Logo

জাতীয়

দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে: মাহদী আমিন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৩

দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে: মাহদী আমিন

রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশ, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেখানেই আবার ফিরে যেতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ করতে হবে।  

শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানে একটি বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল। মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবাধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক স্বার্থে আমরা সবাই এক জায়গায় থাকবো। আমরা ইনক্লুসিভ গণতন্ত্র চাই। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকবে, তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই যৌক্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে। কোনোভাবেই মিথ্যা প্রচারণা ও চরিত্রহনন করা উচিত নয়। বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘বিরোধী দলকে উপলব্ধি করতে হবে, সবকিছুর বিরোধিতা করা কাম্য নয়।’ 

গোলটেবিলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বড় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পথচলা শুরু করেছি। গত ৬ মাসে কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি সেটা জনগণই দেখবে। তিনি আরও বলেন, আগে রাজনীতিতে একটা প্রতিহিংসা ছিল, সেটা এখন পরিবর্তন করে আনতে পেরেছি। আমরা ১৮০ দিনের টাইমলাইন নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। বর্তমান সরকার দু’হাত বাড়িয়ে কাজ করছে। ভেঙে পড়া বাংলাদেশকে টেকসই দেশ হিসেবে গড়ার চেষ্টা করছি। গত ১৭ বছরে আমাদেরকে অনেক অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এখন সবাইকে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত ৬ মাসে গুম, নির্যাতনসহ রাজনৈতিক কোনো প্রতিহিংসা দেখা যায়নি। এটা সরকারের একটা ভালো দিক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার দলের মধ্যে সংস্কারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে গণতন্ত্র ও মূল্যবোধ চর্চা হচ্ছে কিনা-সেটা দেখার বিষয়। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে যেভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে; সেটাকে মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিএনপিকে এটা বুঝতে হবে। এখানে সরকারের সদিচ্ছা অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা হচ্ছে সবাই সরকারের অংশ হতে চায়। তবে ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিতার প্রশ্ন রয়েছে।

ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম রিফর্ম কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এখানে শুধু বিএনপি নয়, সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। দলের মধ্যে সংস্কৃতি বদলাতে হবে। দলকে একটা শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে কোনো যোগ্য লোক দেখা যাচ্ছে না। 

কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমে সংস্কার খুবই দরকার। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র চাইলে একটা শক্তিশালী গণমাধ্যম থাকতে হবে। গণমাধ্যমে কালো টাকার দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়েছে, সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।  

সরকারের উদ্দেশ্য তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম রিফর্ম কমিশন গঠন করা হয়েছিল, সেটাকে বাতিল করা সঠিক হয়নি। এটাকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা যেতে পারে। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটতে হবে। দেশে জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, আগে সংসদে গালিগালাজ করা হতো। এখন সেটা হচ্ছে না। আমাদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারকাজ শুরু করে দিয়েছেন। আমরা দেশে একটা জনকল্যাণ সরকার গড়তে চাই। প্রত্যেক নাগরিককে শক্তিশালী করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। 

গোলটেবিলে আরও বক্তব্যে দেন জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, প্রফেসর নাহরিন খান, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, ড. আব্দুল মান্নান, আব্দুল কাদের, তাবাসসুম প্রমুখ।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন