ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দলীয়ভাবে কারও কাছে আবেদন চাওয়া হয়নি। তবু মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম দিনেই ৫০০’র বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত ফরম বিক্রি চলবে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে থাকা নারীনেত্রী এবং মহিলা দলের নেত্রীদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল-সংযুক্ত তরুণ নেত্রীরাও মনোনয়ন–দৌড়ে আছেন। অনেকে অতীতের আন্দোলনে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রোফাইল (জীবনবৃত্তান্ত) তৈরি করে নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে পাঠাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে বলে জানিয়েছেন ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেককে জাতীয় সংসদ এলাকায় দেখা যাচ্ছে। তাদের অনেকে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। সাক্ষাৎ করতে না পেরে নীতিনির্ধারণী নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় রাখা হবে। অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি তুলনামূলক তরুণ, শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের একটি বড় অংশ সুযোগ পেতে পারেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীদের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া সমাজের বিভিন্ন পেশায় ‘পরিচিত’ মুখ থেকেও কয়েকজনকে মনোনয়নের জন্য বাছাই করা হতে পারে।
প্রথম দিনেই পাঁচ শর বেশি ফরম বিক্রি: শুক্রবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছে। এই সময়ে ৫০০র বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে। আর জমা পড়েছে ১৯টি।
আলোচনায় আছেন যারা: দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকাদের বিষয়ে একটা ধারণা পাওয়া গেছে। তাদের অনেকেই প্রথম দিনেই মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। তাদের মধ্যে মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম, সহপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আক্তার, সহ-স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফা সুলতানা, মহিলা দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ, সহত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক নুরুন্নাহার রেজা, সাবেক সদস্য সানজানা চৈতি, মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন, সিলেট বিএনপির তাহসিন শরমিন তামান্না প্রমুখ।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, নীলুফার চৌধুরী, বিলকিস ইসলাম, সৈয়দা আসিফা আশরাফী, রোখসানা খানম, আয়েশা সিদ্দিকা, নেওয়াজ হালিমা, ফরিদা ইয়াসমীন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হওয়া সানসিলা জেবরিন, সাবিরা সুলতানা ও চৌধুরী নাদিরা আক্তার, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের মনোয়ারা বেগম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা মহিলা দলের আহ্বায়ক রুমা আক্তার প্রমুখ।
আলোচনায় আরও রয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দীন মওদুদ, প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সালিমা বেগম, বিএনপি সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য হতে আগ্রহীদের মধ্যে আরও রয়েছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক খায়রুন নাহার, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, মহিলা দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন, মহিলা দলের নেত্রী আসমা আজিজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন, বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, মহিলা দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব নাসিমা আক্তার, খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী, ঢাকার কোতোয়ালি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগম, সাবেক ভিপি অধ্যাপক নাজমা সুলতানাসহ অনেকে।
নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘সাতজনের বেশি রাস্তায় আন্দোলনে ছিল না, এখন শুনছি ৭০০ আবেদন জমা পড়েছে। আমরা জেল খেটেছি, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি, রিমান্ডে থেকেছি, আন্দোলনের প্রতিটা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। এখন দলের কাছে প্রত্যাশা, আমরা যারা মাঠে ছিলাম, তাদের যেন মূল্যায়ন করা হয়।’
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘যোগ্যতা থাকার পরও অনেক নারীনেতা সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাননি। আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বিগত সময়ে মাঠের ভূমিকা—সবকিছু বিবেচনা করেই নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।’
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আমি মনে করি, বিগত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদের কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার যোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনা করা হবে।’
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

