Logo

রাজনীতি

ভুল পথে এগোচ্ছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৪

ভুল পথে এগোচ্ছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির

গণভোটসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ‘ভুল পথে এগোচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানাব, আসুন, ভুল মানুষই করে, আমরাও করতে পারি। জাতি মনে করে স্পষ্টত আপনারা এগুলা ভুলের মধ্যে লিপ্ত আছেন। আপনারা ভুল থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে গণভোটের গণনায়কে মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন।’

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন। 

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব এটা বাস্তবায়নের জন্য। এরপরে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে মুক্ত করার জন্য, সেইগুলো আপনারা কথা দিয়েছেন বিল আকারে আনবেন। সেসব বিল জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে আনেন।’

জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলব, যেভাবে ওই অধ্যাদেশে ছিল, তার চাইতে চুল পরিমাণ পিছনে যেন না যায়। সামনে আগানোর যদি কিছু থাকে, সেটাকে আমাদের সাধুবাদ। কিন্তু জনগণের পরে ফ্যাসিজম কায়েম করার জন্য সামান্য কোনো ময়লা আবর্জনা যদি থাকে, সেটা আমরা মানব না।’

সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে একজন বলেছিলেন যে সমাজে অনেক ময়লা আছে, এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তিনি (স্পিকার) বলেছিলেন, সমাজ পরিচ্ছন্ন আছে, ময়লা ‘এখানে’ আছে। এই জায়গা পরিষ্কার হয়ে গেলে সমাজও পরিষ্কার হয়ে যায়। উই ডু বিলিভ; আমরা এটা সাপোর্ট করি। এই সংসদের তিনশ জন মানুষের মন যদি দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, দায়িত্বশীল হয়ে যায়, বাংলাদেশ বদলে যাবে ইনশাল্লাহ।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সুস্থ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতেই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।’

তার দাবি, গত নির্বাচনে কীভাবে ‘কারচুপি’ করা হয়েছে, তা সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যেই ‘স্পষ্ট’ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে ইচ্ছামত সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।’

জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে ‘জনগণের এজেন্ডা নিয়ে’ সরব থাকবে জানিয়ে দলটির আমির বলেন, “দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে উঠতে হবে৷ আমরা জনগণের পাশে থাকব।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতির সেই স্লোগান কে মানে, কে মানে না–ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আর আমরা কার্যত দেখতে পাই, দেশের চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এই চরিত্রকে পাল্টাতে হবে। রাজনীতির এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আর চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে এই সংস্কৃতির চর্চা চলবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব। জনগণের সাথে হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করব ইনশাল্লাহ।’

ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আসুন, সংকটকালে লুকোচুরি নয়। আমরা বারবার নোটিস দিয়েছি এই নোটিসগুলো আলোচনায় আসে না। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি–এগুলো নিয়ে আলোচনা করি। সরকারি দলের এগুলো আলোচনা করা পছন্দ না। শুধু লোকচুরি। ভাই, এগুলা তো সব আপনাদের সৃষ্টি না। এটা গ্লোবাল প্রবলেমের কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা বুঝি না এগুলা? আমরা তো মানুষ। আমরা খোলা মনেই তোৃ সবাই চাই সমাধান বের হয়ে আসুক। আমরা এখনো আহ্বান জানাব, সংসদে, সংসদের বাইরে, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তোরণে আমরা একসাথে কাজ করি।’

সম্প্রতি বগুড়ার উপ নির্বাচন এবং শেরপুরের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি বলেন, ‘এ দেশ তো আমাদের দেশ। এর মাঝে আরো দুই বিপত্তি ঘটে গেছে–বগুড়া এবং শেরপুর। এখন লোকরা বলে ছিয়ানব্বইতে মাগুরা, আর ছাব্বিশে এসে বগুড়া। কেন রে ভাই, দরকার আর কী ছিল? ফেয়ার ইলেকশন করে আপনারাই জিতেন, না হয় আমরাই জিতি। গণরায়টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু সেখানে দেখেছেন কী ঘটনা ঘটেছে? আমি ভাই লজ্জিত।’

নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নাম না নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছু মিডিয়া, আমি সবার কথা বলছি না, ‘অমুক ভাই তিনগুণ ভোটে বিজয়ী হয়েছে’। ভাই আপনিও তো সেখানে ছিলেন, মানে আপনার একজন বন্ধু সেখানে ছিল। খোলা চোখে আপনি দেখেন নাই সেখানে কি হয়েছে? সবই দেখেছে। একদম সিলমারা ব্যালট এবং এজেন্টকে ধরে আপনাদের সামনেই তো আপনাদের মাধ্যমে তো জাতির সামনে নিয়ে এসেছি। তারপরে আপনারা (কিছু গণমাধ্যম) কেমনে বলেন রে ভাই। সবাই না, যারা এরকম করেছেন, তাদের ব্যাপারে আমি লজ্জিত, তারা লজ্জিত কিনা আমি জানিনা। লজ্জিত হওয়া উচিত ।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই অঙ্গনের আলহামদুলিল্লাহ সুনাম অক্ষুণ্ন থাকুক আমরা চাই। আমরা বরাবর বলেছি, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। আমি কালো হলে আমাকে বলে দেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার সাদাটাকে মেহেরবানী করে বাদামী এবং কালো বানাতে যাইয়েন না। এটা ভালো জিনিস না। টুকরা টুকরা কাট-পিস এখান থেকে ওখানেৃ আজকেও কী করবেন আপনার আল্লাহই জানে। আশা করি আজকে ইনসাফ করবেন। কেউ এই কাজ করবেন না। দিলে পুরাটা দিবেন। না দিলে পুরাটা ফেলে দিয়েন–এটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু আপনাদের মত করে আমাদের বক্তব্যটাকে ভাই বৈজ্ঞানিক আকারে উপস্থাপন করবেন না। আমরা সাদাসিধা মানুষ ভাই, সাদাসিধা বক্তব্য এগুলো, সাদাসিধা ভাবেই, স্পষ্টভাবে আপনারা তুলে ধরবেন, এটা আপনাদের কাছে আমাদের বিনয়ী আহ্বান।’

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব। দেশবাসী, অধিকার কেউ আপনাকে ঘরে এনে দেবে না। বলবেন–‘আর কত ত্যাগ’? হ্যাঁ ত্যাগের রাস্তায় বোধহয় আরো কিছুদূর আমাদের চলতে হবে এবং কালো রাতের অবসান ঘটবে ইনশাল্লাহ। কে বাঁচব, কে মরব জানি না, কোন দল ক্ষমতায় আসবে কোন দল ক্ষমতা থেকে যাবে তাও জানি না। কিন্তু এটা জানি যে মহান আল্লাহ, তিনি কখনো তার সৃষ্টির প্রতি অবিচার করেন না। সুতরাং সুবিচার পাব, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।

বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আবার কেন সেই পুরানা সংস্কৃতিতে ফিরে যাব?... এগুলো যখন বিদ্যমান থাকবে, আমরা আশঙ্কা করছি, অতীতের ফ্যাসিজমের চাইতে আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরো ভয়াবহ। এইজন্য আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল্যবোধ হচ্ছে, মানুষের অধিকাংশের রায়কে সম্মান করা; আর এখানে অধিকাংশের রায়কে করা হল অপমান ‘

জেলা আমির সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ নায়েবে আমির ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন