প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে গুরুত্ব পাবে স্পিকিং-লিসেনিং দক্ষতা
শিক্ষা ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৭
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের শ্রবণ (লিসেনিং) ও কথন (স্পিকিং) দক্ষতাকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শুধু পড়া ও লেখার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীদের শুনে বোঝা, সঠিকভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাবনা স্পষ্টভাবে প্রকাশের দক্ষতা গড়ে তুলতে কারিকুলামেই প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম রাখা হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পিটিআইতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টিএমটিই সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক দক্ষতা হলো- শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা। এসব দক্ষতার প্রতিটিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘শুনে বোঝার’ দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শ্রবণ ও নিয়মিত অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, একজন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর জন্য নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন জরুরি। তবে এসব পেশাজীবী তৈরির ভিত্তি তৈরি হয় শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। তাই শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান সংরক্ষিত রয়েছে। সেই জ্ঞান ও তথ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ তৈরি করতে ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ালেই শিক্ষিত সমাজ গড়ে ওঠে না উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারবে এবং বিশ্বজ্ঞান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা সবার অধিকার এবং তা সবার দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা হতে হবে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী ও নৈতিকতাসম্পন্ন। এ লক্ষ্য অর্জনে ভাষা শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষাদান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট, খেলাধুলা এবং অন্যান্য আধুনিক শিক্ষণ-উপকরণ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষকদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই। তবে সেই পরিবর্তন হতে হবে সুনির্দিষ্ট, বাস্তবভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর। আপনারা কী ধরনের পরিবর্তন চান, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরুন। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উপপরিচালক মারিয়া রেহমান।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

