Logo

মতামত

দেশপ্রেমিক-মানবদরদী জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী

Icon

বঙ্গ রাখাল

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৫০

দেশপ্রেমিক-মানবদরদী জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

একজন প্রতিবাদী মানুষ। একজন অভিভাবক। একজন নেতা। একজন পথপ্রদর্শক কিংবা একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। এক ব্যতিক্রমী এবং অনন্য একজন মানুষ যিনি যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে পছন্দ করতেন। তাঁর সমগ্র চেতনা জুড়ে ছিল দেশ ও দেশের মানুষ। সেজন্যই হয়তো কবি সুব্রত সরকার লিখেছেন- ‘দূরে চলে যেও না, কাছে থেকো/যত কাছে থাকলে সবাই দেখবে/মানুষের কাছে রয়েছে মানুষ।/কাছে ডাক, যেমন করে ডাকলে/ মানুষ বুঝবে মানুষকে কাছে ডাকছে মানুষ।’ সুদিনে কিংবা দুর্যোগে- তিনি ছুটে যেতেন জনমানুষের কাছে। তিনি সবার প্রিয় বড় ভাই। এতো বড় ডাক্তার হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। সময় পেলেই চলে যেতেন চরাঞ্চলে। সেখানে বিনা পয়সায় এই প্রান্তিক মানুষদের সেবা দিতেন। এছাড়াও তিনি সকল আন্দোলনে জনগণের পাশে থাকতেন- তাদের সাথে ছিলেন। রাজপথে থেকে প্রতিবাদ করেছেন। এ রকম মানবতাবাদী মানুষ একজনই ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (১৯৪১-২০২৩)।

পঞ্চান্ন বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাল-সবুজের একটি দেশ অর্জিত হয়েছিল- যার নাম বাংলাদেশ। পাকিস্তানী শোষণের যাঁতাকল এবং শোষণ থেকে মুক্তির জন্য এদেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তির লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শুধু দেশেই নয়, বিদেশ থেকেও এই যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন অনেকে। এঁদের ভেতর তিনিও ছিলেন- জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বিদেশের চাকচিক্যময় জীবন, বিলাসী গাড়ি, বিপুল বেতনের মোহ হেলায় পরিত্যাগ করে মুক্তির লড়াইয়ে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। এই ন্যায় আর সাম্যের পথ তিনি তো পূর্বে বেছে নিয়েছিলেন যখন তিনি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম নেতা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম লড়াই শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জে ৪৮০ বেডের ‘বাংলাদেশ হসপিটাল’ গড়ে তোলার মাধ্যমে। দ্বিতীয় লড়াই শুরু হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে। নিরলস কাজ, বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সাধারণ জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়াস- এসবই তাঁকে তাঁর কর্মকাণ্ড বিস্তারে সহায়তা করেছে। এনে দিয়েছে সম্মান-বিশ্বজুড়ে। স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারত থেকে জেনারেল এম এ জি ওসমানী, এস এম রব, বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল প্রমুখসহ হেলিকপ্টারে দেশে ফেরার সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় শিকার হতে বেঁচে যান সবাই। মুক্তিযুদ্ধের লড়াইয়ের শেষে শুরু হয় আরেক লড়াই। প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে থাকার লড়াই। সেই শুরু। প্রতিজ্ঞাদৃঢ় মানসিকতার অধিকারী জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোনো প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেননি। যখনি প্রয়োজন হয়েছে অসুস্থ শরীর নিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলতে পিছপা হননি। প্রকৃতপক্ষে তাঁর জীবন নিবেদিত দেশ ও দশের কল্যাণে। বাংলাদেশে এমন একজন নয়, অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষের আজ বড্ড প্রয়োজন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একজন দিশারি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ কেন্দ্রে রেখে জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাঁর উদ্যোগ, সমাজভিত্তিক জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা হাজির করা ইত্যাদি দিয়ে হয়তো তাঁর অর্জনের কিছুটা বোঝা গেলেও অগোচরে রয়ে যায় তাঁর হাজার হাজার অবদান। দৈনিক সমকালের গুণীজন সম্মাননা-২০২৩ প্রকাশনার সম্পাদকীয়তে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘মুক্তিযুদ্ধের ক্রান্তিকালে জাফরুল্লাহ চৌধুরী নিজেকে আবিষ্কার করেছিলেন দেশের একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে। সেই তিনিই আবার স্বাধীন দেশে হয়ে উঠলেন স্বাস্থ্যসেবা, নারীপ্রগতি, গ্রামমুখী পেশাদারি বিকাশের নায়ক। জীবনের সায়াহ্নকালে এসে, বাংলাদেশসহ বিশ্বই যখন কোভিড-১৯ অতিমারির ভয়াল থাবার নিচে, সে সময় তিনি আবার দাঁড়ালেন করোনাভাইরাস পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের গবেষণা কাজে। তাঁর এই দায়িত্বশীল উত্থান বহু মানুষকে আশা দিয়েছে, অভয় দিয়েছে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী মাও সেতুং এর চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হলেও ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ তারপরে ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ অথবা তার পরবর্তী বিভিন্ন কাজে উনি মাও সেতুং এর চিন্তা ধারার চেয়েও বেশি লেনিনের স্বাস্থ্য ভাবনা নিয়ে প্রভাবিত হন। যা তিনি তাঁর  একাধিক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, সিরাজ শিকদার, সিরাজুল আলম খান, কাজী জাফর আহমেদ উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে মতের বিশাল পার্থক্য থাকলেও তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে যুদ্ধকালীন এবং পরে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক ছিল। ছাড়াও জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথেই তাঁর সুসম্পর্ক থাকলেও তা তিনি কখনো নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেননি। একাত্তরের পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবী সিরাজ শিকদারের স্ত্রীকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগ দানের মাধ্যমে আশ্রয় দেন। 

মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা বিশেষত্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সবার কাছে সহজ বোধ্য করা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার ক্ষেত্রে নিয়ম করলেন যে শুধুমাত্র বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। শুরু থেকেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তার কর্মীদের বেতনসহ সকল হিসেব-নিকাশ বাংলা মাস অনুযায়ী পরিচালনা করে সম্ভবত এদেশে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটাই এই নিয়মটা চর্চা করে। মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনে তিনি বিশাল অনুবাদ কার্যক্রম শুরু করলেন এক পর্যায়ে মাসিক গণস্বাস্থ্য নামে বাংলায় একটা পত্রিকা বের করলেন সেই পত্রিকায় নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ আমেরিকা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং ল্যান্সেট পৃথিবীর প্রধানতম চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় আর্টিক্যাল গুলো বাংলায় অনুবাদ করে নিয়মিত ‘মাসিক গণস্বাস্থ্যে’ ছাপা হতো। 

জাতীয় ঔষধ নীতি ১৯৮২-এর বিরোধিতা করেছেন অনেক মিডিয়া হাউস তার মধ্যে ছিলেন ইত্তেফাক, নিউনেশন অ্যান্ড প্লাজ এ তিনটি পত্রিকা তাদের আন্তর্জাতিক প্রভুদের প্রতি আনুগত্যের কারণে জাতীয় ঔষধ নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন এবং জাতীয় ঔষধ নীতি ১৯৮২-এর পক্ষের যেসব মিডিয়া কাজ করেন তার অন্যতম ছিলেন বিচিত্রা সম্পাদক শাহাদত চৌধুরী। বিচিত্রাসহ সাতটি মিডিয়া এটার পক্ষে কাজ করেছেন। সেই সময় ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নামে একটা সংগঠন গড়ে উঠেছিল যেটার অংশ হিসেবে একদল চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, নারী অধিকার কর্মীরা কাজ করেছেন এবং এখান থেকে প্রচুর ছোট ছোট পুস্তিকা বের করা হয়েছে মানুষের জনস্বাস্থ্য সচেতন করার জন্য। সাটুরিয়া ঘূর্ণিঝড় ১৯৮৮-এর বন্যা, ১৯৯১ ঘূর্ণিঝড় যে কোনো দুর্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র রিলিফ টিম কিংবা হেল্প টিম কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা চিন্তা রেখে ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’ কাজ করে যাচ্ছে। ফেনসিডিল যে একটা মাদক সেটাও ১৯৮২ সালে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন ডা. চৌধুরী। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রচণ্ড কাজ পাগল মানুষ ছিলেন। কাজ ছাড়া কিছু বুঝতেন না। দেশের কথা জনগণের কথা সর্বক্ষণ তার মনে ধ্বনিত হত। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। তাই কোনোকিছু না ভেবেই তিনি নিজে নিজে যা বুঝতেন তাই বলতেন। এমন জনগণ ও দেশপ্রেমিক মানুষের জন্ম সব সময় হয় না। তাদের জন্ম হয় যুগে যুগে। তিনি ছিলেন একজন নির্লোভ সাদা মনের মানুষ। থাকতেন একটা ভাঙাচোরা বাড়িতে তাও সেটা ছিল শ্বশুর বাড়ি, বাসায় আসবাবপত্র পুরাতন, পরতেন ছেঁড়া ও রিপু করা শার্ট প্যান্ট, চড়তেন ভাঙা গাড়িতে এবং যে ড্রাইভার গাড়ি চালাতেন তিনিও ছিলেন পুরাতন। একবার তার ড্রাইভার বলেছিল- স্যার গাড়িটা পাল্টান না কেন, আপনি ইচ্ছে করলেই তো একটা নতুন গাড়ি আসতে পারে? তখন তার কথার উত্তরে তিনি বলেছিলেন- তুমিও তো পুরাতন হয়ে গেছ তোমাকেও তাহলে পাল্টাব? এমনই মানুষ ছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সারা পৃথিবীর ডাক্তাররা তাকে শ্রদ্ধা করতেন। ঠিকঠাক খেতেন না- কোথাও গেলে রাস্তার টং দোকানে মুখরোচক খাবার খেতেও তিনি দ্বিধা করতেন না সবার সাথে বসে খেতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। 

মোহাম্মদ আব্দুল রউফ তার প্রবন্ধে বলেছেন- ‘বৃক্ষের স্বভাব নিয়ে জন্মেছিলেন এই মানুষটি। একটি বৃক্ষ যেমন তার সবটুকু উন্মূক্ত ও উজাড় করে দিয়ে নিরন্তরভাবে মানুষের মঙ্গলসাধন করে যায় এই মানুষটিও অনেকটা তাই ছিলেন। তিনিও তার সবটুকু উন্মূক্ত ও উজাড় করে ঢেলে দিয়ে এই দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গলসাধনে একজন সাধকের মতো করে কাজ করে গেছেন। তার সেই সাধনায় কোনো ছেদ ছিল না, ছিল না বিরতি ও বিশ্রাম। একান্ত একাগ্রচিত্তে নিশ্চিন্তে, নির্ভিক ও নিদ্বির্ধায় তিনি দেশ ও দেশের মানুষের পাশে পরিশুদ্ধ প্রাণশক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। ১৯৭১ সনে পাকিস্তানি বাহিনীর হায়েনার মতো আকষ্মিক আক্রমণের কথা আমাদের সবারই জানা। এই সময়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিলাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ডাক্তারি বিদ্যা অধ্যয়নে নিমগ্ন ছিলেন। মানুষ কখনো কখনো পাখি হয়ে যায়। কবি আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫) তাঁর একটি কবিতার নাম রেখেছিলেন ‘পাখি হয়ে যায় প্রাণ’। বাস্তবিকই তাই। মাঝেমাঝে প্রাণটা পাখি হয়ে যায়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও এই সময়ে পাখি হয়েছিলেন। তার মন ও মননের মধ্যে পরিযায়ী পাখির মতো দুটি ডানা গজিয়েছিল। উড়তে উড়তে সেদিন সাতসমুদ্র তের নদী পেরিয়ে তিনি তার মাতৃভূমির কাছে ফিরে এসেছিলেন, ফিরে এসেছিলেন তার মাটি ও মানুষের একান্ত সান্নিধ্যে। ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে তিনি কখনো এতোটুকু বিলম্ব করতেন না। তার জীবনটা ছিল অনেকটা কবি হেলাল হাফিজের (১৯৪৮-২০২৪) কবিতার মতো। হেলাল হাফিজ তার ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’তে লিখেছিলেন- ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’ জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার দেশমাতৃকার সেবা ও সান্নিধ্যে তার জীবন ও যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের সবটুকু উপুড় করে ঢেলে দিয়েছিলেন; নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দিয়েছিলেন তার দেশের কাছে। তার মতো যোদ্ধাদের অবদান ও অংশগ্রহণেই আজকের এই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। তার এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের অমূল্য সংবাদটি পাই ‘গেরিলা যোদ্ধা শাহাদত চৌধুরী’ শীর্ষক নিবন্ধে। এই নিবন্ধে তিনি নিজের চেয়ে তার সহযোদ্ধা শাহাদত চৌধুরীকে অমর করে তুলেছেন। মহৎ ও মহা মানবদের এই একটা বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেকে নয়, অপরকেই বড় করে তোলেন, বড় করে দেখেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরীও করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষে প্রায় সবাই যার যার মতো করে তাদের পেশা ও কর্মস্থলে ফিরে যায়। কিন্তু জাফরুল্লাহ চৌধুরী তা করেননি। তাঁর মুক্তিযুদ্ধ তখনো শেষ হয়নি। তিনি ছিলেন আজীবন মুক্তিযোদ্ধা। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি স্বাধীনতাকে সার্থক করে তোলবার জন্য কাজ করে গিয়েছেন; স্বাধীনতাকে জনমানুষের কাছে, জনজীবনের পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে গিয়েছেন তিনি। মানুষের মঙ্গলের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। মানুষের মঙ্গল ছাড়া কিছু বুঝতেন না তিনি। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন একজন কাজ পাগল, মানবদরদী ও দেশপ্রেমিক বীর।

লেখক: কবি। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন