প্রতীকী ছবি
দেশের শিল্প খাতে সংকট যেন কাটছেই না। একের পর এক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, কোথাও অনির্দিষ্টকালের ছুটি, কোথাও স্থায়ীভাবে ঝুলছে তালা। এরই মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক।
শিল্প বন্ধ মানেই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা নয়; এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হাজারো পরিবারের চুলা, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর খবরকে নিছক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ‘সিপিডি’র অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ‘ফার্স্ট সিক্স মানথস অব দ্য নিউ গভর্নমেন্ট : এন ইকোনোমিক রিভিউ’ শীর্ষক এক মিডিয়া সংলাপে সিপিডি এ তথ্য প্রকাশ করে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যার মধ্যে ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার জায়গায় এখনো অস্বস্তিকর কিছু প্রবণতা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুর: সিপিডির হিসাবে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ৯৫টি কারখানার মধ্যে গাজীপুরে ৫৪টি, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় ১৮টি এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে ২৩টি।
গাজীপুরেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৩২ জন। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাইয়ে ১০ হাজার ১২৭ এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী এলাকায় প্রায় ৬ হাজার ২২২ জন শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অর্থাৎ মোট কর্মসংস্থান হারানোর প্রায় ৭৪ শতাংশই গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে।
শিল্প পুলিশের তথ্য ও বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গাজীপুরের বন্ধ কারখানাগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক, স্পিনিং, ওয়াশিং ও ডাইং শিল্পের প্রতিষ্ঠান বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাভার-আশুলিয়ায় নিটওয়্যার, সোয়েটার ও আউটারওয়্যার এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে হোম টেক্সটাইল, প্রিন্টিং ও ডাইং শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল একাধিক শিল্পসংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের খবরকে বলেছেন, একক কোনো কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের সংকোচন, চলতি মূলধনের ঘাটতি, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আর্থিক সংকট সব মিলিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
সাম্প্রতিক শিল্প খাত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে জ্বালানি সংকট, ক্রয়াদেশের ঘাটতি ও আর্থিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলের তথ্য বিবেচনায় নিলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে ৪৫৭ ও ৯৫- এ দুটি সংখ্যা একই সময়সীমা ও একই পরিসরের তথ্য নয়; ৯৫টি হলো গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর জানুয়ারি-আগস্টের হিসাব।
এদিকে শিল্পমালিকদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ গ্যাস সরবরাহ নিয়ে। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় ৭০০ থেকে ৮০০ কারখানায় স্বল্পমেয়াদি বন্ধ বা দীর্ঘ ছুটির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে শিল্পখাতের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায়ও ৯৯টি গ্যাসনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান অর্ধেকের কম সক্ষমতায় চলার তথ্য এসেছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হওয়া এবং জ্বালানি সংকটে সাময়িক ছুটিতে যাওয়া- দুটিকে আলাদাভাবে দেখতে হবে। তবে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট শেষ পর্যন্ত সাময়িক ছুটিতে থাকা কারখানাকেও স্থায়ীভাবে বন্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি বলেন, গ্যাস না থাকলেও কারখানার বেতন, ব্যাংক ঋণের সুদ ও বিভিন্ন নির্ধারিত খরচ চলতে থাকে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল বা এলপিজি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়। ফলে ক্রেতার নির্ধারিত দামের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকে না।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং সাবেক বিজিএমইএ পরিচালক মোহিউদ্দিন রুবেলও শিল্পের এ পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারলে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে বিদেশি ক্রেতার আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্রয়াদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে চলে যেতে পারে। ফলে কারখানার নগদ প্রবাহ আরও দুর্বল হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ আজকের গ্যাস সংকট আগামী দিনের রপ্তানি সংকটে রূপ নিতে পারে।
চাকরি হারিয়েই শেষ নয়, পাওনাও অনিশ্চিত: কারখানা বন্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কা শ্রমিকের ওপর বলে মনে করেন শ্রমিক নেতা মোশারফ হোসেন। তিনি গতকাল বলেন, চাকরি হারানোর পাশাপাশি অনেক শ্রমিক এখনো বেতন, ক্ষতিপূরণ ও সার্ভিস বেনিফিটের পাওনা পাননি এমন বহু অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের শিল্পখাতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন কারখানা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার পর শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি ও পাওনা আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। শিল্প পুলিশের হিসাবে তখন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী এবং সাভার-আশুলিয়াতেও একাধিক কারখানা বন্ধের তথ্য উঠে আসে।
শ্রমিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, কারখানা বন্ধের আগে শ্রমিকদের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের অনুপস্থিতি বা আর্থিক সংকটের কারণে পাওনা পরিশোধ ঝুলে থাকে। ফলে শ্রমিকদের একদিকে চাকরি নেই, অন্যদিকে পাওনা আদায়ের অনিশ্চয়তা।
গতকাল শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার বলেছেন, বেক্সিমকোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার যদি উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে একইভাবে অন্য বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি এ সংকট সমাধানে সরকার, মালিক ও শ্রমিক- এই তিন পক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, বন্ধ কারখানার তালিকা করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। কারখানা পুনরায় চালুর সুযোগ থাকলে মালিককে সহায়তা দিতে হবে। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
গাজীপুরের বন্ধ কারখানার তালিকায় বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে। পূর্বে প্রকাশিত শিল্পখাতের প্রতিবেদনে টিএমএস অ্যাপারেল, নাইয়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস এবং দ্য ডেল্টা নিটসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষভাবে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ১৪টি ইউনিট বন্ধ হওয়ার ফলে ৩৩ হাজার ২৪৪ শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।
এ ধরনের ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের জীবনে নয়, পুরো শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। শ্রমিকের আয় বন্ধ হলে স্থানীয় দোকান, পরিবহন, বাসাবাড়ি, খাবারের ব্যবসাÑসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়ে।
সিপিডি বলছে, নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতা বেশি। সংস্থাটির হিসাবে চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় ৬১ হাজার ৮৮১ মানুষের চাকরি হারানোর বিষয়টি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রয়োজন, অন্যদিকে বিদ্যমান কর্মসংস্থানই যদি হারিয়ে যেতে থাকে, তাহলে বেকারত্বের চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে হলে জ্বালানি, অর্থায়ন ও ক্রয়াদেশ- তিনটি ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা এ মুহূর্তে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলছেন। এর মধ্যে রয়েছে কারখানায় গ্যাস সরবরাহের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি, সংকটে পড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সাময়িক ঋণ পুনঃতফসিল ও চলতি মূলধনের সহায়তা এবং শ্রমিক-মালিক-সরকারের মধ্যে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট জীলন সরকার গতকাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রথমেই প্রয়োজন বন্ধ কারখানার পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ডাটাবেজ। কোন কারখানা কেন বন্ধ হয়েছে, কত শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, কত টাকা বকেয়া রয়েছে, কারখানাটি পুনরায় চালু করার সুযোগ আছে কি না- এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। এরপর সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে হবে। ব্যাংক, উদ্যোক্তা ও সরকারের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পুনঃঅর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। আর যেসব কারখানা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
শিল্প বন্ধের জন্য শুধু শ্রমিক অসন্তোষকে দায়ী করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি সব দায় সরকারের ওপর চাপিয়েও সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন শিল্প উদ্যোক্তা আবুল কালাম আজাদ এবং বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার। শ্রম ও শিল্প আইনজীবী শহীদুল্লাহ মিয়া বলেন, এক্ষেত্রে উদ্যোক্তার দায় রয়েছে- ব্যবসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখা এবং শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা।
আর ব্যাংকের দায় রয়েছে- উৎপাদনশীল ও সম্ভাবনাময় শিল্পকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা। অপরদিকে রাষ্ট্রের দায় রয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা। আর শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব হলো শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
শিল্প রক্ষায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন শ্রমিক নেতা বদরুল ইসলাম, অমল রায় ও শাহনাজ ইয়াসমিন। তারা বলেন, ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর তথ্যকে নিছক একটি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একজন শ্রমিক চাকরি হারালে একটি পরিবারের আয় বন্ধ হয়। সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া, খাদ্য সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে। হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হলে তার অভিঘাত স্থানীয় অর্থনীতি ছাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। তাই শিল্প বন্ধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই।
তারা মনে করেন, এর জন্য জরুরি প্রয়োজন কারখানা বন্ধ হওয়ার আগেই সংকট শনাক্ত করা, শ্রমিকের পাওনা সুরক্ষিত করা এবং সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জাতীয় নীতি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বনামধন্য গার্মেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, শিল্পমালিকদের জন্য প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজন চাকরি ও ন্যায্য পাওনার নিশ্চয়তা, আর সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় জরুরি এই দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা। কারণ একটি কারখানার গেটে তালা পড়া মানে শুধু একটি ব্যবসা বন্ধ হওয়া নয়; এর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় হাজারো পরিবারের আয়ের পথ।
তিনি আরও বলেন, শিল্পের চাকা সচল রাখতে না পারলে কর্মসংস্থান রক্ষা করা যাবে না। আর কর্মসংস্থান রক্ষা করতে না পারলে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কথাও অর্থহীন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

