সতীর্থদের আবেগঘন শুভেচ্ছা
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪১
অবশেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক ঝোড়ো অধ্যায়ের সমাপ্ত হলো। দীর্ঘ দেড় দশকের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন গতিদানব রুবেল হোসেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই দুই ফরম্যাট থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ২০২২ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফেরার যে আশা তিনি জিইয়ে রেখেছিলেন, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটল।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে রুবেল লিখেছেন, “আমি পেসার রুবেল
হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-টোয়েন্টি। জাতীয়
দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা
করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।” তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে বিদায় বললেও
ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা
রুবেলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি এসেছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের
বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে
কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। রুবেলের সেই হাত তুলে বিশেষ উদ্যাপন আজও প্রতিটি
বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে।
টেস্টে ২৭ ম্যাচে খেলে নিয়েছেন ৩৬ উইকেট
(অভিষেক ২০০৯, শেষ টেস্ট ২০২০), ওয়ানডেতে ১০৪ ম্যাচে উইকেট সংখ্যা ১২৯ (অভিষেক ২০০৯,
শেষ ম্যাচ ২০২১) আর টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচে উইকেট ২৮ (সর্বশেষ ম্যাচ ২০২১)।
রুবেলের অবসরের সংবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তার সতীর্থ ও বড় ভাইয়েরা।
সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা রুবেলের
সাথে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “অ্যাডিলেডে তোর
সেই দুটি ডেলিভারি যেমন গোটা দেশকে ভাসিয়েছিল উচ্ছ্বাসের জোয়ারে, তেমনি তোর হাত ধরে
এসেছে দেশের ক্রিকেটের অনেক স্মরণীয় সাফল্য। মাঠের ভেতরে ও বাইরে কত স্মৃতি! আশা করি,
তোর জীবনের নতুন অধ্যায় আরও সুন্দর হবে।”
বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল লিখেছেন,
“বাংলাদেশ ক্রিকেটকে
তুমি যা দিয়েছ, তার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ। একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের
জন্য অভিনন্দন।”
ছোট্ট বার্তায় মুশফিক বলেন, “অ্যাডিলেডের সেই
দিনটি সকল বাংলাদেশির স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।” রুবেলের আগ্রাসন
ও গতির প্রশংসা করে মুমিনুল বলেন, “রুবেল ভাই ছিলেন
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিং অ্যাটিটিউডের প্রতীক।” বিজয় তার পোস্টে
রুবেলের বিশেষ উদ্যাপন মিস করার কথা জানান। লিটনও সংক্ষেপে শুভকামনা জানান এই পেসারকে।
রুবেল হোসেন কেবল একজন বোলার ছিলেন না,
তিনি ছিলেন ভয়ডরহীন গতির প্রতীক। তার বিখ্যাত ‘স্লিংলি’ অ্যাকশন আর আগ্রাসী
মেজাজ প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য সবসময়ই ছিল চিন্তার কারণ। পরিসংখ্যানে তিনি হয়তো
সবার শীর্ষে নন, কিন্তু বড় ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতায় তিনি ছিলেন অনন্য। ঘরোয়া
ক্রিকেটে আরও কিছুদিন হয়তো বল হাতে রুবেলকে দেখা যাবে, কিন্তু লাল-সবুজের জার্সিতে
তার সেই গতির ঝড় আর দেখা যাবে না।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

