-67e4bcc2f2da5-67e621185d0ca-67e770a0ac575-67ee02d19fff4.jpg)
প্রথম আলো প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ইউনূস-মোদির বৈঠক হচ্ছে ব্যাংককে’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকটি আগামী শুক্রবার হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলিসংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমানও কথা বলেছেন। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এই বৈঠকের জন্য সরকারিভাবে অনুরোধ করেছি। আমাদের আশা করার সংগত কারণ আছে যে বৈঠকটি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে এই দুই নেতার বৈঠক হবে বলে খবর প্রকাশ করেছে।
২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা।
কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘চিকিৎসায় বিদেশে যাচ্ছে বিপুল অর্থ’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত ভিসা সীমিত করায় দেশের রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমেছে। এতে অনেক রোগী এখন দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই সুযোগে দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসাসেবায় আস্থার সংকট কাটানোর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ালে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, এই খরচ আরো অনেক বেশি।
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার ন্যূনতমও ব্যাংকের মাধ্যমে যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাংকের যে অর্থ যাচ্ছে, তা প্রকৃত চিত্রের নগণ্য পরিমাণ।
অনেকেই মানি এক্সচেঞ্জারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে। ব্যাংক থেকে নিলে সেই হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকছে। আবার মানি এক্সচেঞ্জারগুলো সঠিক হিসাব না দিলে তা থাকছে না। অন্যদিকে মানুষ এনডোর্স করা অর্থের বেশি নিয়ে যায়। আরেকটি বিষয় হলো, ক্রেডিট কার্ডে খরচের খাত বলা হয় না। বাস্তবে ব্যয় সরকারি হিসাবের চার-পাঁচ গুণ বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
মানবজমিন প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘সরগরম তৃণমূল রাজনীতি’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ভিন্ন এক আবহে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর প্রথম ঈদ আনন্দ। মুক্ত পরিবেশে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। গত ১৬ বছর এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল বিরোধী দলগুলো। এবারের ঈদে ব্যতিক্রম শুধু আওয়ামী লীগ। টানা ১৬ বছর দেশ শাসন করে চরম কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা দলটির নেতাকর্মীদের বেশির ভাগই পলাতক না হয় আত্মগোপনে। শীর্ষ নেতাদের অনেকে আছেন কারাগারে।
রাজনীতির ময়দানে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যসব রাজনৈতিক দলের নেতারা তৎপর। আগামী নির্বাচনের আগে এবারের ঈদে সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূল রাজনীতি। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ প্রায় সব দলের শীর্ষ নেতারা যার যার এলাকায় এবার ঈদ উদ্যাপন করেছেন। তারা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন। ঈদের আগে থেকেই অনেকে এলাকায় অবস্থান করে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া এবং এলাকায় ত্রাণ, উপহার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ছাড়া যারা রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে চাইছেন তারাও মাঠে তৎপরতা শুরু করেছেন। ঈদের সময়ে এমন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও জনসংযোগে নেমেছেন।
এবার ভিন্ন এক পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করেছেন দেশের মানুষ। রাজধানীতেও ঈদের আনন্দে ছিল ভিন্নতা। এবার রাজধানীতে দুটি বড় ঈদ জামায়াত হয়েছে। একটি জাতীয় ঈদগাহে অন্যটি পুরাতন বাণিজ্যমেলা মাঠে। ঢাকা উত্তর সিটির আয়োজনে এই ঈদ জামাত শেষে ঈদের আনন্দ মিছিলও বের করা হয়। সেখানে দুইদিনের ঈদের আনন্দমেলার আয়োজনও ছিল। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘদিন পর এই ঈদ জামাতে সরকার প্রধান উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আজকের পত্রিকা প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘সীমানা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি’
ইতিমধ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণের আবেদন পড়েছে ৪০০টি।
বেশির ভাগ আবেদন ২০০১ সালের সীমায় ফেরানোর জন্য।
আইন সংশোধন না হওয়ায় কাজ শুরু হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম প্রায় শেষ। অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করতে আগস্টের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে চায় কমিশন। আরও কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন। তবে আইন সংশোধন না হওয়ায় ইসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুরু করতে পারছে না। এ জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কিছুদিন আগেই বলেছেন, সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য তাঁদের কাছে অনেক আবেদন আসছে। তিনি তখন বলেন, আইন সংশোধন না করলে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা যাবে না।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য ইসিতে আবেদন আসতে শুরু করে। বেশির ভাগ আবেদন করা হয়েছে ২০০১ সালের সীমায় ফেরানোর জন্য। কারণ, ওই বছর কমবেশি ১৫০ আসনের সীমানা কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। আসন বিলুপ্তির ঘটনাও ঘটেছে তখন। ঢাকা-১ আসন থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন (ঢাকা-১ ও ২) পুনরুদ্ধার কমিটির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনেও দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন ছিল।
কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে ‘সুবিধা দিতে’ আসন দুটিকে এক করে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দোহার উপজেলা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ আসন করা হয়। এতে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আসন পুনরুদ্ধার কমিটির আবেদনে আগের মতো দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন করার দাবি জানানো হয়।
যুগান্তর প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ঈদের মাঠে ভোটের হাওয়া’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের মাঠে বইছে ভোটের হাওয়া। এবার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। এতে ঈদের পাশাপাশি ভোটের আমেজও সৃষ্টি হয়েছে। এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রত্যেকেই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের কাছে সহযোগিতা চাইছেন। ঈদ পুনর্মিলনী, মতবিনিময় সভা এবং নানা ধরনের সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা কৌশলে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। এতে ঈদকেন্দ্রিক ভোটের রাজনীতি জমে উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া গেলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মুক্ত পরিবেশে সাধারণ মানুষসহ কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটে গেছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে এলাকায় ব্যাপক প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ দাবির পাশাপাশি ভোটের পক্ষে গণসংযোগে নামাটাই বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য। দলের সিংহভাগ নেতাই ঈদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।
সেই সঙ্গে নির্যাতিত ও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এলাকায় গেছেন। লম্বা ছুটি কাজে লাগিয়ে কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে চাচ্ছে দলটি। বসে নেই তরুণদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতারাও। দলটির অধিকাংশ নেতা এবার নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। এছাড়া তিনটি দলের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়েছেন।
সমকাল প্রধান শিরোনাম করেছে, ঈদেও নিষ্ক্রিয় সেই সব ‘কিংস পার্টি’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে 'কিংস পার্টি' হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিষ্ক্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এসব দলের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। কিছু দল বক্তৃতা এবং সীমিত কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ‘কিংস পার্টি’গুলোর মধ্যে তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) অন্যতম।
এসব দল ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে নিবন্ধন পেয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আসন সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। তবে আওয়ামী লীগ কোনো আসন ছাড় দেয়নি।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই দলগুলোর নেতারা সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যদিও তারা কখনোই আওয়ামী লীগের ‘সহযোগী’ হিসেবে কাজ করেননি বলে দাবি করেছেন। এছাড়া তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও বিএসপির নেতারা তাদের দলীয় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয়। তারা জানান, পরিস্থিতি বুঝে দলকে পুনরায় সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেবেন এবং নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এমবি