গ্রাহকসেবা: সমস্যা প্রযুক্তিতে, নাকি ব্যবস্থায়?
ড. লিপন মুস্তাফিজ
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৩
ড. লিপন মুস্তাফিজ, ছবি: সংগৃহীত
মানব সভ্যতার ইতিহাসে ব্যবসা-বাণিজ্য কেবল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়; এটি সামাজিক সম্পর্ক, আস্থা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে বাণিজ্যের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে বিশ্বাসভিত্তিক লেনদেনের সংস্কৃতি, যেখানে একজন বিক্রেতার মূল সম্পদ ছিল তার সততা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সক্ষমতা। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ সালের দিকে সংগঠিত বাণিজ্যের সূচনা ঘটে এবং খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালের মধ্যে বণিক শ্রেণি সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। সেই সময় থেকেই ক্রেতার চাহিদা বোঝা, আস্থা অর্জন এবং সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যবসার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
শিল্প বিপ্লব এই সম্পর্ককে নতুন এক বাস্তবতায় নিয়ে আসে। বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়ে, প্রতিযোগিতা তীব্র হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয় গ্রাহককে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল উদ্ভাবনে। ‘গ্রাহক সেবা’ ধীরে ধীরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। কেবল পণ্য বিক্রি নয়, বরং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গ্রাহক সন্তুষ্টি ব্যবসায়িক সাফল্যের অন্যতম সূচকে পরিণত হয়। বিশ্বায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার গ্রাহক সেবাকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়। ১৯৪৬ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঝঃধহফধৎফরুধঃরড়হ বৈশ্বিক মান নির্ধারণের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। এর ফলে গ্রাহকেরা একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবা মূল্যায়নের সুযোগ পান, যা আস্থার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।
পরবর্তীতে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন গ্রাহক সেবাকে নতুন মাত্রা দেয়। ষাটের দশকে প্রাইভেট অটোমেটিক ব্রাঞ্চ এক্সচেঞ্জ প্রযুক্তির ব্যবহার বিপুল সংখ্যক টেলিফোন কল একসঙ্গে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘কল সেন্টার’ ধারণার উদ্ভব ঘটে, যা দ্রুতই গ্রাহক সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। একই সময়ে ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স প্রযুক্তি গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় সেবায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে, যা সময় ও শ্রম উভয়ই সাশ্রয় করে। ১৯৬৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে উন্নত কম্পেটিবল টাইম-শেয়ারিং সিস্টেম প্রথম হোস্ট-ভিত্তিক ইমেইল চালুর পথ তৈরি করে। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে ইমেইল গ্রাহক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেবা প্রদানে একটি কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের আচরণ বুঝে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সেবা দিতে সক্ষম হয়। আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত অনলাইন মেসেজিং এবং লাইভ চ্যাট প্রযুক্তির বিকাশ গ্রাহক সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং ইন্টারেক্টিভ করে তোলে। ২০০০ সালের পর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা একটি বৈশ্বিক শিল্পে পরিণত হয়, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে সেবার মান নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
২০০৬ সালে টুইটার চালুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের অভিযোগ, মতামত ও প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে শুরু করে। এর ফলে সেবার গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি জবাবদিহিতার চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইভ চ্যাটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গ্রাহক সেবাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও রিয়েল-টাইম করে তুলেছে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যতই হোক, গ্রাহক সন্তুষ্টির মূল নির্ভর করে সেবার গুণগত মানের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঝুংঃবসং ঝঁপপবংং গড়ফবষ (ডিলন ও ম্যাকলিন, ১৯৯৩; সংশোধিত ২০০৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো প্রদান করে। এই মডেল অনুযায়ী, গ্রাহক সন্তুষ্টি নির্ভর করে তিনটি মূল উপাদানের ওপরÑ তথ্যের গুণগত মান, সিস্টেমের গুণগত মান এবং সেবার গুণগত মান। এই তিনটির সমন্বয়েই একটি কার্যকর ও টেকসই গ্রাহক সেবা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। কিন্তু বৈশ্বিক এই অগ্রগতির বিপরীতে বাংলাদেশের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ই-কমার্সের দ্রুত বিস্তার সত্ত্বেও গ্রাহক সেবার মান এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এর পেছনে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, নীতিমালার অপর্যাপ্ত প্রয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং সর্বোপরি গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি। এই বাস্তবতা বোঝাতে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা যেতে পারে, যা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন। একজন গ্রাহক তার দৈনন্দিন ব্যয়ের প্রায় সবকিছুই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। একটি ই-কমার্স লেনদেনের সময় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ইমেইলের মাধ্যমে অনলাইন লেনদেন সুবিধা চালুর অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই অনুরোধের কোনো লিখিত জবাব না দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফোনে জানায় যে সেবা চালু করা হয়েছে। এই আচরণ সেবার স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ঘাটতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। পরবর্তীতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে তাকে জানানো হয় যে মোট বিল একত্রে পরিশোধ করলেই হবে এবং ব্যাংক নিজেই তা সমন্বয় করবে। গ্রাহক সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সম্পন্ন করেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিল সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়নি এবং অতিরিক্ত অর্থ স্থানীয় মুদ্রার অংশে রয়ে গেছে। অর্থাৎ, তথ্যের অস্পষ্টতা এবং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই সমস্যার সমাধান চাইতে গিয়ে গ্রাহককে আবার ইমেইল করতে বলা হয় এবং সেই ইমেইলে নিজের ভুল স্বীকার করতে বলা হয় যা কেবল অযৌক্তিকই নয়, বরং দায়িত্ব এড়ানোর একটি স্পষ্ট প্রয়াস। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইমেইলের মাধ্যমে কোনো লিখিত জবাব না দিয়ে শুধুমাত্র ফোনে যোগাযোগ করে, যা ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা এড়ানোর পথ তৈরি করে।
এই পুরো ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমস্যাটি একক নয়; বরং বহুমাত্রিক। প্রথমত, যোগাযোগের অসামঞ্জস্য যেখানে এক মাধ্যমে অনুরোধ গ্রহণ করা হলেও অন্য মাধ্যমে উত্তর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তথ্যের গুণগত মানের ঘাটতি যার ফলে গ্রাহক বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তৃতীয়ত, সিস্টেমের দুর্বলতা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক সমন্বয় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এবং সর্বোপরি, সেবার মানের অবনতি যেখানে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে দায় গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। এখানেই ডিলন ও ম্যাকলিনের মডেলটি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। উল্লিখিত ঘটনাটিতে তথ্য, সিস্টেম এবং সেবা তিনটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জন তো দূরের কথা, বরং অসন্তোষ ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর, কারণ আস্থা একবার নষ্ট হলে তা পুনর্গঠন করা অত্যন্ত কঠিন।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গ্রাহক সেবাকে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। সেখানে প্রতিটি অভিযোগকে উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতাকে (পঁংঃড়সবৎ বীঢ়বৎরবহপব) ব্যবসার কেন্দ্রে রাখা হয়। বিপরীতে, আমাদের দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও গ্রাহক সেবাকে একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়, যেখানে সমস্যা সমাধানের চেয়ে দায় এড়ানো বেশি গুরুত্ব পায়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে এই মনোভাব দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য বড় বাধা। কারণ এখন গ্রাহকের সামনে বিকল্পের অভাব নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা আগের চেয়ে অনেক সহজ। ফলে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি টিকে থাকার পূর্বশর্ত। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, গ্রাহক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি যোগাযোগের লিখিত রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সকল যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে, যাতে গ্রাহক বিভ্রান্তির শিকার না হন। তৃতীয়ত, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। চতুর্থত, প্রযুক্তির ব্যবহারকে কেবল প্রদর্শনীমূলক না রেখে কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নীতিমালা ও কার্যক্রমে গ্রাহককে কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে। ‘গ্রাহকই সর্বাগ্রে’ এই ধারণাটি কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে প্রতিফলিত হতে হবে। সবশেষে বলা যায়, গ্রাহক সেবার উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং মানসিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই তিনটি ক্ষেত্রেই উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তাই এখনই সময় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার। প্রশ্নটি তাই আবারও সামনে আসে আমাদের সমস্যাটি কি কেবল সেবার দুর্বলতা, নাকি পুরো সেবা ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিক নির্দেশনা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে আমরা কি প্রযুক্তিকে সেবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছি, নাকি সেবার মান উন্নয়নের সহায়ক হিসেবে? বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তি নিজে কখনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি কেবল একটি মাধ্যম। যদি সেই প্রযুক্তির পেছনে দায়বদ্ধতা, দক্ষতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক মানসিকতা না থাকে, তবে তা কেবল জটিলতা বাড়ায়। বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট, ই-কমার্স সবকিছুই মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু এই সুবিধাগুলোর সঙ্গে সেবার মানের সমন্বয় না হলে, গ্রাহকের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হওয়ার বদলে নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমস্যা সমাধানের জন্য গ্রাহককে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ঘুরতে হয় কল সেন্টার, ইমেইল, শাখা অফিস যা একটি কার্যকর সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া, গ্রাহক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা (পড়সঢ়ষধরহঃ সধহধমবসবহঃ ংুংঃবস) এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে দুর্বল। অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে, বরং সেটিকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একটি অসন্তুষ্ট গ্রাহক শুধু নিজেই সরে যায় না; সে তার অভিজ্ঞতা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে। এই প্রেক্ষাপটে, নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়; তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, গ্রাহকদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে অবগত থাকে এবং প্রয়োজনে প্রতিকার চাইতে পারে। সর্বোপরি, একটি টেকসই ও কার্যকর গ্রাহক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রযুক্তি, নীতি এবং মানসিকতার মধ্যে একটি সুসংগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় কোন প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে এবং কোনটি পিছিয়ে পড়বে।
লেখক: সাহিত্যিক, ব্যাংকার ও কলাম লেখক।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

