পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান কঠিন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৯
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ না হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে যাবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল সমস্যা। কিন্তু এটা বাংলাদেশের সমস্যা না, এই সমস্যাটা বাংলাদেশ তৈরি করেনি। এই ইস্যু নিয়ে এবার ইউএনজিতে একটা সেশন হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক কথা বলছি, কিন্তু আদতে এই সমস্যাটা আরও ঘনীভূত হয়েছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু বর্ডারের ওই পাড়ে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, স্টেকহোল্ডাররা, বিভিন্ন দেশের ওখানে স্টেক আছে, সেই জায়গাটা চিন্তা করে আমাদের রিজিওনাল যে কমপ্লিকেশনটা তৈরি হয়েছে ওখানে, সেখানে কিন্তু আন্তর্জাতিক একটা চাপ না হলে এই সমস্যা সমাধান করা ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘১৭ বছরের অত্যাচার-অনাচার নির্যাতনের পর আমরা একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরত এসেছি। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম এই জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন। যেখানে বিএনপির যে ফরেন পলিসি, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে মাথায় রেখে বা সামনে রেখে বাংলাদেশকে তুলে ধরার একটি বিশাল সুযোগ, যেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের কী কী সম্ভাবনা আছে সেগুলো গুরুত্ব পাবে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে সেটা গুরুত্ব পাবে। সবকিছু মিলিয়েই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সব দিক দিয়ে আগামী এই সেপ্টেম্বরের সেশনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে আমাদের জন্য।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষী মিশনের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে রেসপেক্ট করে। তারা হাইলি রিগার্ড করে বাংলাদেশিদের সাহসিকতা ও রেজিলিয়েন্সকে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নতুন সরকারের ছয় মাস অতিক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেজেন্ট গভর্নমেন্ট হ্যাজ দ্য পলিটিক্যাল উইল অ্যান্ড দ্য ইনটেনশন যে কিছু ভালো কিছু করার। আমরা শুধু ভালোটা বহির্বিশ্বে গিয়ে প্রচার করতে চাই না, আমরা আদতেই ভালো কিছু করতে চাই যাতে আপনারা গিয়ে বলতে পারেন যে ভালো কিছু হচ্ছে।’
বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওয়ান টাইম ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মতো বাংলাদেশ ইনভেস্ট নামে একটা একটা আইন পাস হয়েছে, যেখানে আমাদের যারা এখানে বিনিয়োগ করবে, বিনিয়োগকারীরা যেন ১০ জায়গায় ঘুরে বেড়াতে না হয়। এক পয়েন্টে এসে তারা যেন সব সুবিধাগুলো পায়। অনলাইন ডিজিটাল রিসোর্সেসগুলো আরও বাড়ানো হয়েছে যাতে ডিজিটালি আমাদের ইনভেস্টররা এখানে তাদের রেজিস্ট্রেশন করা, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করা, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এগুলো আরও বেশি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য অত্যন্ত রিলেভেন্ট প্রবাসী কার্ড। এটা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ কার্ড করা হচ্ছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমরা অত্যন্ত রেসপেক্ট করি, সম্মান করি। এই গালফ যুদ্ধের সময়ও কিন্তু আমাদের ১২ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে আমরা হারিয়েছি বিভিন্ন দেশে।’
প্রবাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালের খপ্পরে পা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে গিয়ে আমাদের প্রবাসী ভাইদের বিপদে পড়তে হয়। সেজন্য আমরা স্কিলড লেবার পাঠাতে চাই। আমরা ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুলগুলো আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছি, যাতে লিগ্যালি আমরা স্কিলড লেবার পুরুষ এবং নারী পাঠাতে চাই। যাতে বৈধ উপায়ে তারা যেয়ে বাংলাদেশের একটি ডিগনিফাইড কাজ তারা করতে পারে এবং বাংলাদেশের সুনামটাও থাকে।’
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

