Logo

মতামত

সব্যসাচী লেখক মজিদ মাহমুদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

Icon

রফিক সুলায়মান

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২৬

সব্যসাচী লেখক মজিদ মাহমুদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

কবি মজিদ মাহমুদ, ছবি: সংগৃহীত

সব্যসাচী লেখক, চিন্তাবিদ এবং চরনিকেতন শিক্ষাপল্লীর প্রতিষ্ঠাতা মজিদ মাহমুদের জন্মদিন ১৬ এপ্রিল, ৩ বৈশাখ। এ উপলক্ষ্যে তার জন্মস্থান ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব-১৪৩৩’। 

ওসাকা চরনিকেতন কাব্যমঞ্চে আয়োজিত এই উৎসবে দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বরা ১৪ এপ্রিল থেকে অংশ নিচ্ছেন। 

কবির জন্মদিন, বাংলা নববর্ষ এবং সাহিত্য উৎসবকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে শিক্ষাপল্লী চত্বর অতিথি ও দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথিদের জন্য আবাসনসহ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি। 

রাজধানী ঢাকার বাইরে এটি এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। উৎসবের প্রথম দিন থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ও বাউল গানের আসর। দ্বিতীয় দিনে থাকছে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, কবিদের স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী দিন তথা তৃতীয় দিনে গুণীজনদের মতবিনিময় ও সেমিনারের পাশাপাশি কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উদযাপন করা হবে। এ ছাড়া আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, জারিগান এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। 

উল্লেখ্য তাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন লেখকের কয়েকশ রচনাকে দুই খণ্ডে গ্রন্থভূক্ত করা হয়েছে সম্প্রতি। এর আগে তার আইকনিক কাব্যগ্রন্থ মাহফুজামঙ্গলের ২৫ ও ৩০ বছরের পাঠ নিয়ে দুটো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই উৎসবের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রবর্তক কবি ও গবেষক মজিদ মাহমুদ। নিজ গ্রাম চরগড়গড়িকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার প্রচেষ্টায় এখানে গড়ে উঠেছে ‘চরনিকেতন কমপ্লেক্স’; যা বর্তমানে একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র ও প্রবীণদের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে সেখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কাজও চলছে। 

২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত এই উৎসব বর্তমানে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মেলা ও সাহিত্য আসর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। 

বিশিষ্টজনদের মতে, শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এমন একটি মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও এই মিলনমেলা আধুনিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। প্রিয় সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বকে জন্মদিনের আগাম শুভেচ্ছা।

লেখক: সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মী।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন