জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ২১:১৮
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে তৈরি হওয়া তীব্র জাতীয় গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সরাসরি সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট কাটাতে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনের মাধ্যমে এক চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সরাসরি টেলিফোনেও আলোচনা করেছেন।
জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তাদের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোনাস’-এর মাধ্যমে জরুরি এলএনজি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া, এক্সিলারেট এনার্জি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিকল টার্মিনালটি মেরামতের কাজ চালাচ্ছে; আগামী সপ্তাহের শুরুতে টার্মিনালটি থেকে আংশিক এবং পরের সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে জাপানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নিয়েও আলোচনা করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ২টার দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপে আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার আশ্বাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার কিছু সুযোগ আছে কি না তারা জানাবেন। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। না হলে কোন ফর্মে তারা সহযোগিতা করতে পারে, সেটা তারা জানাবেন।
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই কাজ করছে তথ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, পরামর্শ কিংবা সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সহযোগিতা করতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সহায়তার ধরন ও সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উত্তর পাওয়ার পর তা জানান যাবে। এখন পর্যন্ত আলোচনা ইতিবাচক।
এদিকে মহেশখালীর বিকল টার্মিনালটির পরিচালনাকারী এক্সিলারেট এনার্জির আঞ্চলিক পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, সকাল ১০টায় কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাসিম জ্বালানি বিভাগে এসে তাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলোও তাদের জানানো হয়। এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তারা পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার পর সরকার কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে।
মহেশখালীর ওই এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক্সিলারেট এনার্জির পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। পরের সপ্তাহের শেষ দিকে পুরো এফএসআরইউ সচল করতে পারবেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তখন থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
আগুনে টার্মিনালটির বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য বহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা এটি মেরামতে কাজ করছেন বলে এর আগে তথ্য দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এলএনজি সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো ও পেট্রোলিয়াম পণ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি এলএনজি নিয়ে আলোচনা চালানোর বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে ছিল।
মঙ্গলবার জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও জ্বালানি সহযোগিতা ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মঙ্গলবার তথ্য দেন অনিন্দ্য ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই বলেই একটি এফএসআরইউর সমস্যার কারণে সবাইকে ভুগতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি-মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
আলাপ শেষে এক ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকট এবং তা মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে। বাংলাদেশের জরুরি চাহিদা মেটাতে মালয়েশীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘পিট্রোনাস’-এর মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী লিখেন, ‘মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সুবিধার জন্য সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বাংলাদেশে মালয়েশীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠান আজিয়াটার বিনিয়োগের অগ্রগতি এবং এমএমসি পোর্ট-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অংশীদারত্ব উভয় দেশের জনগণের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশি ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন যন্ত্র বাজারজাতকরণে সহায়তা মিলবে: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই দুটি মেশিন ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। সভায় সংশ্লিষ্টরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি চিকিৎসা যন্ত্রের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা দেবে।
আলাদা দুইটি বিশেষজ্ঞ দল ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরি করেছে বলে সভায় জানানো হয়। সভায় সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এগুলো দেশের সব হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা যাবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় যন্ত্র দুটি তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি চিকিৎসা যন্ত্র সফলভাবে উৎপাদন ও ব্যবহার শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষিশ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি জাপানের প্রতি আহ্বান জানান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। এ সময় তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্পপার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন ও চলমান ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম নিউইয়র্ক সফর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

