-67af1eb00ab05.jpg)
মসজিদ শব্দটি প্রমাণ করে এটি একটি পবিত্র স্থান। কারণ, মসজিদে দ্বীনদার ব্যক্তিরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে গমন করেন। মসজিদে এসে তারা তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সালাত আদায়ের মাধ্যমে সিজদাবনত হন।
অপরদিকে দখলকৃত শব্দটি প্রমাণ করে এটি একটি গর্হিত কাজ। দখলকৃত মানেই অন্যের জায়গা জবরদখল করা। জবরদখলকৃত জমি অবৈধ ও হারাম। তাই শরীয়তে জবরদখল করা জমি কখনই পবিত্র কাজের জন্য উপযুক্ত হতে পারে না। এমন কাজ যেমন দুঃখজনক, তেমনি এটা ইবাদতের সাথে একধরনের প্রতারণাও বটে।
ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। আল্লাহর জন্য ইবাদত কবুল হওয়ার শর্ত হলো- হালাল উপার্জন ও বৈধভাবে ইবাদত করা। অন্যথায় আল্লাহ সে ইবাদত কবুল করেন না। তাই দখলকৃত জায়গায় মসজিদ নির্মিত হলে সে মসজিদের যাবতীয় ইবাদত কবুল হবে না।
একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আমাদের জন্য পুরো জমিনকে মসজিদ বানানো হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫২২) তাই পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের জমিনে সালাত আদায়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে শরয়ী অর্থে মসজিদ নির্মাণের জন্য অবশ্যই নিষ্কন্টক ও নির্ভেজাল জমি হতে হবে। মসজিদের জন্য নির্ধারিত জমি অবশ্যই ওয়াকফ হতে হবে।
কারো মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক মসজিদ নির্মাণা করা যাবে না। এ সূত্রে দখলকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হবে অবৈধ কাজ। এ ক্ষেত্রে আমরা মসজিদে নববীকে উপস্থাপন করতে পারি। বিনামূল্যে জমি দিতে চাইলেও নবীজী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা গ্রহণ করেননি। তিনি মূল্য পরিশোধ করার পর মসজিদ নির্মাণ করেছেন।
ফাতওয়ার গ্রন্থগুলোতে দেখা যায়- ওয়াকফবিহীন জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হলে সেটা শরয়ী মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে না। অতএব, এ সকল মসজিদে সালাত আদায় করা হলে তা আদায় হয়ে যাবে বটে, তবে অনৈতিকতার দায় বহন করতে হবে, যারা অন্যায়ভাবে জমি দখল করেছেন তাদের ওপর।
আসলে আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে জমি দখল হয়ে থাকে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে তো অবশ্যই মালিকের অনুমতি প্রয়োজন হবে এবং ওয়াকফ করতে হবে। অন্যথায় নির্মিত মসজিদ ভেঙে জমির মালিককে জমি বুঝিয়ে দিতে হবে। সমস্যা হলো- এ ধরনের মসজিদ নির্মাণ একটি তামাশায় পরিণত হয়। কেউ একবার নির্মাণ করে, পরে আবার সেটা ভেঙে ফেলতে হয়।
আর জমি যদি খাস বা সরকারি হয়, তবে এ ক্ষেত্রে মসজিদ নির্মাণের পূর্বেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে। তবে পরে অনুমতি নিলেও তা কার্যকর হবে। অবশ্য অনেক ক্ষেত্রে কিছু অসাধু মানুষ মসজিদ নির্মাণের নামে খাস বা সরকারি জমি দখল করে। পরে মসজিদ কেন্দ্রিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে, যা একেবারেই কাম্য নয়। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
লেখক : সাবেক প্রফেসর, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশের খবরের ইসলাম বিভাগে লেখা পাঠান এই মেইলে- [email protected]
বিএইচ/