Logo

জাতীয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৪

অ
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক

# প্রধানমন্ত্রীর সফর দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে

# বোয়িং চুক্তির পেছনে গোপন এজেন্ডা নেই

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক অগ্রগতি সাংবাদিকদের তুলে ধরে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রথম জাতিসংঘ সফর হওয়ায় এবারের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ ও সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের বিপুল গণরায়ে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে দেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত দৃশ্যমান একটি সক্রিয় অংশগ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছান এবং চার দিনের সফরে মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান, ৭টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন, ১১টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ১০টি শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং তাঁর সরকারের ‘পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন’-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ ছাড়া নারী ও যুব সমাজের ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে দ্রুত, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যু, ক্লাইমেট জাস্টিস, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সফরকালে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জলবায়ু -সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ-সুইডেন যৌথ বৈঠকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীদের (মিডওয়াইফ) অন্তর্ভুক্তি বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক, ইরান, মালদ্বীপ, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও কুয়েতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করেছে বলে জানান তিনি।

সফরটিকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বিমান বহরের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনা হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন উড়োজাহাজ কেনার পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। আমাদের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চাহিদা ও রুটের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন