সৈয়দ মুহাম্মদ আজম, ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে হামাস। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি সাংগঠনিকভাবে প্রায় দুর্বল। তবু সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়নি। ১৯৮৭ সাল থেকে লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে আছে। ইসরায়েলের দফায় দফায় হামলায় প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে যে প্রেক্ষাপটে হামাসের জন্ম হয়েছিল, গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তখনকার চেয়েও ভয়ংকর। গাজা উপত্যকায় সংগঠনটির কোনো পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নেই। তবে সম্প্রতি প্রশাসনিক নিয়ন্তা থেকে হামাসের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা গাজার ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দুই বছরের আগ্রাসনে হামাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাজায় অন্য গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় হামাসই এককভাবে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে আসছিল। ইসরায়েল তাদের বহুমাত্রিক নেতৃত্ব কাঠামো ধ্বংস করেছে, রসদ ও অর্থ জোগানের পথ বিচ্ছিন্ন করেছে। তবু হামাস নিরস্ত্র হওয়ার শর্তে স্বাক্ষর করেনি, নতিও স্বীকার করেনি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় গাজা শাসন করার মতো প্রশাসনিক সক্ষমতা গোষ্ঠীটির আর নেই।
বর্তমানে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপ। চিকিৎসা, শিক্ষা, পানি ও বিশুদ্ধ অক্সিজেনের তীব্র সংকট চলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরেই ব্যাপক জনসমর্থন হারিয়েছে হামাস। যুদ্ধ শুরুর জন্য গাজার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে দায়ী করছেন। ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন যুদ্ধের আগের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ মানুষ। শীর্ষ নেতৃত্ব হারানোর পরও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন হামাস এখনো অত্যন্ত সক্রিয় এবং শক্তিশালী।
এদিকে হামাস মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণে এই নাজুক অবস্থার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে; তারা পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ। অন্যদিকে, ইসরায়েলও তার চিরশত্রুকে শক্তিশালী হিসেবে দেখাতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের চলমান সামরিক আগ্রাসনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চায়, বৈধতাও চায় এবং ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত নিয়ে উত্থাপিত আন্তর্জাতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া যেন এড়াতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাসের নেতৃত্ব কাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েল। ইয়াহিয়া সিনওয়ার, ইসমাইল হানিয়া, মোহাম্মদ দেইফ ও মোহাম্মদ সিনওয়ারের মতো শীর্ষ নেতারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গত মে মাসে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদ সপরিবারে নিহত হন। এর মাত্র ১১ দিন পর সপরিবারে নিহত হন তার উত্তরসূরি মোহাম্মদ ওদেহও। ফলে ৭ অক্টোবরের আগের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে এখন কেবল ইমাদ আকেলই জীবিত আছেন। শত শত মধ্যম সারির কমান্ডার নিহত হওয়ায় দলটির যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের এই ‘টার্গেটেড কিলিং’ অভিযান নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথও সংকুচিত করেছে। আল-হাদ্দাদ ও ওদেহকে তাদের নিজ বাসভবনে হত্যার ঘটনা থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে, হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ও গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানোর কৌশল এখন আর নিরাপদ নয়। এমনকি দলটির বৈদেশিক নেটওয়ার্কও ভেঙে পড়েছে। গত তিন বছরে ইরান, লেবানন ও কাতারে হামাসের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত বা হামলার শিকার হয়েছেন।
এই সংকটের প্রভাব এখন হামাসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্পষ্ট, এবং প্রকট। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর থেকে দলটি নতুন রাজনৈতিক প্রধান নির্বাচন করতে পারেনি। ৫০ থেকে ৮০ সদস্যের শুরা পরিষদ ২০২৫ সালের শুরুতে বৈঠক করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ভোটে কোনো প্রার্থী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। বর্তমানে সংগঠনটি পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে কার্যত অচল।
নেতৃত্বের এই সংকট এখন দলটির ভবিষ্যত কৌশলগত বিভাজনকে সামনে টেনে এনেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৌড়ে শীর্ষে থাকা খলিল আল-হায়া ও খালেদ মাশালের দৃষ্টিভঙ্গিও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। আল-হায়া ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক ও সশস্ত্র প্রতিরোধ বজায় রাখার পক্ষে। অন্যদিকে, মাশালপন্থিরা সুন্নি আরব রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বাস্তববাদী রাজনৈতিক সমঝোতার পথ সন্ধানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছেন।
এই মতভেদ হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে হামাস দীর্ঘ তিন সপ্তাহ নীরবতার প্রসঙ্গটিই প্রাসঙ্গিক। কারাতের দ্বারা সেসময় প্রভাবিত ছিল হামাস। পরে কাতারভিত্তিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানালেও গাজার সামরিক শাখা তেহরানের সামরিক পদক্ষেপের প্রকাশ্য প্রশংসা করে। এই পরস্পরবিরোধী বার্তা দলটির কৌশলগত ফাটলকে উন্মুক্ত করেছে।
আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রেও হামাস কোণঠাসা। দীর্ঘদিন ধরে ইরান হামাসকে অস্ত্র, সামরিক প্রশিক্ষণ ও বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দিত। বিনিময়ে হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রক্সি শক্তি হিসেবে কাজ করত। কিন্তু ৭ অক্টোবরের হামলার আগে সমন্বয়হীনতার কারণে নাখোশ হয় ইরান। ওই হামলার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল ছিল না। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি রক্ষা ও যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে হামাসকে আগের মতো সহায়তা করার সুযোগ এবং আগ্রহও কমেছে তাদের।
একইভাবে কাতারের সঙ্গেও সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটেছে। দোহা এতদিন হামাসকে রাজনৈতিক কার্যালয় পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। বছরে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার সহায়তা দিত। কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন-ইসরায়েলি জিম্মি নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে কাতার হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পরে ২০২৬ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানাতে হামাস অস্বীকৃতি জানালে বেশ কয়েকজন নেতাকে কাতার বহিষ্কার করে। তারা তুরস্কে আশ্রয় নিলেও আঙ্কারা তাদের যথেষ্ট সুবিধা দিতে স্বস্তিবোধ করছে না।
এই ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে হামাস তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। এখনো তাদের প্রায় ৪৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন অনিয়মিত। অর্থসংকট সামাল দিতে ২০২৬ সালের মে থেকে হামাস কালোবাজারের ত্রাণপণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর এবং গাজার ১৫টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
হামাসের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ সশস্ত্র প্রতিরোধের সামর্থ্যও এখন সীমিত। ৭ অক্টোবরের আগের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, অস্ত্রভান্ডার ও সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশই ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো এখন ধ্বংসস্তূপ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, দলটির প্রায় ২০ হাজার যোদ্ধা এখনো সক্রিয় থাকলেও কার্যকর সামরিক সক্ষমতা আগের মতো নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল গাজার নিয়ন্ত্রিত এলাকা ৫৩ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করলেও হামাসের প্রতিক্রিয়া মূলত বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অভ্যন্তরীণভাবেও হামাস প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পপুলার ফোর্সেস ও স্ট্রাইক ফোর্সের মতো অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে স্থানীয় পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। পাশাপাশি গাজা সিটি ও খান ইউনিসের পরিবারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও হামাস সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা দলটির সামাজিক কর্তৃত্বকে ক্ষয় করছে।
প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৫১ শতাংশ গাজাবাসী সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করলেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা ৩৪ শতাংশে নেমে আসে। গাজার মানুষ এখন যুদ্ধের পরিবর্তে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা চায়, যা হামাস নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হামাস গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্তির ঘোষণা দেয় এবং মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-সমর্থিত এনসিএজির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি জানায়। সবশেষ চলতি জুলাই মাসে গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা দেয় হামাস।
হামাসের এই সিদ্ধান্ত তাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে গাজার ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যত নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। সবথেকে কঠিন ও বাস্তব প্রশ্নটি হলো- ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার আগে হামাস-নেতৃত্ব কি এর পরিণতি সম্বন্ধে আন্দাজ করতে পারেনি? নাকি করার চেষ্টাও করেনি? হামলার সিদ্ধান্তটা হুট করেই নেওয়া? নয়তো ইরানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ল কেন? সিরিয়া; যে পথে ইরান থেকে তাদের চালান আসত, সেই পথও তো বন্ধ হতে পারে। সেটা হলে বিকল্প রুট নিয়ে আঁকা পরিকল্পনার পরিণতি কেন অবরোধ হলো?
বৈশ্বিক চাপ, প্রভাব ও নিজেদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার শঙ্কা বোধহয় ছিল না। ফলে লড়াই করে স্বাধীনতা লাভের স্বপ্ন দেখা ফিলিস্তিনের এখন অনিশ্চিয়তার আঁচলে চোখ ভেজাতে হচ্ছে। কিন্তু আর্থিক, সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে নজিরবিহীন সংকটে পড়লেও হামাসের একাংশ এখনো বিশ্বাস করে যে বিগত যুদ্ধগুলোর মতো এবারও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে অন্য অংশটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে চায়। একই সঙ্গে তারা এই দীর্ঘ যুদ্ধে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয়ের রাজনৈতিক জবাবদিহি এড়াতেও আগ্রহী।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাবের কারণে তিনিও হামাসকে একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। উগ্র ডানপন্থি জোটকে টিকিয়ে রাখা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন নিয়ে আলোচনা এড়াতে তার একটি স্থায়ী ‘শত্রু’ প্রয়োজন। আল-জাজিরার অনুসন্ধান অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের অন্তত ৪০টি সামরিক ফাঁড়ি রয়েছে, যার মধ্যে আটটি ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর নির্মিত। নেতানিয়াহু যদি স্বীকার করেন যে হামাস আর কার্যত হুমকি নয়, তবে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আন্তর্জাতিক যৌক্তিকতা দুর্বল হয়ে পড়বে।
নেতানিয়াহুর এই কৌশল নতুন নয়। অতীতেও তিনি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের বিভক্তি বজায় রাখতে কাতারের মাধ্যমে হামাসের কাছে অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থাকে নীরবে সমর্থন করেছিলেন। শান্তি প্রক্রিয়া আটকে রাখতে আগে তার একটি শক্তিশালী হামাসের প্রয়োজন ছিল, আর এখন সেই ভূমিকা পালনের জন্য হামাসের বাস্তব শক্তির চেয়ে তার ‘হুমকির প্রতিচ্ছবি’ই যথেষ্ট।
এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের নিরাপত্তা-যুক্তি এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতা নিয়ে কঠোর জবাবদিহি। গাজা পুনর্গঠনের আন্তর্জাতিক সহায়তাকে কেবল হামাসের নিরন্ত্রীকরণের শর্তে না রেখে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, কোনো রাজনৈতিক বয়ান নয়, বরং গাজার ২০ লাখ মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও টেকসই পুনর্গঠনই ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে।
লেখক: শিক্ষার্থী, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

