Logo

ধর্ম

পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, ইতিহাস ও গুরুত্ব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৯

পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা আজ, ইতিহাস ও গুরুত্ব

হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলে। সফর মাসের শেষ বুধবারে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রচণ্ড অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করলে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান সদকা করেন ও শুকরিয়া আদায় করেন বলে মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালিত হয়।

এ জন্য কোনো কোনো দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ দিনে দান সদকাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত পালন করেন। বাংলাদেশে এ দিবস উপলক্ষে বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি উল্লেখ আছে। 

‘আখেরি চাহার সোম্বা’ একটি ফারসি ও আরবি মিশ্রিত পরিভাষা। ফারসি ‘আখেরি’ শব্দের অর্থ শেষ, ‘চাহার’ শব্দের অর্থ চার বা চতুর্থ (এখানে সফর মাস নির্দেশক) এবং 'সোম্বা' শব্দের অর্থ বুধবার। অর্থাৎ শব্দগুচ্ছের পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায়—সফর মাসের শেষ বুধবার।

ইসলামি ইতিহাস ও প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার জীবনের শেষভাগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সফর মাসের শেষ বুধবারে তার শারীরিক অবস্থার সাময়িক উন্নতি ঘটেছিল এবং তিনি গোসল শেষে সাহাবিদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন এমন বর্ণনাকে কেন্দ্র করেই উপমহাদেশে আখেরি চাহার সোম্বার প্রচলন ঘটে। তবে এই সংক্রান্ত ঐতিহাসিক কাহিনীর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে।

কেন পালিত হয় এই দিন?

প্রচলিত ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ থাকার সময় সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠার সংবাদে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল সফর মাসের শেষ বুধবারে। মহানবী (সা.)-এর সেই সুস্থতার স্মরণে পরবর্তী সময়ে মুসলিম সমাজে দিনটি বিশেষভাবে পালনের রীতি গড়ে ওঠে।

অনেক মুসলিম এই দিনটিকে শুকরিয়া আদায়ের উপলক্ষ হিসেবে পালন করেন। এদিন গোসল, দুই রাকাত নফল নামাজ, দোয়া ও দান-খয়রাতসহ বিভিন্ন ইবাদত করার প্রচলন রয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

তবে আখেরি চাহার সোম্বার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং এর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ উপলক্ষে ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়।

এ দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নফল নামাজ, তিলওয়াত, জিকির, খাস দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন। বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ধর্মীয় সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে নির্দিষ্টভাবে আখেরি চাহার সোম্বাকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো নির্ধারিত আমল বা এর পৃথক ফজিলত ইসলামি শরিয়তে বর্ণিত আছে কি না, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ বিদ্যমান:

একাংশের মতে: নবীজি (সা.)-এর সাময়িক সুস্থতায় শুকরিয়া আদায়স্বরূপ নফল ইবাদত, দান-সদকা ও মিলাদ মাহফিল করা বরকতপূর্ণ।

অন্যান্য গবেষক আলেমদের মতে: কোরআন বা বিশুদ্ধ হাদিসে আখেরি চাহার সোম্বার জন্য বিশেষ কোনো ইবাদতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার ভিত্তি নেই। তাই যেকোনো সাধারণ নফল ইবাদত হিসেবেই দোয়া-কালাম পড়া উত্তম।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন