রাজনীতির বন্ধুর পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩২
ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূল থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর প্রার্থিতার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেদিনই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে সংবিধান ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে তিনি বিএনপির মহাসচিব, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আজ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মুখোমুখি।
অন্যদিকে, প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপির বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে এবং তার পক্ষেও একই দিনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ভোটারদের গণনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও, গণতন্ত্র চর্চা ও দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার লক্ষ্যে বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি অঙ্গনেও নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংবিধানে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ধারা (৭০ অনুচ্ছেদ) এবং ইসি ঘোষিত রাষ্ট্রপতির তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী, যার শুনানি হতে যাচ্ছে আগামী রোববার। এই আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে, যার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হতে যাচ্ছে বঙ্গভবনের পরবর্তী অভিভাবকের পরিচয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক। পারিবারিকভাবেই রাজনীতির পরিবেশে বেড়ে উঠলেও মির্জা ফখরুলের নিজস্ব রাজনৈতিক পথচলার শুরু ছাত্রজীবন থেকে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন জীবনীতে তার ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ষাট দশকের শেষভাগের ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরও দৃশ্যমান হয়।
ছাত্ররাজনীতি থেকে কর্মজীবনে: শিক্ষাজীবন শেষে মির্জা ফখরুল শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৭২ সালে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরেও কাজ করেন।
তার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন। ১৯৭৯ সালের শেষদিকে জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।
সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে: ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে নামেন মির্জা ফখরুল। দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সরকারি জীবনীতে তাকে ওই নির্বাচনে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এরপর নব্বই দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার দীর্ঘ উত্থান।
দলের তৃণমূল থেকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে একসময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।
সংসদে প্রবেশ, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। ওই সময় বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বগুড়া-৬ আসনে তিনি নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
২০২৬-এ নতুন অধ্যায়: ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সরকারি নথিতেও তার বর্তমান দায়িত্ব হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ এবং বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।
এরপরই রাষ্ট্রপতি পদে তার দলীয় মনোনয়ন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। ১৩ আগস্ট বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিকভাবে প্রবল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে রাষ্ট্রপতি বলা যাবে ভোট ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।
ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল: রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে- মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বিভিন্ন জীবনীতে তাদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশ- দুই সময়েই জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ফলে রাজনীতি তার কাছে একেবারে অপরিচিত কোনো জগৎ ছিল না; তবে তার নিজের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল ও সাংগঠনিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে।
বিএনপির মনোনয়ন: বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এদিকে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল।
সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ ছাড়লেন ফখরুল: রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক চলার মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মিষ্টি বিতরণ: দলীয়ভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে চেম্বার অব কমার্স কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। পরে তারা একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ে এ নিয়ে আলোচনা ও উচ্ছ্বাস শুরু হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে আনন্দ প্রকাশ করেন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট: রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা, ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে এনসিপির সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের নাম রয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট: জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিলের বৈধতা নিয়ে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। রিটে রুল চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বৃহস্পতিবার রিটটি করা হয় বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

