Logo

বিশেষ সংবাদ

‎গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আরো তীব্র, বিপর্যয়ে শিল্প খাত

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮

‎গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট আরো তীব্র, বিপর্যয়ে শিল্প খাত

‎# লোডশেডিং-গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে

‎# দিন গোনা ছাড়া আর উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

‎# গ্যাস সংকটে গভীর হচ্ছে জ্বালানি ঝুঁকি: সিপিডি

‎# ‘গরিবের টেসলার’ কারণে মধ্যরাতেও রেকর্ড বিদ্যুৎ চাহিদা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

‎# কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ: বিসিআই সভাপতি

‎# চাহিদার তুলনায় ঘাটতি কয়েক হাজার মেগাওয়াট

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, অধিকাংশ অঞ্চলে এখনো তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের চাপ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে ধস নামার পাশাপাশি আবাসিকে চলছে চরম ভোগান্তি।

‎বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান গ্যাস–সংকট নিরসনে সরকারের সীমিত সামর্থ্য ও বর্তমান কাঠামোগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেছেন, এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।

‎সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘এইটুকুই বলতে চাই, উই আর ওয়ার্কিং...এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না বা উইদাউট এফএসআরইউ, আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।’

‎‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‎এদিকে, কোথাও কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

‎বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়। যাতে আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা। এ ছাড়া আপনিই বলেন আমার হাতে আর কী থাকতে পারে।’

‎তিনি বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য তখন পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখা লাগবে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলে, যার প্রভাবে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।

‎গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০২৯ সালকে লক্ষ্য করে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পে গ্যাস–সংকট কমাতে বিকল্প নানা উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় পৌঁছে দিতে একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছে সরকার।

‎মন্ত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই রাত ১২টার পর অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া হয়। এর ফলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের সময় (পিক আওয়ার) বদলে রাত ১২টায় গিয়ে ঠেকছে এবং মোট চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। তবে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় সরকারি কর্মচারীরা হামলার শিকার হচ্ছেন।

তেল নিয়ে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোয় সংকট আরও বাড়ে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে যাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তেল আমদানি করতে পারে, সে বিষয়ে একটি নতুন নীতি করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং এই খাতে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (করছাড়) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

দেশে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে কারখানাগুলোতে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ।

‎আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এই সংকটের ফলে শিল্প খাত গভীর বিপর্যয়ে পড়েছে। সংকট বড় করে প্রচার হওয়ায় তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। উচ্চ হারে বিল দিয়েও সময়মতো জ্বালানি না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কায় আছেন উল্লেখ করে বিসিআই সভাপতি ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাঁচাতে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি সুরক্ষা বা ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দেওয়ার দাবি জানান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সংস্থার সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। তিনি সিপিডির পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট কাটাতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির সুপারিশ তুলে ধরেন।

‎ফখরুদ্দিন আল কবির বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট এখন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মূলত অতিরিক্ত আমদানি–নির্ভরতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৮৪ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে একদিকে আমদানির ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রারও অপচয় হচ্ছে।

‎পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের সুপারিশ করে সিপিডি। একই সঙ্গে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল রিজার্ভ বা জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া আমদানিকৃত জ্বালানির মূল্য ওঠানামা সামলাতে এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সুনির্দিষ্ট নীতির আহ্বান জানানো হয়।

‎বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট কাটাতে কাস্টমস ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত দূর করতে পোর্টের খালাসপ্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। স্টোরেজ প্রযুক্তিতে শুল্কছাড় দেওয়া এবং ১৩ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প সোলারে রূপান্তর করলে দ্রুত সাশ্রয় সম্ভব।

দেশের তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের জন্য সরকারের অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিশ্রুতি, সঠিক মূল্যনীতির অভাব ও সিস্টেম লসকে দায়ী করেছেন জ্বালানি–বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বছরের পর বছর তা জমিয়ে রেখে আজ এ পর্যায়ে আনা হয়েছে। কেবল সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা না করে চাহিদা নিয়ন্ত্রণেও জোর দিতে হবে।

‎ইজাজ হোসেন আরও উল্লেখ করেন, সাশ্রয়ী মূল্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও আবাসিকে ভর্তুকি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করার কারণে সরকার এখন বড় অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে। কোনো সরকারের পক্ষেই হঠাৎ এ ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। তাই বাস্তবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ও চুরি বন্ধের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি শিল্প খাতকেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

‎সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর শিল্পে জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের স্পষ্ট অগ্রাধিকারের দাবি জানান।

‎সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় আমাদের মানসম্মত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ জরুরি।’

তিনি লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ ও সিস্টেম লস কমানোর তাগিদ দেন। এ ছাড়া সোলার স্টোরেজে করছাড় এবং শিল্প খাতকে জ্বালানি বণ্টনে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন।

‎আরও বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা প্রমুখ।

‎চাহিদার তুলনায় ঘাটতি কয়েক হাজার মেগাওয়াট: দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। সংখ্যার হিসাবে তাদের গ্রাহক প্রায় ৪ কোটি। জাতীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব সমিতির আওতাধীন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

‎তবে সমিতিগুলো নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বরাদ্দ অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ করে।

‎সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে তারা পাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কোনো কোনো এলাকায় ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

‎দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কোথাও কোথাও সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রের ওপর। এ পরিস্থিতিতে প্রতিটি সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎গ্যাস সংকটও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ: চলমান সংকটের পেছনে গ্যাসের ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

‎পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে নতুন কৌশলে কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি। তিনি আশা করছিলেন, বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

এসময় ‎তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে গ্যাসের কার্গো খালাসে সমস্যা হচ্ছে। আর এক্সিলারেট টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে। সেটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে গেলে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হবে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ।

‎গ্রিডে কয়েক হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি: জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৮টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৪৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ভোর ৪টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ১৮ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। রাত ১টার দিকে ঘাটতি আরও বেড়ে লোডশেডিং দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে। সন্ধ্যা ৬টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট। ওই সময়ে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

‎রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ: বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময়ও কমিয়ে দিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান, মার্কেট ও শপিংমলে কোনো ধরনের আলোকসজ্জাও করা যাবে না।

‎এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। নতুন নির্দেশনা বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে।

‎বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে একদিকে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়েছে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


‎বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন