১১ দলের লংমার্চ
আট দফা না মানলে এক দফা হবে: শফিকুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৭
# সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে ব্যর্থ: গোলাম পরওয়ার
# সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন: কর্নেল অলি
# দাবি আদায় না করে রাজপথ ছাড়ব না: মামুনুল হক
# নতুন স্বৈরাচার সরকার গজিয়ে উঠেছে: নাহিদ
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের ৮ দফা ৯ দফা, ১০ দফায় পরিণত হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটি এক দফায় পরিণত হতে পারে। ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে আরও যেসব দাবি তুলে ধরা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
শনিবার বিকেলে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আমরা শুধু ডাক দিয়েছি আসেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে চাই। অমনি আপনারা ঘর থেকে বের হয়ে আজকে বগুড়ার এই জায়গাটাকে একটা জনসমুদ্রে আপনারা পরিণত করেছেন। আপনাদেরকে মোবারকবাদ। আমরা কেন এই লং মার্চের ডাক দিলাম? সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭০ ভাগ জনগণ রায় দিলো গণভোটে হ্যাঁ বলে। আপনারাও সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও ভোট চেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গায় আছি। আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সাথে প্রতারণা না করতেন, আজকে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতো না।’
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সাত মাস চলে গেছে। সংসদের তিনটি অধিবেশন অতিক্রান্ত হলো। আপনারা জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠন করেছেন, আপনারা সনদ বাস্তবায়ন করেন নাই কেন? আপনারা বলেছিলেন, দুর্নীতি টুঁটি চেপে ধরবেন। আপনারা বলেছিলেন, এক কোটি মানুষকে আপনারা চাকরি দিবেন। আপনারা এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছেন। দুর্নীতির রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দিবেন। এখন যিনি মহামান্য প্রেসিডেন্ট, তিনি তখন বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন মাঠে-ময়দানে। তার স্লোগান ছিল গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। এখন আমাদের স্লোগান হলো গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। আমরা তো নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে স্লোগান দিয়েছিলেন, সেটাই আমরা বলছি। আপনারা দিচ্ছেন না বলেই আমাদের লং মার্চ।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার আপনারা কেড়ে নিচ্ছেন। আমাদের সন্তানরা, আমরা মিলে যুদ্ধ করে, লড়াই করে ২৪-এ ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে তাদের চাকরির অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জীবন দিয়েছে ১৪০০ সন্তান। আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনে আরেকবার জীবন দিতে প্রস্তুত। তবু বৈষম্য আমরা বরদাস্ত করবো না। জায়গায় জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে মানুষকে শোষণ করছেন। আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো। এর জন্য আমাদের লংমার্চ।
সার ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার কৃষক বন্ধুটি সার পায় না। ঠিক ১৪০০ টাকার সার তাকে ২২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। বিদ্যুৎ দিতে পারে না। আবার ডাবল, ট্রিপল বিল দেন আমাদের হাতে ধরায়ে।
বিদ্যুৎমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই বগুড়ার পাশের ডিস্ট্রিক্ট হলো সিরাজগঞ্জ। তাই না? মন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ি ওখানেই। উনি বলে যে, আমাদের দেশে কোনো লোডশেডিং নাই, বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নাই, গ্রামে বিদ্যুতের তার একটু লম্বা, এইজন্য বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না। লজ্জা! এ রকম একজন অপদার্থ মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার আমলে প্রতিমন্ত্রী ছিল, ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তার সন্তান এসে তাকে প্রমোশন দিয়ে ফুল মন্ত্রী বানিয়েছে। যা হবার তাই হচ্ছে, জাতির ১২টা বাজতেছে।
আট দফা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের আট দফা মানা হোক, আমরা এটা চাই। এই আট দফা কোনো দলের নয়, গোষ্ঠীর নয়, ব্যক্তির নয়। এই আট দফা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের। এই আট দফা যদি মানা হয়, এক দফার দরকার নাই। যদি আট দফা মানা না হয়, তাহলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকো। সেই এক দফার ডাক আমরা দিতে যদি বাধ্য হই, তাহলে ইনশাআল্লাহ একসাথে লড়াই করে জনগণের বিজয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।
নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে রাস্তায় আসতে আসতে দেখলাম, হাজার হাজার মা-বোন তারা রাস্তায় নেমে আমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। ২৪-এর আন্দোলনে মা-বোনেরা নেমেছিল। সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
কুমিল্লার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদ ইসলাম বললেন যে, দুইদিন নিখোঁজ থাকার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাহিদা ম্যাডামের কলিজার টুকরা সন্তান, বয়স মাত্র ১৩ বছর, ক্লাস সেভেনের ছাত্র। বাবা একটা পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, সন্তানকে কোথায় খুঁজবো, সমুদ্রে না জঙ্গলে? সন্তানের লাশ পাওয়া গেল। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।’
সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে ব্যর্থ- গোলাম পরওয়ার: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। লংমার্চে কোটি মানুষের কাছে আমরা সেই বিশ্বাসঘাতকতার কথা, ব্যর্থতার কথা পৌঁছে দিতে চাই। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের বাঁচা মরার সমস্যা তিস্তা পাড়ের মানুষের মুক্তির জন্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিলম্বের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে লংমার্চ সফল করব।
এর আগে এদিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চকে ঘিরে দেশব্যাপী মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে সরকারের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক।
গোলাম পরওয়ার বলেন, লং মার্চ সফল করতে দেশব্যাপী যে জনসম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সরকারের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এত আগে লং মার্চের প্রয়োজন কী এবং এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলতে চাই, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের লং মার্চ গণতান্ত্রিক।’ তিনি বলেন, পথে পথে মানুষের কাছে তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। মানুষের সঙ্গে যে বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে, সেই বিষয়গুলোও তুলে ধরার জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
লং মার্চ সফল করতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে লং মার্চ সম্পন্ন করতে সরকার ও প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন- কর্নেল অলি: এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না; বরং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন। গতকাল সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় কর্নেল অলি বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
গণদাবি আদায় না করে রাজপথ ছাড়ব না- মামুনুল হক: গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ গণদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক। গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের যাত্রাপথে গাজীপুরের ভোগড়া মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘এই ১১ দল গণদাবি আদায়ের জন্য যে রাজপথে নেমেছে, এ রাজপথ থেকে বিজয় নিয়ে আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে শনিবার ঢাকার ঐতিহাসিক মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিধন্য রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়েছে। উত্তর জনপদ থেকে যে জাগরণ শুরু হবে, তা গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটের রায় কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের আর কোনো বিকল্প পথ নেই। আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ইনশাআল্লাহ তারা নিজেরাই নিজেদের হাতে তুলে নেবে। বিদেশি অপশক্তির কোনো হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।’
মামুনুল হক বলেন, ‘শহিদ শরীফ ওসমান হাদি, দেশপ্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ যাদের গুম, খুন ও হত্যা করা হয়েছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার জনগণ আদায় করে ছাড়বে।’
হত্যাকারীদের বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি নিয়ে যারা খেলার চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে থাকবেন তো, ইনশাআল্লাহ।’
নতুন স্বৈরাচার সরকার গজিয়ে উঠেছে- নাহিদ: বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা এক স্বৈরাচারকে হটিয়েছি, নতুন এক স্বৈরাচার সরকার গজিয়ে উঠেছে বাংলাদেশে। আমাদের সামনে কঠিন লড়াই।’
গতকাল দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় বিশেষ অতিথির তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গত ৭ মাসে জনগণের সঙ্গে পদে পদে প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল দেশের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, বৈষম্য, থাকবে না। সবই রয়ে গেছে, শুধু স্বৈরাচার পলাতক শেখ হাসিনা দিল্লিতে চলে গিয়েছে। আমরা দেখেছি, কিভাবে র্যাবের বিলুপ্তির কথা বলে, তারা র্যাবকে এসআরবি পরিণত করেছে। একইভাবে হাসিনার সরকার তারেকের সরকারে পরিণত হয়েছে। জনগণ একই আছে, আইনকানুন একই আছে, শুধু লোক বদলিয়েছে। দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারা বলেছিল ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থান করবে, কিন্ত তারা সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিকদলের। আমরা এই রকম বাংলাদেশ হতে দেবো না।’
টাঙ্গাইলের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরি। আমরা বাংলাদেশের জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে যে নতুন স্বৈরাচার, সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম।’
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সকাল ৮টার দিকে সমাবেশ শেষে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গীতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ফুল ও স্লোগানের মাধ্যমে বহরকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে পথসভায় অংশ নেয় লং মার্চের বহর। পথসভা শেষে বহরটি রংপুরের উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হয়। সবশেষে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সামনে আরও দুই লংমার্চ: ১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। ১১–দলীয় ঐক্যের সূত্রগুলো বলছে, লংমার্চ ও সমাবেশ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপেও রাখার বিষয়টিও আছে। লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। তবে জোটের সূত্র বলছে, ঘোষিত চারটি লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে লংমার্চ হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

