
প্রথম আলো প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজারটিতে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকেরা। বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সূচকের পতন ঘটেছে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজারে। সোনার দামেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মোদ্দাকথা, ট্রাম্পের এই পাল্টা শুল্ক বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গতি–প্রকৃতি অনেকটাই বদলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে। চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিলেন।
সমকাল প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘মার্কিন শুল্কে রপ্তানি খাতে উদ্বেগ’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন দেশ একে বাণিজ্যযুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিল, তখন ৩৭ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘটনা ঘটল। আগে ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ তার প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছে। কারণ, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যেসব কারখানা বছরের পর বছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই রপ্তানি করে থাকে, তারা বড় সংকটের আশঙ্কা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র তার পণ্য আমদানির উৎস দেশগুলোর বেশির ভাগের ওপর নতুন করে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এ হার এত দিন পর্যন্ত আরোপিত শুল্কহারের অতিরিক্ত বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে সেগুলোর ওপর ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয় বলে দাবি দেশটির। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যে প্রক্রিয়ায় এই হিসাব দাঁড় করিয়েছে, তা নিয়েও বিশ্বজুড়ে চলছে আলোচনা। প্রচলিত হিসাবের বাইরে গিয়ে ট্যারিফ নির্ধারণের যে পদ্ধতি প্রকাশ হয়েছে তাতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র একটি দেশের সঙ্গে তার বাণিজ্য ঘটতির পরিমাণকে ওই দেশ থেকে তার মোট আমদানির অঙ্ক দিয়ে ভাগ করেছে। তার পর তাকে ১০০ দিয়ে গুণ করে শতকরা হিসাব দাঁড় করিয়েছে। তার থেকে শতকরা ৫০ ভাগ ছাড়
বাংলাদেশের খবর প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্পের হুমকির বাস্তব রূপ’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় বসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার বাস্তব রূপ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বব্যাপী আমদানি পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। নতুন শুল্কারোপের তালিকায় ভারত চীন পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কয়েকটি দেশের নামও আছে। চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ এবং ইইউর ওপর ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭শতাংশ করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই তালিকায় নেই রাশিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরও কয়েকটি দেশের নাম।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব দেশের ওপর আগে থেকেই বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য খুবই সামান্য। ওই কর্মকর্তা বলেন, 'এসব দেশ আগে থেকেই অতি উচ্চশুল্কের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া দেশগুলোর ওপর আমরা আগেই যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছি, তাতে তাদের সঙ্গে কোনো অর্থপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।'
বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশি সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর অন্যায্যভাবে যে শুল্ক আরোপ করে তার ব্যবধান কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এনডিটিভি বলছে, ট্রাম্পের এই উচ্চ শুল্কনীতি সেসব দেশকে বেশি ধাক্কা দেবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির চেয়ে সেখানে অধিক পরিমাণে রপ্তানি করছে।
কালের কণ্ঠ প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘শুল্কের অস্ত্রে রপ্তানি বিপদে’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এত দিন গড়ে এই হার ছিল ১৫ শতাংশ। নতুন করে এই শুল্ক আরোপের ফলে দেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্কহার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের। তাই দেশটির ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ কমিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশের উচিত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া বা শুল্ক কমিয়ে দেওয়া।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ এবং অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এমন একটি অনিশ্চিত ব্যবস্থায় কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির কী হবে, সেটি নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবজমিন প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ট্রাম্পের বড় জুয়া’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের মতো করে যুক্তরাষ্ট্রকে সাজাতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেটা করতে গিয়ে তিনি নিজের সঙ্গেই সবচেয়ে বড় জুয়া খেলছেন। কয়েক দশক ধরে তিনি এই নীতিতে কাজ করছেন। বিশেষ করে ১৯৮০’র দশক থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনি নিজের মতো করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব ব্যবস্থাকে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মনে করেন মার্কিন অর্থনীতিকে যদি চাঙ্গা করতে চান তাহলে তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শুল্ক। সেই শুল্ক আরোপ করে তিনি বাকি বিশ্বকে কার্যত একপেশে করে ফেলতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি মনে করছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, তিনি এক্ষেত্রে নিজের বিরুদ্ধে নিজেই জুয়া খেলছেন। এটা করতে গিয়ে তিনি নিজের প্রেসিডেন্সিকে বাজি রাখছেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ২টার পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তালিকায় মিত্র দেশ যেমন রয়েছে, তেমনই প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিপক্ষ দেশকেও রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বন্ধু, কনজারভেটিভ রাজনীতিক ও মন্ত্রীদের পরিবেষ্টিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওই দিনকে বর্ণনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছে দীর্ঘদিন ধরে। বিবিসি লিখেছে, অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের দেয়া বক্তৃতার অর্ধেক ছিল উদ্যাপন, বাকি অর্ধেক ছিল আত্মপ্রশংসা। নিয়মিত বিরতিতে চলছিল হাততালি। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় শুল্ক নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নাফটার মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নিয়ে নিজের শুরুর দিকের সমালোচনার কথা স্মরণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানেন যে, নতুন শুল্ক ঘোষণার কারণে আগামী দিনে তাকে ‘বিশ্ববাদী’ আর ‘বিশেষ স্বার্থবাদীদের’ চাপের মুখে পড়তে হবে। তবে তিনি নিজের বিশ্বাসের ওপর আমেরিকানদের ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুগান্তর প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘রপ্তানি খাতের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আমাদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মধ্যরাতে নতুন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নীতির অংশ হিসাবে শুল্ক বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ ডলার মূল্যের একটি টি-শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের শুল্ক (১৫ শতাংশ হারে) গুনতে হতো দেড় ডলার। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপে একই টি-শার্টে ৩ দশমিক ৭ ডলার শুল্ক গুনতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেই টি-শার্টের দাম পড়বে ১৩ দশমিক ৭ ডলার। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতার চাহিদা কমে বাজার সংকুচিত হতে পারে। যার প্রভাবে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
নতুন শুল্ক আরোপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। রোববার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে। তিনি বলেছেন, 'আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।' বৃহস্পতিবার ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অধ্যাপক ড. ইউনূসের বরাত দিয়ে এ কথা জানান। প্রেস সচিব বলেন, আমরা এমন কিছু করব যেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে। এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৬০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই তৈরি পোশাক। একই বাজারে চলতি অর্থবছরে ৬৯৯ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। নতুন শুল্ক আরোপের কারণে রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের শুল্কহার বাংলাদেশের তুলনায় বেশি আরোপ করা হয়েছে। এতে কিছুটা সুবিধা আসতে পারবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদ, রপ্তানিকারক ও বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ উদ্যোগে রপ্তানি খাতের ঝুঁকি বেশি, সুবিধা কম হবে।
নয়া দিগন্ত প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘ভারতে মুসলিম সম্পত্তি সম্পর্কিত বিতর্কিত ওয়াকফ বিল পাস’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে মুসলিমদের সম্পত্তি সম্পর্কিত বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল সম্প্রতি লোকসভায় পাস হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আপত্তি তৈরি হয়েছে। এই বিলটি মুসলিমদের দানকৃত সম্পত্তির পরিচালনার পদ্ধতি পরিবর্তন করবে, যাতে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল ও ওয়াকফ বোর্ডে দুইজন অ-মুসলিম সদস্য থাকতে হবে।
এছাড়া, ওয়াকফ সম্পত্তি ঘোষণা করার ক্ষমতা বর্তমান ওয়াকফ বোর্ডের হাতে ছিল, কিন্তু নতুন বিল অনুযায়ী জেলা প্রশাসক বা সমমানের কর্মকর্তাদের হাতে এই সিদ্ধান্তের ক্ষমতা দেওয়া হবে।
বিরোধীরা এই বিলকে অসাংবিধানিক দাবি করে বলছে, এতে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তারা বিশেষভাবে বিলের মাধ্যমে অ-মুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারের দখলদারি বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে সমালোচনা করেছেন।
কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, এবং অন্যান্য বিরোধী দল বিলের বিরোধিতা করেছে, তাদের দাবি, এই বিল মুসলিমদের অধিকারকে খর্ব করবে এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিল মুসলিমদের স্বার্থে এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে।
এমবি