Logo

জাতীয়

সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ প্রাণহানি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৩

সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ প্রাণহানি

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন

# দুই মহাসড়কেই ১৬ জনের মৃত্যু

# বগুড়ায় ৭ শ্রমিক নিহতে তদন্ত কমিটি গঠন 

# হতাহতদের আর্থিক অনুদানের ঘোষণা

# আহতদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক

# সিলেটে নিহতরা ইউনিক পরিবহনের যাত্রী: পুলিশ

ছুটির দিনে শুক্রবার সকালে দেশের দুই মহাসড়কে পৃথক বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ার সদর উপজেলায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক এবং সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন ও অপর দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ জন। এছাড়াও কুমিল্লা, ঝিনাইদহে একজন করে এবং চট্টগ্রামে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত: বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সাত দিনমজুর নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনেরই নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার মো. আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি থানার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. তাজিমুল (৪৭)।

নিহত ও আহত সবাই কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন। রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুররা প্রতিদিন ভোরে এই হাটে কাজের সন্ধানে আসেন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই শ্রমিক সংগ্রহ করেন।

বগুড়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, সকালে ঢাকা থেকে নওগাঁর উদ্দেশে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় সড়কের পাশে অবস্থানরত দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ দুর্ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মনোয়ারুল কাদির বিটু। হাসপাতালের পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে রোগীদের দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই এক্সিডেন্টের খবরে অনেক উদ্বিগ্ন। আমি খবর পেয়েই দ্রুত এখানে ছুটে এসেছি। আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আইসিইউতে থাকা একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসাধীন আরেকজনের মাথার আঘাত এতটা যে তার জ্ঞানের মাত্রা খুব কম।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আরও জানান, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, দেওয়া হয়েছে। ওষুধপত্র যা লাগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দেখবে এবং রক্তের প্রয়োজন হলেও সেটার জোগান এখান থেকে দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন জেলা পুলিশের একজন প্রতিনিধি এবং সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৌফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যে স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা আজই পৌঁছে দেওয়া হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আহত শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। চিকিৎসাধীনদের জন্য রক্তের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে যোগাযোগের অনুরোধ করেন।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মর্মান্তিক এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই একই এলাকার অদূরে আরেকটি প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল আরও দুটি প্রাণ। বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী নাতি আহত হয়েছে। তবে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে বাবুল হাসান (৫০) এবং তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল হাসান তার স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী নাতি জুলকার নাঈনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নওগাঁর দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুল হাসান নিহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বিবি ও শিশু জুলকার নাঈনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন বিবিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯: অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। 

আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও একই বাসের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই বাসের সংঘর্ষের পর হতাহতদের অবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার জন্য তারা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করছেন।

পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই ‘ইউনিক পরিবহন’ বাসের যাত্রী। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত অবস্থায় ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

কুমিল্লা: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সুস্থ থাকতে সকালে হাঁটতে বের হয়ে বাসের ধাক্কায় রুজিনা বেগম (৩২) নামে এক নারী মারা গেছেন। আজ সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামাতো ভাই বেলাল হোসেন ইয়াছিন। মৃত রুজিনা উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের পেছাইমুড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

রুজিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। তিনি সুস্থ থাকতে প্রতিদিন সকালে হাঁটেন। কয়েক দিন আগে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার কিং শ্রীপুর গ্রামে বাবা আবুল কাশেমের বাড়িতে বেড়াতে যান।

সকালে রুজিনা বাবার বাড়ি থেকে জয়ন্তীনগর গ্রামে নানার বাড়িতে যাওয়ার সময় চৌদ্দগ্রাম বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান। 

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল হোসেন জানান, মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। স্বজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ মাদ্রাসা এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তুফান দাস (৩১) নামে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।  গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তুফান দাস সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়ি গ্রামের হরিপদ দাসের ছেলে। 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বড়দাহ মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতহামী ধানবোঝাই একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সেসময় বালুবাহী ট্রাকের চালক তুফান দাস ট্রাকের কেবিনে আটকা পড়েন। এছাড়া বালুবাহী ট্রাকের হেলপার ও ধানবোঝাই ট্রাকের চালক মারাত্বক আহত হন।

খবর পেয়ে শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ট্রাকের কেবিন কেটে আটকে থাকা চালক তুফান দাসকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে চালক তুফান মারা যান।

শৈলকুপা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মহিউদ্দিন জানান, রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ১১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। এরপর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।  প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে বালুবাহী ট্রাকের চালককে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তিনি তখন মৃত ছিলেন।

আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী বলেন, দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

চট্টগ্রাম: নগরের পতেঙ্গা থানায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাঠগড় জেলেপাড়া লিংক রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আহতদের চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন (২২) ও ইমন (২২) নামে দুই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত শাহিনের বাবার নাম আবু সিদ্দিক। তার বাড়ি পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকার র‌্যাব-৭ গলিতে।

নিহত অপরজন ইমনের বাবার নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত আনিক (২১) চমেক হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক। তিনি বলেন, নিহত দুইজনের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন