Logo

মতামত

দুর্ঘটনামুক্ত পথ চাইলে নীতিতে চলুন

Icon

মোমিন মেহেদী

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৪

দুর্ঘটনামুক্ত পথ চাইলে নীতিতে চলুন

মোমিন মেহেদী, ছবি: সংগৃহীত

পথকে দুর্ঘটনামুক্ত চান সবাই। আপনি-আমি-আমরা সবাই-ই চাই পথ দুর্ঘটনামুক্ত হোক, কিন্তু সে জন্য কি মানি নিয়ম-কানুন? মোটেই না । যে কারণে দেখবেন অধিকাংশ মানুষ সড়ক, রেল বা নৌপথে চলাচলের অনেক নিয়ম থাকলেও, সেগুলো মানতে আমরা প্রায়শই অনীহা প্রকাশ করি। এর ফলে শুধু বিশৃঙ্খলাই বাড়ে না, বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। যতদিন আমরা ব্যক্তিগতভাবে সচেতন না হবো, ততদিন এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আসুন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করি যা আমরা জানি, কিন্তু অনেক সময় মানি না। আর মানি না বলেই ঈদের আগে-পরের ১৫ দিনে ৩৫৮ সহ মার্চে সড়ক-রেল ও নৌপথে ঝরেছে ৫৮৭ জনের প্রাণ।

গবেষণা-সচেতনা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ১৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সড়ক-রেল ও নৌপথে চরম নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা আর পুালিশ-প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারির অবহেলায় ছোট-বড় ৩৫০১টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮৫৯ জন। সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়- অদক্ষ ও ক্লান্ত চালকদের দ্বারা পরিচালিত বাস-ট্রাক দুর্ঘটনা অতীতের ঈদের চেয়ে যেমন বেশি ঘটেছে, তেমনি নারী ও শিশু হতাহত ও নিহতের ঘটনাও ঘটেছে বেশি। ১৯৩৭ জন নারী ও শিশু আহত এবং নিহত হয়েছেন ২৯৪ জন। ষাটোর্ধ পুরুষ ৮১১ আহত এবং নিহত হয়েছেন ১১২ জন। ১৮-৫৫ বছর বয়সী পুরুষ ১১১১ আহত এবং নিহত হয়েছেন ১৮১ জন।  শুধু এখানেই শেষ! তা হলে তো বেঁচে যেতাম। সেই বাঁচার রাস্তাটাও ক্রমশ সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে, যখন সেভ দ্য রোড বলছে- ‘এবার যোগাযোগ মন্ত্রী-সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও দায়সাড়া গোছের বক্তব্যের সুযোগে গড়ে ওঠা পরিবহন সিন্ডিকেটের কাছে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি জিম্মি হয়েছিলো সাধারণ মানুষ। শত ভাগ বেশি ভাড়া দিয়েও বাস না পেয়ে অনেককেই ট্রাকের ছাদে যেমন উঠে যেতে হয়েছে বাড়ির পথে, তেমনি যাত্রী হতে হয়েছে পিকআপের মতো বিপদজনক বাহনে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছিলো জ্বালানি সংকটের বিড়ম্বনাও।’

সেই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে- সড়ক-রেল ও নৌপথে ৩৮৫৯টি দুর্ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩২০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করছেন সেভ দ্য রোড-এর গবেষণা সেল সদস্যগণ। আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য নিবেদিত দেশের একমাত্র সচেতনতা-গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিলো তৎকালীন যোগাযোগ উপদেষ্টার অবহেলা আর উশকানির পাশাপাশি বিআরটি-এর তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে, সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে এই সরকারের সময়ে। কারণ অতীতের সরকারগুলোর মতো এই সরকারও সড়কে ফিটনেসবিহীন বাস, ড্রাইভিং লাইসেন্সহীন চালক এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট সেক্টরে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা দুর্নীতিবাজ আমলা, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সীমাহীন দুর্নীতি-চাঁদাবাজী ও অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে। সড়কে চরম নৈরাজ্য-আইন না মানার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় ক্রমশ সড়কে দুর্ঘটনা যেমন বৃদ্ধি করছে, তেমন আহত এবং নিহতের সংখ্যাও বাড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় সেভ দ্য রোড-এর পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে সমাজসচেতনতা, গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবি কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের মন্ত্রী-সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অবশ্য সেভ দ্য রোড-এর দাবির সঙ্গে একমত হয়ে বলতে চাই প্রতি তিন কিলোমিটারে পুলিশ বুথ বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন না করা ও হাইওয়ে পুলিশসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পুলিশ-প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে নিবেদিত থাকাটা খুব জরুরি। তা না হলে আগামী ঈদের পাশাপাশি হয়তো আজন্মকাল ধরে ছিনতাই-ডাকাতির মুখোমুখি হতেই হবে বাংলাদেশের মানুষকে। যেমনটা এবার ঘটেছে। ঈদযাত্রার ১৫ দিনে সড়কপথে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ১২২টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৬ জন। এছাড়া নারী শ্লীলতাহানীর ঘটনা ঘটেছে ৩১৬টি, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১টি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতা, চালক-শ্রমিকদের উচ্ছৃঙ্খলতা আর আমাদের সাধারণ মানুষের দায়সাড়া গোছের পথচলার চেষ্টার কারণে নৌপথে ১০২টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৫ জন। রেলপথে ২০টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১০ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৪ জন। আকাশপথে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শতাধিক হজ্জ যাত্রীসহ ২৫৬ জন যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিলো জেনে নিজের কাছে একজন অপরাধী হিসেবে বিবেচিত লাগছে। কারণ সবার দায়ের কিছুটা হলেও সবার উপর বর্তায় মানুষ হিসেবে, বাংলাদেশি হিসেবে। সে যাই হোক, তবু চাই আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথ দুর্ঘটনামুক্ত করার লক্ষ্যে গত ১৮ বছর ধরে রাজপথে থাকা স্বেচ্ছাসেবি-গবেষণা ও সচেতনতামূলক সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর চেষ্টাকে গতিশীল ও সফল হোক। সংগঠনটির বক্তব্যর মতো আমিও ধারণা করি- সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথের দুর্ঘটনামুক্ত পথ চলাচলের অধিকার রক্ষায় মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনিক এবং সাধারণ জনগণের সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

দুর্ঘটনামুক্ত পথের জন্য নিবেদিত একজন সংগঠক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে কাজ করে যাওয়ার সুবাদে যে পরিমাণ লিখেছি, কাজ করছি এবং তা দ্বারা যেসব সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, ইচ্ছার জন্ম হয়েছে, গভীরতার পরিমাপ হয়েছে, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি কেবলমাত্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সদিচ্ছার অভাবের কারণে। এ কারণেই আমি প্রায়-ই লিখি এবং বলি- যতই আওয়াজ উঠুক, জনমত তৈরি হোক, এটি রোধ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সরকারিভাবে ফলপ্রসূ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘ সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য একটা ফর্মুলা দিয়েছে। তারা ফর্মুলাটির পাঁচটি পিলার চিহ্নিত করেছে। প্রধান পিলার হলো ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা, তারপর নিরাপদ গাড়ি, নিরাপদ সড়ক, সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসা। এই কাজগুলো করা হলে উন্নত দেশের মতো আমরাও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

প্রথমত, সড়ক দুর্ঘটনা নিরাময়ে জাতিসংঘ ঘোষিত পাঁচটি পিলারকে ম্যানেজমেন্টের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি, অভিজ্ঞ লোক এবং কাকে দায়িত্ব দিলে সঠিকভাবে কাজ হবে, সেই জিনিসটা ম্যানেজমেন্ট ও পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে হবে। দেখতে হবে সড়ক পরিবহন আইন কেন অকার্যকর হচ্ছে, কত লোক আহত ও মারা যাচ্ছে, কেন ও কী ধরনের দুর্ঘটনা হচ্ছে? কী ধরনের গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনা হচ্ছে? সেগুলোরও একটি পরিসংখ্যান থাকতে হবে। সঠিক পরিসংখ্যান থাকলে সে অনুযায়ী ম্যানেজমেন্ট করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একথাও মনে রাখতে হবে যে, আকাশ-সড়ক-রেল ও নৌপথ হচ্ছে মানুষের লাইফলাইন। আর এ সড়কের মূল ব্যবহারকারী হচ্ছেন চালক। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, অধিকাংশ চালকেরই নেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং তারা জানেন না কোন সড়ক কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে চালককে যদি সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত না করা যায়, তাহলে সে নিজের বোধ ও বুদ্ধিতে চলবে। সড়কের চরিত্র সম্পর্কে অনভিজ্ঞ সাইন, সিগন্যাল বা নির্দেশিকা না জানা এই চালকেরাই তখন দুর্ঘটনা ঘটাবেন এবং ঘটাচ্ছেন।

একটি পিস্তল বা আগ্নেয়াস্ত্রের একটি গুলিতে একজন মানুষ মারা যায়, কিন্তু একজন চালকের হাতে অনেকগুলো মানুষের জীবন সমর্পিত থাকে। যদি সেই চালক অনুপযোগী চালক হন, তাহলে যাত্রী কিংবা পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? এমতাবস্থায় অবশ্যই চালকদের সুপ্রশিক্ষিত থাকাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে হলেও পাশাপাশি পরিবহনমালিক যারা আছেন, ব্যবসার পাশাপাশি তাদের মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে। তাদেরও সচেতন হতে হবে। যদি এই মানসিকতা থাকে যে তারা শুধু এখানে ব্যবসা করবেন আর অর্থ উপার্জন করবেন, তাহলে সড়ক নিরাপদ হবে না। প্রথমে চালক নিয়োগের বিষয়টি সঠিকভাবে করতে হবে। জানতে হবে, চালকের মানসিকতা কী রকম, তিনি নেশাগ্রস্ত কি না এবং কী রকম আচরণ করেন? যদি উগ্র আচরণ করেন, তাহলে গাড়ি চালাতে দেওয়া উচিত নয়। উপযুক্ত চালক নিয়োগ, গাড়ির ফিটনেস মালিকদের দায়িত্বসহকারে দেখা উচিত। ট্রিপ বেসিসে এবং চালকের কাছে গাড়ি ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করা যাবে না। চালক সড়কে কীভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন, কেমন আচরণ করছেন, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে মনিটরিং করতে হবে। এই কাজগুলো হলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

সেই সঙ্গে চাই- দুর্ঘটনা ঘটার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে। তাহলে প্রাণহানির সংখ্যা কমবে এবং পঙ্গুত্ব হ্রাস পাবে। কেননা, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসাসহ আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর না করা গেলে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জীবনমানের শঙ্কা থেকে যায়। মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় বেশি মারা যায় আহত ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যাওয়ায়, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। যদি প্রাথমিকভাবে আহত রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করা যায়, তাহলে মৃত্যুর শঙ্কা কমিয়ে আনা যায়। তার জন্য হাইওয়েতে ট্রমা সেন্টার ও রেসকিউ টিম (অ্যাম্বুলেন্স-সুবিধাসহ) অপরিহার্য। আর এটা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে ম্যানেজমেন্টে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাখতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবহনে নারীদের চলাচলকে কষ্টমুক্ত করতে তাদের জন্য ৪০ শতাংশ নারী আসন নিশ্চিত করাটাও আবশ্যক বলে আমি মনে করি। প্রতিবন্ধী ও সত্তোর্ধ্বদের জন্য ১০ শতাংশ আসন নিশ্চিত করার দাবিটা সেভ দ্য রোড-এর মত আমারও বহুদিনের। সে যাই হোক চিন্তার সঙ্গে তো কাজের মিল থাকবেই প্রকৃত দেশপ্রেমী মানুষের-গোষ্ঠির। এখন প্রশ্ন হলো আপনি কি দেশপ্রেমী? যদি দেশপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে নিজেকে-পরিবারকে-সমাজকে-দেশকে নিয়ে ভাবার দায়িত্ব আপনারও। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে চাইলে সবার আগে সেভ দ্য রোড-এর দীর্ঘ ১৮ বছরের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য একাট্টা থাকতে হবে। 

সেই সাত দফা কি চলুন জেনে আসি। ১. পঞ্চম শ্রেণি থেকে স্নাতোকত্তর পর্যন্ত পথ চলার নিয়ম-কানুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পাশাপাশি মিরেরসরাই ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে ১১ জুলাইকে ‘দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ২. ফুটপাত দখলমুক্ত করে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। ৩. সড়ক পথে ধর্ষণ-হয়রানি রোধে ফিটনেস বিহীন বাহন নিষিদ্ধ এবং কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতিত চালক-সহযোগী নিয়োগ ও হেলপারদ্বারা পরিবহন চালানো বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. স্থল-নৌ-রেল ও আকাশ পথ দুর্ঘটনায় নিহতদের কমপক্ষে ১০ লাখ ও আহতদের ৩ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ সরকারীভাবে দিতে হবে, ৪০ শতাংশ নারী ও ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী-সত্তোর্ধ্ব মানুষের জন্য নির্ধারিত আসন নিশ্চিত করতে হবে। ৫. ‘ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স রুল’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সত্যিকারের সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ‘ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন’ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৬. পথ দুর্ঘটনার তদন্ত ও সাজা ত্বরান্বিত করণের মধ্য দিয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে এবং ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা-সহমর্মিতা-সচেতনতার পাশাপাশি সকল পথের চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সকল পরিবহন চালকের লাইসেন্স থাকতে হবে। ৭. ইউলুপ বৃদ্ধি, পথ-সেতু সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে ভাঙা পথ, ভাঙা সেতু আর ভাঙা কালভার্টের কারণে আর কোন প্রাণ দিতে না হয়।

এই ৭ দফার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন যেমন আছে, তেমনই আমার কয়েকটা অনুরোধ দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি- গণপরিবহনে ওঠা-নামা, চলন্ত গাড়িতে যত্রতত্র ওঠা-নামা করা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নির্দিষ্ট স্টপেজ থেকেই উঠা-নামা করুন; রাস্তা পারাপারে ফুট-ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার করা আইনের লঙ্ঘন। রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করাও বিপজ্জনক, তাই বিষয়গুলো ভাবনায় রেখে পথ চলুন। সড়কপথে হাঁটা কিংবা ফুটপাতে বাইক চালানো বিপজ্জনক। ফুটপাতকে পথচারীদের জন্য নিরাপদ রাখার কথা সবার আগে ভাবুন। ফুটপাত এবং রাস্তা দখল করা আইনত অপরাধ। আমাদের দায়িত্ব হলো অব্যবহৃত জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং রাস্তা ব্যবহারকারীদের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রাখার পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালানোর সময় চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য হেলমেট ব্যবহার করুন। নিয়ম ভেঙে উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে নিজে বিরত থাকুন, অন্যকেও বিরত রাখুন। সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ইউ-টার্ন নেওয়াই উত্তম। এই অভ্যাসগুলো করলে আমরা দুর্ঘটনা, বিশৃঙ্খলা এবং জ্যামের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবো বলে আমি দৃঢ় বিশ্বাসী। সেভ দ্য রোড-এর মত আমিও চাই দুর্ঘটনামুক্ত আকাশ-সড়ক- রেল ও নৌপথ। আর তাই চাই পথে কমুক বিচ্ছৃঙ্খলা, থামুক স্বেচ্ছাচারিতা-দুর্নীতি এবং বাড়ুক দায়িত্ববোধ-পুলিশ-প্রশাসন-সাধারণ জনগণের-শ্রমিক-মালিক-চালকের...

লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাভাস। 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন