Logo

রাজনীতি

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান

Icon

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১৬:৫৭

পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান

সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি গ্রাম- এই দর্শনকে সামনে রেখেই রাজনীতির পথচলা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। চার দশকেরও বেশি সময় পর সেই ধারাবাহিকতাকেই নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কারণ কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র অর্থনীতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশই এখনও গ্রামকেন্দ্রিক। ফলে গ্রামের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে গ্রামমুখী উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি শহরে নয়, গ্রামে। সেই চিন্তা থেকে খাল খনন কর্মসূচি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠনের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তাঁর এসব পদক্ষেপ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে একই দর্শনের অনুসারী। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশ ও সাধারণ মানুষের মতামতকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন। রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এই উদ্যোগ তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সংগঠন পরিচালনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে আসেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নিচ্ছেন তারেক রহমান। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, জেলে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে তিনি জাতীয় অগ্রগতির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। এর ফলে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গ্রামবাংলার মানুষের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে এগোচ্ছেন তারেক রহমান, তা ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামীণ বাংলাদেশের উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার যে আলো জ্বলতে শুরু করেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রয়েছেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন