ইংল্যান্ডের উইমেন’স সুপার লিগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগ হিসেবে পরিচিত হলেও, ঘরোয়া তরুণ প্রতিভাদের বিকাশে এটি রীতিমতো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ লিগের তুলনায় ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোতে অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ বা ‘মিনিট’ পাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কম।
চলতি মৌসুমে ডব্লিউএসএলে ২০ বছরের কম বয়সী
মাত্র ১১ জন ইংলিশ খেলোয়াড় মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। পুরো মৌসুমে তাদের সম্মিলিত খেলার
সময় মাত্র ১,৮৯৭ মিনিট। এর বিপরীতে স্পেনের ‘লিগা এফ’-এ তরুণদের খেলার সময় ১৭,৮০৬ মিনিট,
জার্মানিতে ১৩,৬৫৭ মিনিট এবং ফ্রান্সে ১১,০৩০ মিনিট। এমনকি তুলনামূলক কম উন্নত ইতালিয়ান
লিগেও এই সংখ্যা ৬,৩২৩ মিনিট। চেলসির প্রধান কোচ সোনিয়া বোম্পাস্তর এই পরিস্থিতিকে
‘সংকট’ হিসেবে
অভিহিত করেছেন। তার মতে, চেলসির মতো শীর্ষ ক্লাবের একাডেমিতেও বর্তমানে এমন ফুটবলারের
অভাব রয়েছে যারা সরাসরি মূল দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউএসএলে অতিরিক্ত
বিনিয়োগ এবং লিগের উচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তরুণদের পথ রুদ্ধ করছে। ম্যানচেস্টার সিটি,
আর্সেনাল বা চেলসির মতো দলগুলো প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়ে, যা স্প্যানিশ বা ফরাসি লিগের
তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। এই তীব্র চাপের মুখে কোচরা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরই বেশি ভরসা
করছেন, ফলে একাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলাররা সাইডবেঞ্চেই আটকে থাকছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের
বিকাশের জন্য অন্য ক্লাবে ধারে (লোন) পাঠানোর প্রথাটিও এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আগামী
মৌসুমে ডব্লিউএসএল ১৪ দলে উন্নীত হতে চলায় দ্বিতীয় স্তরের দলগুলোর মধ্যেও প্রমোশনের
তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। ফলে তারাও ঝুঁকি নিয়ে তরুণদের খেলাতে চাইছে না। খেলার সুযোগ
না পেয়ে অনেক প্রতিশ্রুতিশীল ইংলিশ খেলোয়াড় এখন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। আর্সেনালের ভিভিয়ান
লিয়া এবং সিসিলি ওয়েলেসলি-স্মিথ সুইডেনে চলে গেছেন, আবার এভারটনের ইসি হবসন যোগ দিয়েছেন
নরওয়ের ক্লাবে। এমনকি ইংল্যান্ড জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ১৭ বছর বয়সী এরিকা পারকিনসনও বর্তমানে
পর্তুগিজ লিগে নিয়মিত খেলছেন।
সোনিয়া বোম্পাস্তর ফ্রান্স ও জার্মানির
উদাহরণ টেনে ‘বি’ টিম বা রিজার্ভ
টিম প্রথা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে বড় ক্লাবগুলোর রিজার্ভ দল দ্বিতীয় বা তৃতীয়
স্তরে বয়স্ক খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলে নিজেদের তৈরি করার সুযোগ পায়। যদিও ইংল্যান্ডে
পিরামিডের নিচের দিকের ক্লাবগুলোর আপত্তির কারণে এই প্রস্তাবটি এখনো ঝুলে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডের ফুটবলের
ভবিষ্যৎ রক্ষায় লোন সিস্টেম সংস্কার এবং তরুণদের খেলার নিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করা এখন
সময়ের দাবি। অন্যথায়, ঘরোয়া লিগ গ্ল্যামারাস হলেও জাতীয় দলের জন্য পাইপলাইন তৈরির পথটি
চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

