Logo

জাতীয়

দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৫

দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত, সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে দেশের সব সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরকে ধাপে ধাপে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগে গতি আনতে সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন বলেন, বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশের প্রতিটি বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে, কমবে সময় ও ব্যয়, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতাও বাড়বে।

বিনিয়োগ বাড়াতে জোর

মাহদী আমিন জানান, দীর্ঘ সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর আওতাধীন এলাকায় কীভাবে আরও বেশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং বিদ্যমান জটিলতা দূর করা যায়—এসব বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

প্রো-বিজনেস নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার বেসরকারি খাতের বিকাশে ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এর অংশ হিসেবে একটি ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

‘করব কাজ, গড়ব দেশ’

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি স্লোগান তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জনবান্ধব সরকার, জনবান্ধব বাজেট এবং জনবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের এই উদ্যোগকে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মাহদী আমিনের ভাষায়, এ আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন