Logo

ধর্ম

চাঁদ দেখা গেছে

পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১৯:১৫

পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ১০ জিলহজ অর্থাৎ ২৮ মে (বুধবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্‌যাপিত হবে।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে মঙ্গলবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হচ্ছে এবং ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।

আগামী ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফাতের দিন পালিত হবে ২৭ মে এবং পরদিন ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ২৮ মে সারাদেশে উদ্‌যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

সভায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে সোমবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে। সেই অনুযায়ী সৌদি আরবে আগামী ২৬ মে পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশও ২৭ মে ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হজ পালনের মাস জিলহজ। এই মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ গুরুত্ব ও ও তাৎপর্য রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এই দশকের রাতগুলোর শপথ করেছেন। 

বর্ণিত হয়েছে, ‘শপথ প্রত্যুষের এবং দশ রাতের।’ (সূরা ফাজর, আয়াত : ১-২) অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘যাতে তারা তাদের কল্যাণময় স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদের চতুষ্পদ জন্তু থেকে যা রিজিক হিসেবে দান করেছেন, তার ওপর নির্দিষ্ট দিনগুলোয় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ (সূরা হজ, আয়াত : ২৮) 

প্রথম আয়াতের ‘দশ রাত’ এবং দ্বিতীয় আয়াতের ‘নির্দিষ্ট দিনগুলো’ থেকে জিলহজ মাসের প্রথম দশককেই বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে হাদিসে এ মাসের প্রথম ১০ দিনকে শ্রেষ্ঠতম দিন বলা হয়েছে। যেমন হজরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হবে।’ প্রশ্ন করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসূল সা.! আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা থেকেও কি অধিক প্রিয়?’  রাসূল সা. বললেন, ‘হ্যাঁ, যুদ্ধ করা থেকেও অধিক প্রিয়। তবে যদি এমন হয় যে ব্যক্তি তার জানমাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হলো এবং এর কোনো কিছুই ফেরত নিয়ে এলো না।’ (বুখারি ও তিরমিজি)

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন