Logo

জাতীয়

শিশুরা গড়ে উঠলে দেশ গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৭

শিশুরা গড়ে উঠলে দেশ গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

# গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সম্পাদকদের সহযোগিতার আহ্বান

আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। একাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছো এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদের আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে, যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।’

ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সবার কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সবার দেশ। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সবাই মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে, সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক, বাসার আশপাশে এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি কাজ তোমাদের করতে হবে, কেউ যদি পুকুর নদীনালায় ময়লা ফেলে, যদি তুমি পারো’ বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে। যাতে আমাদের পরিবেশটি আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে, যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে।’

শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, তোমার স্কুলের আশেপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে করো সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব।’

কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমার ছোট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে, আমরা চেষ্টা করব, এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব, তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।’

বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা যাই হোক না কেন সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

উপস্থিত সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রায়শই নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক খবর লিড নিউজ হিসেবে প্রাধান্য পায়। তবে শিশুরা এবং তাদের এই আয়োজনই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ। তাই আগামীকালের পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদে শিশুদের এই উদ্যোগ ও তাদের সাফল্যকে যেন অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার বা ‘লিড নিউজ’ করা হয়, এটা আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকল।’

গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সম্পাদকদের সহযোগিতার আহ্বান: স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের চলমান কাজে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের প্রশাসনিক ত্রুটি-বিচ্যুতির গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো সংবাদমাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরার অনুরোধ জানান সরকারপ্রধান। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় এই মতবিনিময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ সাংবাদিক ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেয়। বৈঠকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। 

আলোচনায় বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন পেশাদার সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নিশ্চিতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রেখে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের তাগিদ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। 

দীর্ঘ আলোচনায় গণমাধ্যম খাতের চলমান সমস্যা, সম্পাদকদের বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান এবং সরকারের প্রশাসনিক নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা কথা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা গণমাধ্যমকর্মীদের আলোচনার বিস্তারিত বিষয়াদি সম্পর্কে অবহিত করেন।সরকার ও গণমাধ্যমের এই সমন্বিত পদক্ষেপ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশকে আরও সুদৃঢ় করবে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন