জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জনকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৯
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান নিজ হাতে নিয়োগপ্রাপ্তদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ সময় তিনি তাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। এ ছাড়া গুরুতর আহত আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং আহত জুলফিকার আলমের স্ত্রী আরজু আক্তারও নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা—যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’
রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাস্তবতার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। কী পেলাম, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
হাসান শিপলু জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

