Logo

জাতীয়

নতুন চার মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৮

নতুন চার মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রীর শপথ

ছবি: সংগৃহীত

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় তারেক রহমান সরকার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী পেল। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হয়। নতুন রাষ্ট্রপতিই তাদের শপথ পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদও শূন্য হয়েছে। ফলে নতুনদের নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের আকার দাঁড়াল ৫২ জনে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।

কার কী পরিচয়

আবদুল মঈন খান: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসন থেকে বিএনপির টিকেটে সংসদ সদস্য হন আবদুল মঈন খান। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি।

মঈন খানের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে। বাবা আবদুল মোমেন খান ও মা খোরশেদা বেগম।

মোমেন খান জিয়াউর রহমানের সরকারে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বাবার হাত ধরেই মঈন খানের রাজনীতি চর্চা। খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সাচিং প্রু জেরী: বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি।

১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান থেকে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।

সাচিং প্রুর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি বান্দরবান পৌরসভার ক্যাংভিটা এলাকায়। বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন ব্যোমাং সার্কেলের রাজা। তিনিও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মামি মা ম্যা চিং সংরক্ষিত নারীর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

আন্দালিভ রহমান পার্থ: বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ভোলা-১ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন।

পার্থের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল। বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের সময়ে সংসদ সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। ২০০০ সালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন নাজিউর রহমান মঞ্জু।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতিও তিনি। ছিলেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।

২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন তিনি। সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যান। তার জন্ম ১৯৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালিকাপুর গ্রামে।

হুমায়ুন কবির: প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন হুমায়ুন কবির।

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক–বিষয়ক) হন।

লন্ডনে মেয়রের দপ্তরে ‘কৌশল সহকারী’ হিসেবে কাজ করেন হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে তিন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

হুমায়ুন কবিরের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে।

শামীম কায়সার লিংকন: গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ২০০৬ সালের উপনির্বাচনেও সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

তার জন্ম ১৯৮০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। বাবা আবদুল মোত্তালিব আকন্দ ও মাতা আফরোজা আনার বিলকিস।

মোত্তালিব আকন্দ একই আসন থেকে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ওই আসনে উপনির্বাচনে লিংকন নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৯৫ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও ১৯৯৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে বিবিএ এবং ২০০৬ সালে এমবিএ শেষ করেন।

এরপর মালয়েশিয়ার আইআইএফ থেকে আইসিটিতে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পরে এনআইআইটি থেকে ২০০০ সালে দুই বছর মেয়াদের ‘নেটওয়ার্ক ফাইন্যান্স অ্যান্ড এমআইএস’ এ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন