Logo

জাতীয়

বেবিচক কর্মকর্তারা

তদন্ত চলমান থাকলেই পদোন্নতি বন্ধ নয়, বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট শর্ত

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৩

তদন্ত চলমান থাকলেই পদোন্নতি বন্ধ নয়, বিধিমালায় সুনির্দিষ্ট শর্ত

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধু অভিযোগের অনুসন্ধান বা মামলা তদন্তাধীন থাকাকে বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা। 

তাদের ভাষ্য, সরকারি চাকরির বিদ্যমান বিধিমালায় কোন পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

সম্প্রতি বেবিচকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসার পর ২০১১ সালের ৪ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের সংশ্লিষ্ট বিধান তুলে ধরে কর্মকর্তারা এ অবস্থান জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, গেজেটের ৫(১) ধারায় বিচারাধীন ও দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা দাখিল, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দাখিল, ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন অথবা সংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তারের মতো পরিস্থিতিতে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতির জন্য বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে।

তার মতে, কোনো অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলা বা একটি মামলা তদন্তাধীন থাকা এবং সেই মামলায় চার্জশিট দাখিল হওয়া একই আইনি পর্যায় নয়। ফলে বিধিমালায় যে পর্যায় থেকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে, বিষয়টি সেখানে না পৌঁছালে শুধু তদন্ত বা অনুসন্ধানের কারণে পদোন্নতি আটকে রাখার বিধান নেই।

বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা দাখিল না হলে, দুদকের মামলায় চার্জশিট না হলে অথবা ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে বিধিমালায় বর্ণিত অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হলে তার পদোন্নতির বিষয়টি যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এবং শূন্য পদের ভিত্তিতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা যেতে পারে।

পদোন্নতির ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও পৃথক বিধান রয়েছে। গেজেটের ৫(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার ওপর দণ্ড আরোপ হলে দণ্ড ভোগের মেয়াদ শেষে লঘুদণ্ডের ক্ষেত্রে এক বছর এবং গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত তিনি পদোন্নতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। দণ্ডের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এ সময় গণনা করা হবে।

একইভাবে ৫(৪) ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বা দোষী সাব্যস্ত না হওয়া এবং দুদক বা ফৌজদারি মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা যাবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ধারণাগত জ্যেষ্ঠতার বিষয়টিও বিবেচিত হতে পারে।

বেবিচক কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগ, অনুসন্ধান, তদন্ত, চার্জশিট ও দণ্ড—প্রতিটি আলাদা পর্যায় এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে এগুলোকে একইভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সরকারি বিধিমালায় যে পরিস্থিতিগুলোকে পদোন্নতির প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলোই অনুসরণ করা প্রয়োজন।

তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকার পাশাপাশি বিধিমালায় নির্ধারিত কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে একজন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়টি যথাসময়ে বিবেচনা করা উচিত। এতে একদিকে যেমন সরকারি চাকরিতে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শুধু অনুসন্ধান বা তদন্তের কারণে যোগ্য কর্মকর্তার স্বাভাবিক ক্যারিয়ার অগ্রগতিও অযৌক্তিকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন