কবি আল মুজাহিদীর দিনগুলো শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হোক
রফিক সুলায়মান
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৩
রফিক সুলায়মান, ছবি: সংগৃহীত
বাংলা ভাষার অন্যতম বর্ষিয়ান কবি আল মুজাহিদী এখন শয্যাশায়ী। রোগ ভারে জর্জরিত, বয়স ভারানত। দৃষ্টিশক্তি প্রায় নেই বললেই চলে। কথা বলতে পারছেন না গত এক সপ্তাহ।
ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক। গড়েছেন অনেক নবীন সাহিত্যিককে অগ্রজের ছায়া দিয়ে। কবি হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, মান্নান সৈয়দ প্রমুখ ঘরাণার; শব্দ, চিত্রকল্প ও অলংকার নিয়ে খেলা করেছেন আজীবন। তাকে বিপুল পাঠধন্য কবি বলা যাবে না। তবে তিনি কবি ও গবেষকদের কাছে একজন নমস্য কবি।
ছাত্র রাজনীতিতেও নাম কামিয়েছেন। আইয়ুব আমলে এগারো বছর জেল খেটেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠেছিলেন। কিন্তু কন্সপিরেসি এবং আঞ্চলিকতাদুষ্ট ছাত্রনেতাদের কারসাজিতে ছিটকে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
পাননি বাংলা একাডেমি পুরস্কারও। একুশে পদক পেয়েছেন প্রায় দুই যুগ আগে। গত বছর বাংলা একাডেমি প্রদত্ত বিবিধ পুরস্কারের একটি তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলা ভাষার একজন শীর্ষ কবির জন্যে এরচেয়ে বেশী কিছু তার প্রাপ্য।
গভীর বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি আজ তিনি নজরুলের মতোই বাকশক্তিরহিত। দিনরাত, ভালোমন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল সকল কিছুর উর্ধ্বে। একসময় তার সান্নিধ্য পেতে অনেকেই ভীড় করতেন। ফোন ব্যবহার করতে পারেন না বেশ কিছুদিন হলো। ফলে অনেক পরিচয় ও সম্পর্কে ছেদ/যতি পড়েছে।
আমাদের জীবিত মুক্তিযোদ্ধা কবি হাতে গোনা। নেই বললেই চলে। রাষ্ট্র/সরকারের উচিত হবে কবির খোঁজ নেওয়া। কবির আগামী দিনগুলো শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন কাটুক। আমীন।
লেখক: সংস্কৃতিকর্মী।

