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে আগামী সপ্তাহে-প্রতিমন্ত্রী: আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী সোমবার বলেন, আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে কিছুটা বাড়বে গ্যাসের সরবরাহ। আর সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ শুরু হলে পরের সপ্তাহে শতভাগ সরবরাহ হবে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি টার্মিনাল পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি অ্যাকসিলারেট এনার্জি, আরেকটি দেশের বেসরকারি কোম্পানি সামিট। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার আগুন লেগে অ্যাকসিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সংকট তৈরি হয়।

এই সংকট নিয়ে আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল অ্যাকসিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

এই সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা-বোনেরা প্রতিদিন সংসারের রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় গণপরিবহনে প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন