ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা পরিষ্কার করলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক জটিলতা থাকলেও মাঠের যোগ্যতায় আসা ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার কোনো ভাবনা ফিফার নেই।
সম্প্রতি মেক্সিকান একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে
দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, আমরা চাই ইরান খেলুক এবং ইরান বিশ্বকাপ খেলবে। এখানে বি, সি বা ডি বলে কোনো
বিকল্প পরিকল্পনা নেই— আমাদের কেবল একটিই পরিকল্পনা আছে, আর তা হলো ‘প্ল্যান এ’। ইরান একটি ফুটবল-পাগল দেশ
এবং তারা মাঠের লড়াইয়ে সেরাদের কাতারে থেকেই এই আসরে জায়গা করে নিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রে
ইরানের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের
বিপক্ষে এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিপুল সংখ্যক ইরানি
প্রবাসীর উপস্থিতির কারণে মাঠের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা
করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব
দিলেও ফিফা বর্তমানে ভেন্যু বদলের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করেছেন
যে, ইরান যেন ‘সর্বোত্তম ও শান্তিপূর্ণ
পরিবেশের’ মধ্যে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ফিফা।
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈচিত্র্যময় মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে।
কখনও তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বহীন বলছেন, আবার কখনও ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ
দিচ্ছেন। এ নিয়ে ফিফা সভাপতির সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা হলেও ফিফা ফুটবলের স্বার্থকেই
প্রাধান্য দিচ্ছে। ইনফান্তিনো স্বীকার করেছেন যে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ‘অত্যন্ত জটিল’, তবে ফুটবল যেন রাজনীতির
ঊর্ধ্বে থাকে সেই চেষ্টাই তারা করছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও মাঠের প্রস্তুতি
থামিয়ে রাখেনি ইরান। অ্যারিজোনার টুসানে তাদের বেস ক্যাম্প নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমবারের
মতো ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’-তে ইরান লড়বে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

