Logo

জাতীয়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব দৃশ্যমান

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫৮

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব দৃশ্যমান

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে দেশে কার্যকর হওয়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বহুমুখী প্রভাব প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে গণপরিবহন খাতে। সরকার কিলোমিটারপ্রতি বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করলেও, নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশের আগেই রাজধানীতে অতিরিক্ত ও ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। 

ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে একে পরিবহন মালিকদের তোষণ নীতি বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্তের বিষয়টি অস্বীকার করে সরকার জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির চাপ সামলাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর মাঝেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় কিংবা অটোমেটিক প্রাইসিং চালুর ইতিহাস থাকলেও বিইআরসির প্রবিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় বর্তমানে সরকারি নির্বাহী আদেশেই তেলের এই নতুন দাম ও তার সার্বিক প্রভাব নির্ধারিত হচ্ছে।

কিলোমিটারপ্রতি বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মালিকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হবে শিগগির। 

দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া দুই টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।

সোমবার বাস মালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং শহরের ভিতরে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মঙ্গলবার বৈঠকে তা পর্যালোচনা করে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়।

এদিন বিকালে মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ার কারণে পরিবহন মালিকরা প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছিলেন। জনস্বার্থ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ভাড়া বৃদ্ধি জনগণের জন্য চাপ। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভাড়া যতটা বেড়েছে তা যৌক্তিক পর্যায়ে কম রাখার চেষ্টা করেছি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সরকারি হিসাবে ভাড়া ২০ পয়সা বাড়ার কথা থাকলেও জনস্বার্থ বিবেচনায় তিন পয়সা কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বাড়ছে ১৭ পয়সা। মালিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বসে এ বিষয়ে চুক্তি করবেন। 

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়াহার শুধু ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী অন্য যানবাহনের ভাড়াও সরকার ঠিক করে দেয় না। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়াহার কার্যকর হবে না।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫২ আসনের বড় বাস এবং ৩০ আসনের মিনিবাস ধরে ভাড়াহার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দূরপাল্লার পথে অনেক পরিবহনে ৫২ আসনের বাসের আসন কমিয়ে আরামদায়ক করা হয়। সে ক্ষেত্রে ভাড়ার তারতম্য হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দূরপাল্লার পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই পথে ৫২ আসনের বাসের ভাড়া বাড়বে ৪০ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু আরামদায়ক করার জন্য ৪০ আসনে নামিয়ে আনা বাসের ভাড়া আরও বেশি বাড়বে। সব ধরনের বাসের ভাড়ার সঙ্গে সড়ক ও সেতুর টোল যুক্ত করা হয়।

বিআরটিএ সূত্র বলছে, দূরপাল্লা এবং শহরের কোন পথে, কত দূরত্বে ভাড়া কেমন হবে— এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে এর জন্য দু-এক দিন সময় লাগবে।

এদিকে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে গত সোমবার থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করে দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।  

বাসের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য খরচ যুক্ত করা হয়। তবে এবার অন্যান্য খরচ যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে, ততটুকুই ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, টেম্পোসহ অনেক যানবাহন ডিজেলে চলে। এর মধ্যে মালবাহী যানবাহনের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। এমনকি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়াও সরকার ঠিক করে না। এসি বাস ও মালবাহী যানের ভাড়া মালিক-শ্রমিকরাই নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে নন-এসি বাস ও নগর পরিবহনের বাস-মিনিবাসে ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে দিলেও তা মানা হয় না। এ ছাড়া জ্বালানির মূল্য কমার পর ভাড়া কমালেও সেটাও কার্যকর হয় না।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ২৩ এপ্রিল বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তাতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ টাকা ৫৩ পয়সা।

অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে দুই টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় দুই টাকা ২৩ পয়সায়। আর ডিটিসি এলাকায় (ঢাকার আশপাশে) প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২ টাকা ৪৩ পয়সায়।

সেবার ডিজেলের লিটার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ এবং কেরোসিনের লিটার ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছিল।

হেলপারের ডাক, ভাড়া কিন্তু বেশি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সরকারিভাবে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশের আগেই ঢাকা মহানগরের কোনো কোনো বাসে পাঁচ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হয় মঙ্গলবার। সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫ টাকা। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখা গেছে, বাসে ওঠার সময়ই যাত্রীদের সতর্ক করে চালকের সহকারী (হেলপার) বলছেন, ‘আজকে কিন্তু ভাড়া বেশি।’

বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় কোথাও কোথাও যাত্রীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটিও হয়। নতুন ভাড়ার তালিকা না থাকায় কত ভাড়া দিতে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। আবার বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অনেক যাত্রী।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শনির আখড়া, আসাদগেট, ফার্মগেট ও বাংলামোটর এলাকায় বিভিন্ন বাসে যাতায়াত করে এবং যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ ভাড়া বাড়ল ১৭-২০ শতাংশ: ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত হারে ডেকের ভাড়া প্রায় ১৭ শতাংশ এবং কেবিনের ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মঙ্গলবার থেকে এই ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও লঞ্চ মালিকদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন ভাড়া অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে। সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া এক হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা। আর ডাবল কেবিনের ভাড়া দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর চিঠিটি দিয়েছেন।

ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বাস ও লঞ্চ মালিকদের সুবিধা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে-যাত্রী কল্যাণ সমিতি: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস ও লঞ্চ মালিকদের একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে, বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তার মতে, একচেটিয়া সুবিধা দিতেই ভুক্তভোগী বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়ে দফায় দফায় রুদ্ধধার বৈঠক করছে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। জনস্বার্থে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার পরিবর্তে লুকোচুরি করা হচ্ছে। গণমাধ্যমে মঙ্গলবার সকালে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এমন অভিযোগ করেন তিনি।

বার্তায় বাসের ভাড়া দূরপাল্লায় প্রতি কিলোমিটারে আট পয়সা, নগর পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা এবং লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে পাঁচ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে সমিতি। বার্তায় বলা হয়, জ্বালানির মূল্য বাড়লে বাস ও লঞ্চের ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই-প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখানে আইএমএফের এমন কোনো শর্ত নেই।

তিনি বলেন, আইএমএফের বেসিক নিয়ম যেটা আছে, তারা চায় না একটা সরকার খুব বেশি ভর্তুকি দিক। তবে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার ইস্যুতে তিনি বলেন, দু-তিন দিনে কিছু টাকা সামান্য দু-তিন পার্সেন্ট কমেছে। এখনো ১০০ ডলারের বেশি ক্রুড অয়েলের দাম। কিছুটা কমেছে। কিন্তু এটা আসলে সাসটেইন করার সম্ভাবনা নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি, সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল স্থাপনায় হামলার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্টের কথাও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না?

তিনি বলেন, সরকারকে একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয় করতে হচ্ছে। সব খাতে একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যে বড় প্রভাব পড়বে না-বাণিজ্যমন্ত্রী: তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়তে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিতভাবে দাম সমন্বয় করায় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়।

তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।

সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহের সংকটও কেটে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন সমস্যা হলেও এখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে চিনি ও সয়াবিনসহ দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়— এমন আমদানি করা পণ্যের কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন